১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরে সরকারি নির্দেশ মানছেন না সিগারেট কোম্পানীগুলো

দিনাজপুরে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জাপান টোবাকো কোম্পানী সহ দেদারসে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৯ মার্চ দিনাজপুর শহরের হাউজিং মোড়স্থ জাপান টোবাকো কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার তার নিযুক্ত সেলস্ ম্যানদের তামাকজাত পণ্য বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট সহ ম্যাচ বাজারজাত করণের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছে।

নভেল করনা ভাইরাসে আতঙ্কে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে মহামারী আকার বিস্তারের আশঙ্কায় সরকার প্রতিরোধ কল্পে গত ২৬ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ঔষধের দোকান, ডাক্তার চেম্বার, হাসপাতালসহ জরুরী বিভাগ খোলা থাকবে। কিন্তু বাকী সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন বন্ধের পাশাপাশি জনসমাগম থেকে মুক্ত রাখতে পরিবার নিয়ে বাসায় অবস্থানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে জাপান টোবাকো কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার কায়সার হোসেন টিও মিজানুর রহমান ও অফিস স্টাফ নাফিস একজোট হয়ে সেলস্ ম্যানদের ডিপোতে ডেকে এনে চাকুরীর ভয় দেখিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের হাতে তামাকজাত পণ্য সিগারেট, ম্যাচ ব্যাগে করে বিভিন্ন হাট বাজারে বাজারজাত ও টাকা কালেকশনের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে দিনাজপুর জাতীয় পত্রিকার ২ জন সাংবাদিক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কল্পে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন্, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জসহ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পরিচালককে মুঠো ফোনে অবগত করা হয়। অবশেষে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোজাফফর হোসেন বিপিএম পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষনিকভাবে এসআই জলিলের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পিকআপ ভ্যানে এসে ঘটনার সত্যতা পান। এহেন অবস্থার প্রেক্ষাপটে অফিসার ইনচার্জ এর পরামর্শক্রমে তাদেরকে পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।

কিন্তু এরিয়া ম্যানেজার চিত্ত এবং অফিসার স্টাফ নাদিম এরা জোটবদ্ধ। পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের বলেন, সিগারেট নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে পরার কারণে তারা সেলস্ম্যানদের দিয়ে বীর দর্পে ব্যবসা চালাতে অসুবিধা বোধ করছে না মর্মে কিছু কাগজপত্র প্রদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে মুঠো ফোনে সিভিল সার্জনকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তামাক জাত সিগারেট নিত্যপ্রয়োজনীয় দব্যাদির মধ্যে পড়ে না। ঐদিনেই সাংবাদিক পুলিশ সহ এলাকার জন্্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরে এরিয়া ম্যানেজার সহ ৩ জন কর্মকর্তা সুকৌশলে সেলসম্যান জরুরীভাবে ডেকে গোপন বৈঠক করে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেলস ম্যানদের তিনটি গ্র“পে বিভক্ত করে ৩০ মার্চ রবিবার সকাল ৭.৩০ মিনিট ৮.৩০ মিনিটের মধ্যে সকল কর্মচারী নিজ দায়িত্বে এসে মালামাল অফিস ত্যাগ করে নির্ধারিত কর্মস্থলে চলে যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যেখানে লোকজন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে সেখানে কিভাবে তারা বীর দর্পে ব্যবসা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে জেলার সুশীল সমাজ।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দিনাজপুরে সরকারি নির্দেশ মানছেন না সিগারেট কোম্পানীগুলো

প্রকাশিত : ০২:২২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০

দিনাজপুরে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জাপান টোবাকো কোম্পানী সহ দেদারসে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৯ মার্চ দিনাজপুর শহরের হাউজিং মোড়স্থ জাপান টোবাকো কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার তার নিযুক্ত সেলস্ ম্যানদের তামাকজাত পণ্য বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট সহ ম্যাচ বাজারজাত করণের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছে।

নভেল করনা ভাইরাসে আতঙ্কে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে মহামারী আকার বিস্তারের আশঙ্কায় সরকার প্রতিরোধ কল্পে গত ২৬ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ঔষধের দোকান, ডাক্তার চেম্বার, হাসপাতালসহ জরুরী বিভাগ খোলা থাকবে। কিন্তু বাকী সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন বন্ধের পাশাপাশি জনসমাগম থেকে মুক্ত রাখতে পরিবার নিয়ে বাসায় অবস্থানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে জাপান টোবাকো কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার কায়সার হোসেন টিও মিজানুর রহমান ও অফিস স্টাফ নাফিস একজোট হয়ে সেলস্ ম্যানদের ডিপোতে ডেকে এনে চাকুরীর ভয় দেখিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের হাতে তামাকজাত পণ্য সিগারেট, ম্যাচ ব্যাগে করে বিভিন্ন হাট বাজারে বাজারজাত ও টাকা কালেকশনের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে দিনাজপুর জাতীয় পত্রিকার ২ জন সাংবাদিক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কল্পে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন্, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জসহ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পরিচালককে মুঠো ফোনে অবগত করা হয়। অবশেষে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোজাফফর হোসেন বিপিএম পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষনিকভাবে এসআই জলিলের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পিকআপ ভ্যানে এসে ঘটনার সত্যতা পান। এহেন অবস্থার প্রেক্ষাপটে অফিসার ইনচার্জ এর পরামর্শক্রমে তাদেরকে পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।

কিন্তু এরিয়া ম্যানেজার চিত্ত এবং অফিসার স্টাফ নাদিম এরা জোটবদ্ধ। পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের বলেন, সিগারেট নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে পরার কারণে তারা সেলস্ম্যানদের দিয়ে বীর দর্পে ব্যবসা চালাতে অসুবিধা বোধ করছে না মর্মে কিছু কাগজপত্র প্রদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে মুঠো ফোনে সিভিল সার্জনকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তামাক জাত সিগারেট নিত্যপ্রয়োজনীয় দব্যাদির মধ্যে পড়ে না। ঐদিনেই সাংবাদিক পুলিশ সহ এলাকার জন্্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরে এরিয়া ম্যানেজার সহ ৩ জন কর্মকর্তা সুকৌশলে সেলসম্যান জরুরীভাবে ডেকে গোপন বৈঠক করে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেলস ম্যানদের তিনটি গ্র“পে বিভক্ত করে ৩০ মার্চ রবিবার সকাল ৭.৩০ মিনিট ৮.৩০ মিনিটের মধ্যে সকল কর্মচারী নিজ দায়িত্বে এসে মালামাল অফিস ত্যাগ করে নির্ধারিত কর্মস্থলে চলে যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যেখানে লোকজন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে সেখানে কিভাবে তারা বীর দর্পে ব্যবসা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে জেলার সুশীল সমাজ।