১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছোটবেলার খেলার সাথি হলো শেবাগের জীবনসঙ্গী

দিল্লির নজফগড়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারে নিজের এবং চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোন মিলিয়ে ১৬ জনের সঙ্গে বড় হয়েছেন বীরেন্দ্রর শেবাগ। বড় পরিবারে আত্মীয়-পরিজনের আসা-যাওয়া লেগেই থাকত। সেই সঙ্গে একের পর এক অনুষ্ঠান। একবার কোনো এক আত্মীয়ের বিয়েতে কুটুমবাড়ির এক বালিকার সঙ্গে তিনি খেলাধুলা করেন। শৈশবের বন্ধুত্ব তারুণ্যে গিয়ে রূপ নেয় প্রেমে। সেই আরতি অটওয়াল আজ বীরেন্দ্রর শেবাগের জীবনসঙ্গিনী। সে সময় শেবাগের বয়স ছিল সাত বছর। অন্যদিকে আরতি তখন পাঁচ বছরের বালিকা।

শৈশবের ওই প্রথম দেখার পর বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা হতে থাকে, শেবাগ এবং আরতির। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে ঘুরতে থাকে তাদের সম্পর্ক। ক্রমশ শেবাগ বুঝতে পারেন আরতির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুভূতি আছে। ১৪ বছর পর আরতিকে প্রোপোজ করেন ২১ বছর বয়সী শেবাগ। সহজ-সরল শেবাগের প্রোপোজ করার ধরনও ছিল একেবারে সাধারণ। কোনো নাটকীয়তা ছাড়া খুব সাধারণভাবে তিনি প্রোপোজ করেন। উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলতে এক মুহূর্ত সময় নেননি আরতি।

শুরুতে শেবাগ এবং আরতির প্রেম পর্ব ছিল সম্পূর্ণ গোপন। প্রোপোজ করার তিন বছর পর তাদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানান শেবাগ। অনিবার্যভাবেই দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। কিন্তু শেবাগ এবং আরতি জানিয়ে দেন অন্য কাউকে তারা বিয়ে করবেন না। তাদের জেদের কাছে অবশেষে হার মানতে বাধ্য হয় দুই পরিবার। ২০০৪-এর ২২ এপ্রিল বিয়ে হয়ে যায় বীরেন্দ্র শেবাগ এবং আরতি অটওয়ালের।

২০০৭ সালে শেবাগ-আরতির প্রথম সন্তান আর্যবীরের জন্ম। তিন বছর পর জন্ম ছোট ছেলে বেদান্তের। আরতি যখন প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন, তখনো তাঁর প্রেমিক ‘বীরেন্দ্র শেবাগ’ হননি। সবে সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। তার পর থেকে জীবনের সব ওঠাপড়ায় শেবাগের পাশে থেকেছেন আরতি। প্রথম ওয়ানডে খেলেন ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুই বছর পরেই টেস্ট অভিষেক। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এক দশকের বেশি ক্যারিয়ারে শেবাগ হয়ে ওঠেন ভারতের সবচেয়ে বিধ্বংসী ওপেনার।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছোটবেলার খেলার সাথি হলো শেবাগের জীবনসঙ্গী

প্রকাশিত : ০৪:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০

দিল্লির নজফগড়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারে নিজের এবং চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোন মিলিয়ে ১৬ জনের সঙ্গে বড় হয়েছেন বীরেন্দ্রর শেবাগ। বড় পরিবারে আত্মীয়-পরিজনের আসা-যাওয়া লেগেই থাকত। সেই সঙ্গে একের পর এক অনুষ্ঠান। একবার কোনো এক আত্মীয়ের বিয়েতে কুটুমবাড়ির এক বালিকার সঙ্গে তিনি খেলাধুলা করেন। শৈশবের বন্ধুত্ব তারুণ্যে গিয়ে রূপ নেয় প্রেমে। সেই আরতি অটওয়াল আজ বীরেন্দ্রর শেবাগের জীবনসঙ্গিনী। সে সময় শেবাগের বয়স ছিল সাত বছর। অন্যদিকে আরতি তখন পাঁচ বছরের বালিকা।

শৈশবের ওই প্রথম দেখার পর বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা হতে থাকে, শেবাগ এবং আরতির। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে ঘুরতে থাকে তাদের সম্পর্ক। ক্রমশ শেবাগ বুঝতে পারেন আরতির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুভূতি আছে। ১৪ বছর পর আরতিকে প্রোপোজ করেন ২১ বছর বয়সী শেবাগ। সহজ-সরল শেবাগের প্রোপোজ করার ধরনও ছিল একেবারে সাধারণ। কোনো নাটকীয়তা ছাড়া খুব সাধারণভাবে তিনি প্রোপোজ করেন। উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলতে এক মুহূর্ত সময় নেননি আরতি।

শুরুতে শেবাগ এবং আরতির প্রেম পর্ব ছিল সম্পূর্ণ গোপন। প্রোপোজ করার তিন বছর পর তাদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানান শেবাগ। অনিবার্যভাবেই দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। কিন্তু শেবাগ এবং আরতি জানিয়ে দেন অন্য কাউকে তারা বিয়ে করবেন না। তাদের জেদের কাছে অবশেষে হার মানতে বাধ্য হয় দুই পরিবার। ২০০৪-এর ২২ এপ্রিল বিয়ে হয়ে যায় বীরেন্দ্র শেবাগ এবং আরতি অটওয়ালের।

২০০৭ সালে শেবাগ-আরতির প্রথম সন্তান আর্যবীরের জন্ম। তিন বছর পর জন্ম ছোট ছেলে বেদান্তের। আরতি যখন প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন, তখনো তাঁর প্রেমিক ‘বীরেন্দ্র শেবাগ’ হননি। সবে সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। তার পর থেকে জীবনের সব ওঠাপড়ায় শেবাগের পাশে থেকেছেন আরতি। প্রথম ওয়ানডে খেলেন ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুই বছর পরেই টেস্ট অভিষেক। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এক দশকের বেশি ক্যারিয়ারে শেবাগ হয়ে ওঠেন ভারতের সবচেয়ে বিধ্বংসী ওপেনার।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ