বহুমুখী সমবায় গড়ে তুলতে পারলে দেশে দরিদ্র থাকবে না। দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করতে হলে সমবায়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সমবায়ের মাধ্যমে দেশকে উন্নত করতে হবে। বাংলাদেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না।
৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
নারীদের সমবায়ে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীরা এগিয়ে এলে দুর্নীতি অনেকটা কমে যাবে। পাশাপাশি তাদের পরিবারও অনেক লাভবান হবে।
বক্তব্যে সমবায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংবিধানে জাতির পিতা সমবায়ের কথা বলে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। তিনি দরিদ্র্য-সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে গণমুখী সমবায় আন্দোলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
উৎপাদিত পণ্য যাতে বাজারজাত করা যায়, তার একটা নিয়ম থাকবে। বঙ্গবন্ধু এমন একটা নীতিমালা তৈরি করেছিলেন। তবে তিনি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। যদি সেটা পারতেন, তবে দেশ আজ ক্ষুধামুক্ত থাকত।
সমবায় সমিতিগুলোর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বে স্থবিরতা সৃষ্টি করলেও সমবায় সমিতিগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, সদস্যদের ঋণ মওকুফসহ দুর্গত সদস্যদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর সমবায় নীতির কথা উল্লেখ করে তার মেয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু একটা সমবায় নীতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। সেটা যদি বাস্তবায়ন করতে পারতেন, তাহলে আজ বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত থাকতো।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, তিনি যে এত কিছু দিয়ে গিয়েছিলেন, সমবায়গুলোর জন্য, সেগুলো পর্যাপ্ত ও যথাযথ কাজে লাগেনি। সেটা একটা লুটপাটের জায়গায় চলে আসছিল।
তিনি বলেন, আমরা যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি, তখন অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, যাতে কোনো মানুষ না খেয়ে না থাকে। কোনো একটা পরিবার যেন পেছনে পড়ে না থাকে, তার জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছিলাম।
আমার বাড়ি, আমার খামার প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় আমরা গ্রামের মানুষদেরকে একটা সুন্দর জীবন দিতে পেরেছি। এখনো এই প্রকল্প চলমান। এ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫৪২টি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমরা সমবায় সমিতি আইন নতুন করে ঢেলে সাজাই। ২০১২ সালে নীতিমালা প্রণয়ন করি। ২০১৩ সালে আইন সংশোধন করে সেটা যুগোপযোগী করেছি।
‘কারণ এখন অনেক কিছু প্রশিক্ষণের ব্যাপার আছে। সেই সাথে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড-২০১৮ আইন তৈরি করেছি। জাতির পিতার প্রতিষ্ঠিত পথই আমাদের একমাত্র পথ। এ পথে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে যেতে পারব।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর


















