পুলিশের আইজিপির কাছে অভিযোগ করায় জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানার শরিফ আহমেদ নামে এক এসআই বকশীগঞ্জের ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, গ্রেফতার ও হয়রনি করে আসছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামের এক স্কুল ছাত্রী প্রতিবেশি চিনারচর গ্রামের বখাটে যুবক মোস্তাইন বিল্লাহ রণি কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়। এই ঘটনায় দেশের র্শীষ স্থানীয় দৈনিক গুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার এসআই শরীফ আহমেদ বখাটে যুবকের পক্ষ নিয়ে তার ফেসকুক আইডিতে স্কুল ছাত্রী নাম পরিচয় দিয়ে মানাহানিকর স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। একই সময় স্কুল ছাত্রীকে সহায়তা করার জন্য স্কুলের সভাপতি সাংবাদিক শাহীন আল আমীনের নামেও নানা মানাহানিকর স্ট্যাটাস পোষ্ট করেন।
তৎকালিন বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে এসআই শরীফ আহমেদকে মানহানিকর স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। কিন্তু প্রত্যাহার না করায় বিষয়টি গত বছরের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপিকে লিখিত আকারে জানানো হয়। বিষয়টি অবগত হয়ে এসআই শরীফ আহমেদ তার ফেসবুক আইডিতে কমান্ড করেন “ —— আইজি কি তার দুলাভাই বিচার দিলেই শুনবে—-” ?
স্কুল ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় স্কুল ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হয়রানি করতে থাকে এস আই শরীফ আহমেদ। ছাত্রীর ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ দাদাকে পিঠ মোড়া দিয়ে বেধে থানায় এনে হয়রনি ও নির্যাতন করেন। ছাত্রী নির্যাতনকারী বখাটে যুবক মোস্তাইন বিল্লাহ রণির পক্ষ নিয়ে এস আই শরীফ আহমেদ স্কুল ছাত্রী, তার মা, বাবা, দাদা, নানা, চাচা, মামা, স্কুলের সভাপতি, স্কুল ছাত্রীর আইনজীবিসহ স্কুল ছাত্রীর আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেন। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্র গিয়েও স্কুল ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখান। তাই ভয়ে স্কুল ছাত্রী পড়া লেখা ছেড়ে দিয়েছে। স্বপরিবারে ঢাকায় অবস্থান করছে দরিদ্র স্কুল ছাত্রীর পরিবার।
শুধু তাই না স্কুল ছাত্রীসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মোস্তাইন বিল্লাহ রণির বড় ভাই মামলাবাজ ও নারী নির্যাতন, পুলিশের উপর হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ফোরকান আলী। মোস্তাইন বিল্লাহ রণিকে মারপিট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। কোর্ট মামলার এজাহারে চাদাবাজির বিষয় উল্লেখ নেই। কিন্তু এসআই শরীফ মারপেিটর ঘটনা পাশকাটিয়ে চাদাবাজির ধারা সংযোজন করে স্কুল ছাত্রী, তার মা, বাবা, দাদা, নানা, চাচা, মামা, স্কুলের সভাপতি, স্কুল ছাত্রীর আইনজীবি ও সাংবাদিকসহ সকলের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেন।
অপর দিকে স্কুল ছাত্রীকে সহায়তা দেওয়ায়, ঘটনার সংবাদ প্রকাশ ও এসআই শরীফের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে আইজপিকে লিখিতভাবে অবহিত করার পর ৩ সাংবাদিককে মামলা, গ্রেফতার ও হুমকি দিয়ে হয়রানি করছে এসআই শরীফ আহমেদ। এক বছর আগে দায়ের করা মামলার এজাহারে সাংবাদিকের নাম না থাকলেও চার্জশীটে সাংবাদিক শাহীন আল আমীনের নাম অর্ন্তভুক্ত করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলার বাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি সুনির্দিষ্ট ২ জনের নাম দিয়ে মামলা দায়ের করলেও এসআই শরীফ আহমেদ সাংবাদিকের নাম সংয়োজন করে মামলার চার্জশীট দেন। মামলার বাদীর আপত্তির পরেও সাংবাদিককে গ্রেফতার করেন এসআই শরীফ। একইভাবে অন্য একটি মামালায় সাংবাদিকের নাম সংযোজন করে মামলার চার্জশীট দেন।
পৃথক একটি ঘটনায় সিনিয়র সাংবাদিক এম এ সালাম মাহমুদ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রাণি করে চলেছেন বকশীগঞ্জ থানার এসআই শরীফ আহমেদ ।
আইজিপিকে অভিযোগ দায়েরের ১১ মাস পর বিষয়টি তদন্তের জন্য জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্তের ভার দিয়েছেন পুলিশ হেড কোর্য়াটার। ২৬ আগষ্ট জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার অফিস ভুক্তভোগিদের জবান বন্দি নিয়েছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















