১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষকদের হুমকি প্রদানকারীর বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষকদের সাথে ঔদ্ধত্য পূর্ণ আচরণ এবং হুমকি প্রদানকারী সহকারী রেজিস্টার নজরুল হীরার এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে কম্পিউটার চুরির প্রকৃত চোরকে শনাক্ত সহ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় অর্ধ-তাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা শিক্ষকদের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি প্রকৃত চুরির রহস্য উন্মোচন করে তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শেখ তারেক, বাবুল শিকদার বাবু এবং ফাহাদ সার্জিল বলেন, “ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর ওই শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনিকে গত ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক কর্মকর্তা। এমনকি পনিকে যখন পুলিশ রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেফতার করে তখনও ওই কর্মকর্তা পনির সাথে রেস্টুরেন্টে উপস্থিত ছিলো৷ আর এসব কারণে তদন্ত কমিটিকে সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখতে তাকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু এতে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং তদন্ত কমিটিতে থাকা তিন শিক্ষকসহ পাঁচ সদস্যকে হুমকি প্রদান করেন। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ কম্পিউটার চুরির মূলহোতাদোর বিচার চাই।”

এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে সকলে প্রক্টর কিংবা নিরাপত্তা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতো। তাহলে পনি কেনো এদের অনুমতি না নিয়ে ওই কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলো।

তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদেরকে হুমকি প্রদানের ঘটনা কখনোই মেনে নিবেনা এবং তারা যেভাবে উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলো সেভাবে এই ঘটনারও প্রতিবাদ করবে।

এদিকে গত ১৯ আগস্ট সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তদন্ত কমিটির কাজে বাঁধা দিচ্ছেন এবং তদন্ত কমিটিকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগে বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদের নিকট যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদনপত্র দিয়েছিলেন তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্য মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া (তদন্ত কমিটি প্রধান এবং ডিন, আইন অনুষদ) ড. আব্দুর রহিম খান (সদস্য এবং ডিন বিজ্ঞান অনুষদ) ড. রাজিউর রহমান, (সদস্য এবং প্রক্টর), মোঃ নাছিরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান) এবং ড. মোঃ নূরউদ্দিন আহমেদ (সদস্য সচিব এবং রেজিস্ট্রার)।

তবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি কাউকে হুমকি দেইনি বরং কম্পিউটার চোর ধরার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে এখন একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”

প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহার ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯ টি কম্পিউটার চুরি হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার করেছে এবং ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে মাসরুল ইসলাম পনি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী। আর এই শিক্ষার্থীকে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য সুপারিশ করেছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম। এছাড়া উক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের সময়েও পনির সাথে ছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

শিক্ষকদের হুমকি প্রদানকারীর বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত : ১২:৫২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২০

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষকদের সাথে ঔদ্ধত্য পূর্ণ আচরণ এবং হুমকি প্রদানকারী সহকারী রেজিস্টার নজরুল হীরার এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে কম্পিউটার চুরির প্রকৃত চোরকে শনাক্ত সহ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় অর্ধ-তাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা শিক্ষকদের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি প্রকৃত চুরির রহস্য উন্মোচন করে তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শেখ তারেক, বাবুল শিকদার বাবু এবং ফাহাদ সার্জিল বলেন, “ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর ওই শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনিকে গত ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক কর্মকর্তা। এমনকি পনিকে যখন পুলিশ রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেফতার করে তখনও ওই কর্মকর্তা পনির সাথে রেস্টুরেন্টে উপস্থিত ছিলো৷ আর এসব কারণে তদন্ত কমিটিকে সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে রাখতে তাকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু এতে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং তদন্ত কমিটিতে থাকা তিন শিক্ষকসহ পাঁচ সদস্যকে হুমকি প্রদান করেন। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ কম্পিউটার চুরির মূলহোতাদোর বিচার চাই।”

এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে সকলে প্রক্টর কিংবা নিরাপত্তা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতো। তাহলে পনি কেনো এদের অনুমতি না নিয়ে ওই কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলো।

তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদেরকে হুমকি প্রদানের ঘটনা কখনোই মেনে নিবেনা এবং তারা যেভাবে উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলো সেভাবে এই ঘটনারও প্রতিবাদ করবে।

এদিকে গত ১৯ আগস্ট সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তদন্ত কমিটির কাজে বাঁধা দিচ্ছেন এবং তদন্ত কমিটিকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগে বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদের নিকট যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদনপত্র দিয়েছিলেন তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্য মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া (তদন্ত কমিটি প্রধান এবং ডিন, আইন অনুষদ) ড. আব্দুর রহিম খান (সদস্য এবং ডিন বিজ্ঞান অনুষদ) ড. রাজিউর রহমান, (সদস্য এবং প্রক্টর), মোঃ নাছিরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান) এবং ড. মোঃ নূরউদ্দিন আহমেদ (সদস্য সচিব এবং রেজিস্ট্রার)।

তবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি কাউকে হুমকি দেইনি বরং কম্পিউটার চোর ধরার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে এখন একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”

প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহার ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯ টি কম্পিউটার চুরি হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার করেছে এবং ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে মাসরুল ইসলাম পনি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী। আর এই শিক্ষার্থীকে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য সুপারিশ করেছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম। এছাড়া উক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের সময়েও পনির সাথে ছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর