০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি: ভয়ঙ্কর সেই রাত

রাজধানী পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

জীবন্ত মানুষ পুড়ে নিথর দেহ কিংবা বিস্ফোরণে দেহ উড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়েছিল হাত-পা। ভবন ও যানবাহন পুড়ে হয়েছিল কঙ্কাল সার। বাতাসের সঙ্গে উড়ছিল ভয়ঙ্কর আগুনের লেলিহান শিখা। ‍পুরো চুরিহাট্টা পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। যাতে প্রাণ হারান ৭১ জন। চকবাজারের বাতাসে যেন আজও ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের আহাজারি।

যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত: সেদিন রাত সাড়ে ১০টা। পুরান ঢাকার চকবাজারে ব্যস্ত মানুষ। কেউ দূর দূরান্ত থেকে কেমিক্যাল উপকরণ নিতে এসেছেন এই পাইকারি বাজারে। আবার স্থানীয়দের কেউ বা কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। তখন হঠাৎ করেই চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের এলাকা।

তখনও আশপাশের লোকজন জানে না কী ঘটেছে, আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন সবাই। কেউ দোকানের সাটার বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ভবনেও।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের বহু ইউনিট দ্রুত ছুটে এলেও সড়ক ছোট থাকায় আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয়। রাতভর আগুন নেভাতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস। ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এরইমধ্যে হারিয়ে যায় বহু তাজা প্রাণ।

পরদিন একুশে ফেব্রুয়ারির চুড়িহাট্টা যেন হয়ে ওঠে এক মৃত্যুপুরীতে। এতো মানুষের প্রাণহানিতে একুশে ফেব্রুয়ারি শোকের ছায়ায় ভাসে পুরো দেশে। সেই রাতের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা এখনো স্থানীয় বাসিন্দাদের তাড়া করে ফেরে।

এদিকে, ভয়াবহ ওই অগ্নিকান্ডের পর স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস পুরান ঢাকা থেকে সব কেমিক্যাল গুদাম ও দোকান সরানোর ঘোষণা দিয়েছিল। হুমকি দিয়েছিলেন মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও। তবে ঘটনার এক বছরেও তেমন বদলায়নি পুরান ঢাকার চিত্র। গুটিকয়েক কেমিক্যাল গুদাম সরানো ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখনো অধিকাংশ গুদাম আগের মতোই আছে, চলছে ব্যবসাও।

চুড়িহাট্টার চেয়ে ভয়ানক ঘটনা ঘটেছিল পুরান ঢাকার নিমতলীতে ২০১০ সালের ৩ জুন, যাতে প্রাণ হারিয়েছিল ১২৭ জন। প্রায় ১০ বছর হলেও সে এলাকায়ও বন্ধ হয়নি কেমিক্যাল ব্যবসা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি: ভয়ঙ্কর সেই রাত

প্রকাশিত : ১১:৩৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

রাজধানী পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

জীবন্ত মানুষ পুড়ে নিথর দেহ কিংবা বিস্ফোরণে দেহ উড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়েছিল হাত-পা। ভবন ও যানবাহন পুড়ে হয়েছিল কঙ্কাল সার। বাতাসের সঙ্গে উড়ছিল ভয়ঙ্কর আগুনের লেলিহান শিখা। ‍পুরো চুরিহাট্টা পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। যাতে প্রাণ হারান ৭১ জন। চকবাজারের বাতাসে যেন আজও ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের আহাজারি।

যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত: সেদিন রাত সাড়ে ১০টা। পুরান ঢাকার চকবাজারে ব্যস্ত মানুষ। কেউ দূর দূরান্ত থেকে কেমিক্যাল উপকরণ নিতে এসেছেন এই পাইকারি বাজারে। আবার স্থানীয়দের কেউ বা কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। তখন হঠাৎ করেই চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের এলাকা।

তখনও আশপাশের লোকজন জানে না কী ঘটেছে, আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন সবাই। কেউ দোকানের সাটার বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ভবনেও।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের বহু ইউনিট দ্রুত ছুটে এলেও সড়ক ছোট থাকায় আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয়। রাতভর আগুন নেভাতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস। ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এরইমধ্যে হারিয়ে যায় বহু তাজা প্রাণ।

পরদিন একুশে ফেব্রুয়ারির চুড়িহাট্টা যেন হয়ে ওঠে এক মৃত্যুপুরীতে। এতো মানুষের প্রাণহানিতে একুশে ফেব্রুয়ারি শোকের ছায়ায় ভাসে পুরো দেশে। সেই রাতের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা এখনো স্থানীয় বাসিন্দাদের তাড়া করে ফেরে।

এদিকে, ভয়াবহ ওই অগ্নিকান্ডের পর স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস পুরান ঢাকা থেকে সব কেমিক্যাল গুদাম ও দোকান সরানোর ঘোষণা দিয়েছিল। হুমকি দিয়েছিলেন মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও। তবে ঘটনার এক বছরেও তেমন বদলায়নি পুরান ঢাকার চিত্র। গুটিকয়েক কেমিক্যাল গুদাম সরানো ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখনো অধিকাংশ গুদাম আগের মতোই আছে, চলছে ব্যবসাও।

চুড়িহাট্টার চেয়ে ভয়ানক ঘটনা ঘটেছিল পুরান ঢাকার নিমতলীতে ২০১০ সালের ৩ জুন, যাতে প্রাণ হারিয়েছিল ১২৭ জন। প্রায় ১০ বছর হলেও সে এলাকায়ও বন্ধ হয়নি কেমিক্যাল ব্যবসা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ