ঢাকা রাত ২:১৮, শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গ্রাম পুলিশ কর্মকর্তা এখন ভিক্ষুক

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়ন দক্ষিণ ডোমঘাটা গ্রামের মোঃ কছিম উদ্দিন ওরফে ব্যাঙ্গা চকিদার এখন পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাভিত্তি করে সংসার চলে তার।
সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্যাঙ্গা চকিদার নামে পরিচিত এই ব্যক্তি ৭ শত থেকে ৩ হাজার টাকা বেতনে বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশের চাকরি করে ডাল ভাত খেয়ে কোনমতে সংসার চালাতেন। তার দুই মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন ও এক ছেলে বিয়ে করে ঢাকা কোথায় থাকেন তার কোন হুদিস নেই। প্রায় ২৫ বছর তিনি নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করেছেন। অনেক সময় মুন্সিরহাট বাজারের পাহাড়াও দিতেন তিনি।

২০১৫ সালে বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হঠাৎ জানতে পারে তার গ্রাম পুলিশের চাকুরী শেষ হয়েছে তিনি আর বেতন পাবেন না। চাকুরী শেষ হওয়ার কথা শুনে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। বুকভরা কষ্ট নিয়ে বাড়িতে বেকার সময়টুকু কাটাতে ২ টি গবাদী পশু ছিলো। তা বিক্রি করে সহ ধর্মিনী খাতুজান বিবি(৫৫) কে খাদ্য, চিকিৎসা বস্ত্র ক্রয় করে শেষ। সহায় সম্ভল বাড়ির ভিটে ৭ শতাংশ জায়গা রয়েছে। এ ছাড়া ধন সম্পদ বলতে আর কিছুই নেই তার। থাকার মতো মাটির দেয়ালে তৈরি বসত ঘরটিও ভেঙ্গে এখন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতিবেশি আবুল কাশেমের বাড়ান্দায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। সে এবং তার স্ত্রী দুজনই হাপানী রোগী। দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঔষধ ক্রয় করতে হয় তার। ১০ টাকা কেজি যে চাল পায় তা বিক্রি করেও তার ঔষধের টাকা হয় না।


এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে খেতে হচ্ছে। গ্রামের মানুষের সাহায্যে চলছে অসহায় ব্যাঙ্গা চকিদারের পরিবার।
এ ব্যাপারে বাঘবেড় ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ রব্বানী সুমন বলেন, সে ছিলো গ্রাম পুলিশের মধ্যে একজন নিবেদিত প্রাণ, আমি সাধ্যমতো চেষ্ঠা করছি ও সাহায্য সহযোগীতা করছি। ইউপি সদস্য আবু সাইদ জানান, উনি আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা, আমি নিজেও তাকে সাহায্য সহযোগীতা করেছি। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামানের কাছে গ্রাম পুলিশ কছিম উদ্দিনের মানবেতর জীবন যাপনের বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, উনি ১০ টাকা কেজি চাল পাচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ঘর আসলে তাকে একটি ঘরের ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। হয়তো তিনি ভবিষ্যতে ঘর পাবেন। বর্তমানে ঐ গ্রাম পুলিশের খাদ্য ও চিকিৎসা জরুরী প্রয়োজন।
এমত অবস্থায় যদি কোন হৃদয়বান ব্যাক্তি অসহায় কছিম উদ্দিন ওরফে ব্যাঙ্গা চকিদারের পাশে দাড়ান তিনি ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে সংবাদকর্মীকে জানিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ