০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

করোনার মধ্যে প্রাইভেট পড়তে এসে “ইভটিজিংয়ের শিকার স্কুল শিক্ষার্থী”

  • গজনবী,ভোলা:
  • প্রকাশিত : ০৬:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০
  • 124

ভোলার দৌলতখান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭ টায় বাড়ি থেকে প্রাইভেটের উদ্দেশ্যে বের হয়ে বিদ্যালয়ের সামনে এসে বখাটের হাতে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ইভটিজিংকারী বখাটে নয়ন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় দৌলতখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ নয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। নয়ন দৌলতখান উপজেলার পশু হাসপাতল সংলগ্ন চরখলিফা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আবু তাহেরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী সকাল সাড়ে ৭ টায় প্রাইভেট পড়তে বের হয়ে স্কুলের কাছাকাছি আসলে ট্রলি হেলপার নয়ন তাকে রাস্তার মধ্যে টানা হ্যাচরা করে। একপর্যায়ে ওই শিক্ষাথী রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। এসময় মোখলেস নামের এক জেলে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা দেখতে পেয়ে নয়নকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর তাকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে নেওয়ার পথে স্থানীয়রা নয়নকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোখলেস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছিলাম পথিমধ্যে দেখি নয়ন ওই মেয়ের হাত ধরে টানাটানি করছে । এক পর্যায়ে মেয়েটি রাস্তার মধ্যে পড়ে যায়। আমি এগিয়ে গেলে নয়ন পালাতে চেষ্টা করে। এরপর আমি তাকে হাতেনাতে ধরে স্কুলের স্যারের কাছে নেয়ার পথে স্থানীয় লোকজন তাকে ছেড়ে দেয়।
নয়নের বাবা আবু তাহের বলেন, আমি উক্ত ঘটনার কিছুই জানি না, তবে আমাদের বাড়িতে পুলিশ এসে ছেলের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে গেছে।
ইভটিজিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীর বাড়ি গেলে তার পবিরার মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, করোনাকালীন সময়ে সরকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু সুবিধাভোগী কিছু শিক্ষক সরকারের এই আইন অমান্য করে নিজ বাড়িতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ভাড়া নেওয়া কোচিং সেন্টারে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে । প্রাইভেট ও কোচিং করেতে এসেই শিক্ষার্থীরা ইভটিজিং সহ নানা ধরনের দূর্ঘটনার শিকার হয় এমনকি জড়িয়ে যায় নানা অপকর্মে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, অনেক শিক্ষকই ছাত্রীদের হাতে কোচিং সেন্টারের চাবি দিয়ে রাখেন। সকাল সকাল ছেলেমেয়েরা এসে স্যারের অনুপস্থিতিতেই এসব কোচিং সেন্টারে মধ্যে বসে গল্প আড্ডায় দিন কাটায়। এ ব্যাপারে শিক্ষকদেরকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
দৌলতখান সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। ইভটিজিংয়ের শিকার শিক্ষার্থী আমার বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) বজলার রহমান জানান, এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

করোনার মধ্যে প্রাইভেট পড়তে এসে “ইভটিজিংয়ের শিকার স্কুল শিক্ষার্থী”

প্রকাশিত : ০৬:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০

ভোলার দৌলতখান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭ টায় বাড়ি থেকে প্রাইভেটের উদ্দেশ্যে বের হয়ে বিদ্যালয়ের সামনে এসে বখাটের হাতে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ইভটিজিংকারী বখাটে নয়ন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় দৌলতখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ নয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। নয়ন দৌলতখান উপজেলার পশু হাসপাতল সংলগ্ন চরখলিফা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আবু তাহেরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী সকাল সাড়ে ৭ টায় প্রাইভেট পড়তে বের হয়ে স্কুলের কাছাকাছি আসলে ট্রলি হেলপার নয়ন তাকে রাস্তার মধ্যে টানা হ্যাচরা করে। একপর্যায়ে ওই শিক্ষাথী রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। এসময় মোখলেস নামের এক জেলে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা দেখতে পেয়ে নয়নকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর তাকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে নেওয়ার পথে স্থানীয়রা নয়নকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোখলেস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছিলাম পথিমধ্যে দেখি নয়ন ওই মেয়ের হাত ধরে টানাটানি করছে । এক পর্যায়ে মেয়েটি রাস্তার মধ্যে পড়ে যায়। আমি এগিয়ে গেলে নয়ন পালাতে চেষ্টা করে। এরপর আমি তাকে হাতেনাতে ধরে স্কুলের স্যারের কাছে নেয়ার পথে স্থানীয় লোকজন তাকে ছেড়ে দেয়।
নয়নের বাবা আবু তাহের বলেন, আমি উক্ত ঘটনার কিছুই জানি না, তবে আমাদের বাড়িতে পুলিশ এসে ছেলের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে গেছে।
ইভটিজিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীর বাড়ি গেলে তার পবিরার মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, করোনাকালীন সময়ে সরকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু সুবিধাভোগী কিছু শিক্ষক সরকারের এই আইন অমান্য করে নিজ বাড়িতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ভাড়া নেওয়া কোচিং সেন্টারে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে । প্রাইভেট ও কোচিং করেতে এসেই শিক্ষার্থীরা ইভটিজিং সহ নানা ধরনের দূর্ঘটনার শিকার হয় এমনকি জড়িয়ে যায় নানা অপকর্মে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, অনেক শিক্ষকই ছাত্রীদের হাতে কোচিং সেন্টারের চাবি দিয়ে রাখেন। সকাল সকাল ছেলেমেয়েরা এসে স্যারের অনুপস্থিতিতেই এসব কোচিং সেন্টারে মধ্যে বসে গল্প আড্ডায় দিন কাটায়। এ ব্যাপারে শিক্ষকদেরকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
দৌলতখান সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। ইভটিজিংয়ের শিকার শিক্ষার্থী আমার বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) বজলার রহমান জানান, এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ