০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইনজামামের চোখে ‘পাকিস্তানের সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার’কে?

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে জন্মানো সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার কে?

ইনজামাম-উল-হক? মোহাম্মদ ইউসুফ? ওয়াসিম আকরাম না কি ওয়াকার ইউনিস? আসতে পারে জাভেদ মিঁয়াদাদ, ইমরান খান, ইউনিস খানদের নামও। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ইনজামামের নামই সম্ভবত বেশি উচ্চারিত হবে। কিন্তু স্বয়ং ইনজামামের চোখে পাকিস্তানের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড় অন্য কেউ। এমন কেউ—দলের বাকি খেলোয়াড়েরা যাঁর মতো ব্যাট করতে চাইতেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই খেলোয়াড়কে নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধান নির্বাচক। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি নাকি ভীষণ রসিকও ছিলেন। নানা রকম মজার কাণ্ডে চাঙা রাখতেন সতীর্থদের। আবার এই খেলোয়াড়ই ব্যাটিং করতে নামার আগে থাকতেন ভীষণ স্নায়ুচাপে ভুগতেন। অবশ্য মাঠে নামার পর চাপটা থাকত বোলারদের ওপর। ইউটিউবে সাঈদ আনোয়ারকে নিয়ে এসব কথাই বলেছেন ইনজামাম। হ্যাঁ, সাবেক ওপেনার সাঈদ আনোয়ারই ইনজামামের চোখে ‘পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার।’

২৪৭ ওয়ানডেতে ৩৯.২১ গড়ে ৮৮২৪ রান করেছেন সাঈদ আনোয়ার। ২০ সেঞ্চুরি ও ৪৩ ফিফটি। নব্বই দশকে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির দৌড়ে প্রতিযোগিতা চলেছে শচীন টেন্ডুলকার ও সাঈদ আনোয়ারের মধ্যে। তবে পাকিস্তানের সাবেক এ ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং চোখ জুড়িয়েছে সবার। দুর্দান্ত টাইমিং আর কবজির মোচড়ে অবিশ্বাস্য সব শট খেলতেন ২০০৩ সালে অবসরে যাওয়া এ বাঁহাতি।

ইনজামাম বলেন, ‘সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটিংয়ে এমন কিছু ছিল যে, আমরা তাঁর মতো খেলতে চাইতাম। রাতে আমরা ঘুমের ঘোরে যেসব শট খেলার স্বপ্ন দেখতাম, সকালে গিয়ে তিনি ওগুলো খেলত। লোকে বলে, পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আমার অনেক প্রতিভা ছিল কিন্তু সেটার সদ্ব্যবহার আমি করতে পারিনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সাঈদ আনোয়ারের যে প্রতিভা ছিল তা আর কারও ছিল না। তাঁর ব্যাটিংয়ের সময় মনে হতো ক্রিকেট খেলাটা অনেক সহজ। পাকিস্তানে তাঁর মতো আর কোনো কবজির খেলোয়াড় ছিল বলে মনে করি না। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার সাঈদ ভাই।’

সাঈদ ‘কোচিংয়ে বিশ্বাস করতেন না’—জানিয়েছেন ইনজামাম। তাঁর মজা করা নিয়েও নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ এ রান সংগ্রাহক, ‘ওয়াসিম, ওয়াকার, জাভেদ ভাই ছাড়াও আরও অনেক গ্রেটের সঙ্গে খেলেছি। সবাই বেশ রসিক ছিলেন। কিন্তু সাঈদ আনোয়ারের মতো রসিক কেউ ছিলেন না। এখন তিনি দাঁড়ি রেখেছেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ। সৃষ্টিকর্তা তাঁর মঙ্গল করুন। তবে তখন ড্রেসিংরুমে গলা নকল করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বহু মজা করেছেন।’

একটি ঘটনাও ভাগ করে নিয়েছেন ইনজামাম, ‘ফয়সালাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে আমরা টেস্ট হেরেছি। তখন তিনি অধিনায়ক। হারুন রশীদ ম্যানেজার। তখন মুঠোফোন কেবল এসেছে, যা হারুন ভাই ও সাঈদ আনোয়ারের ছিল। তখন কে ফোন দিয়েছে তা দেখা যেত না। আমাদের চেয়ারম্যান ছিলেন জুলফিকার বুখারি। আমি সাঈদ আনোয়ারের পাশে বসে ছিলাম। তিনি হারুন রশীদকে জুলফিকার ভাইয়ের কণ্ঠ নকল করে ফোন করলেন। বললেন “সিনিয়র খেলোয়াড়েরা কী করছে? ওদের দল থেকে বের করে দাও।” হারুন ভাই বললেন, আমিও ঠিক তা-ই ভাবছি। সাঈদ ভাই ফোন রেখে হারুন ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, চেয়ারম্যানকে কি বলেছেন? হারুন ভাই কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললেন, একটু রসিকতা করেছি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ আরিফ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

ইনজামামের চোখে ‘পাকিস্তানের সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার’কে?

প্রকাশিত : ১২:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০

পাকিস্তানে জন্মানো সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার কে?

ইনজামাম-উল-হক? মোহাম্মদ ইউসুফ? ওয়াসিম আকরাম না কি ওয়াকার ইউনিস? আসতে পারে জাভেদ মিঁয়াদাদ, ইমরান খান, ইউনিস খানদের নামও। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ইনজামামের নামই সম্ভবত বেশি উচ্চারিত হবে। কিন্তু স্বয়ং ইনজামামের চোখে পাকিস্তানের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড় অন্য কেউ। এমন কেউ—দলের বাকি খেলোয়াড়েরা যাঁর মতো ব্যাট করতে চাইতেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই খেলোয়াড়কে নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধান নির্বাচক। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি নাকি ভীষণ রসিকও ছিলেন। নানা রকম মজার কাণ্ডে চাঙা রাখতেন সতীর্থদের। আবার এই খেলোয়াড়ই ব্যাটিং করতে নামার আগে থাকতেন ভীষণ স্নায়ুচাপে ভুগতেন। অবশ্য মাঠে নামার পর চাপটা থাকত বোলারদের ওপর। ইউটিউবে সাঈদ আনোয়ারকে নিয়ে এসব কথাই বলেছেন ইনজামাম। হ্যাঁ, সাবেক ওপেনার সাঈদ আনোয়ারই ইনজামামের চোখে ‘পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার।’

২৪৭ ওয়ানডেতে ৩৯.২১ গড়ে ৮৮২৪ রান করেছেন সাঈদ আনোয়ার। ২০ সেঞ্চুরি ও ৪৩ ফিফটি। নব্বই দশকে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির দৌড়ে প্রতিযোগিতা চলেছে শচীন টেন্ডুলকার ও সাঈদ আনোয়ারের মধ্যে। তবে পাকিস্তানের সাবেক এ ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং চোখ জুড়িয়েছে সবার। দুর্দান্ত টাইমিং আর কবজির মোচড়ে অবিশ্বাস্য সব শট খেলতেন ২০০৩ সালে অবসরে যাওয়া এ বাঁহাতি।

ইনজামাম বলেন, ‘সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটিংয়ে এমন কিছু ছিল যে, আমরা তাঁর মতো খেলতে চাইতাম। রাতে আমরা ঘুমের ঘোরে যেসব শট খেলার স্বপ্ন দেখতাম, সকালে গিয়ে তিনি ওগুলো খেলত। লোকে বলে, পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আমার অনেক প্রতিভা ছিল কিন্তু সেটার সদ্ব্যবহার আমি করতে পারিনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সাঈদ আনোয়ারের যে প্রতিভা ছিল তা আর কারও ছিল না। তাঁর ব্যাটিংয়ের সময় মনে হতো ক্রিকেট খেলাটা অনেক সহজ। পাকিস্তানে তাঁর মতো আর কোনো কবজির খেলোয়াড় ছিল বলে মনে করি না। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার সাঈদ ভাই।’

সাঈদ ‘কোচিংয়ে বিশ্বাস করতেন না’—জানিয়েছেন ইনজামাম। তাঁর মজা করা নিয়েও নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ এ রান সংগ্রাহক, ‘ওয়াসিম, ওয়াকার, জাভেদ ভাই ছাড়াও আরও অনেক গ্রেটের সঙ্গে খেলেছি। সবাই বেশ রসিক ছিলেন। কিন্তু সাঈদ আনোয়ারের মতো রসিক কেউ ছিলেন না। এখন তিনি দাঁড়ি রেখেছেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ। সৃষ্টিকর্তা তাঁর মঙ্গল করুন। তবে তখন ড্রেসিংরুমে গলা নকল করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বহু মজা করেছেন।’

একটি ঘটনাও ভাগ করে নিয়েছেন ইনজামাম, ‘ফয়সালাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে আমরা টেস্ট হেরেছি। তখন তিনি অধিনায়ক। হারুন রশীদ ম্যানেজার। তখন মুঠোফোন কেবল এসেছে, যা হারুন ভাই ও সাঈদ আনোয়ারের ছিল। তখন কে ফোন দিয়েছে তা দেখা যেত না। আমাদের চেয়ারম্যান ছিলেন জুলফিকার বুখারি। আমি সাঈদ আনোয়ারের পাশে বসে ছিলাম। তিনি হারুন রশীদকে জুলফিকার ভাইয়ের কণ্ঠ নকল করে ফোন করলেন। বললেন “সিনিয়র খেলোয়াড়েরা কী করছে? ওদের দল থেকে বের করে দাও।” হারুন ভাই বললেন, আমিও ঠিক তা-ই ভাবছি। সাঈদ ভাই ফোন রেখে হারুন ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, চেয়ারম্যানকে কি বলেছেন? হারুন ভাই কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললেন, একটু রসিকতা করেছি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ আরিফ