ঢাকা ভোর ৫:২০, রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জের লাল শাপলায় সমারোহ

শীতের শিশিরে ভেজা লাল শাপলা ভোরের সূর্যের সোনালী আভায় দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে মানুষের। গোপালগঞ্জের বিলগুলোতে এখন লাল শাপলার ছড়াছড়ি। বিলের যেদিকেই চোখ যাবে মনে হবে পাতা রয়েছে কোনো মনোরম লাল গালিচা।

প্রাকৃতিক এ সৌন্দর্য্যকে উপভোগ করতে বিলগুলোতে বেড়াতে আসছেন শিক্ষার্থীসহ নানা দর্শনার্থী। এই সুযোগে লাল শাপলার বিলে দর্শনার্থীদের ঘুরিয়ে ও হরেক রকমের পিঠা বিক্রি করে আয়ের পথ তৈরি করেছেন অনেক পরিবার।

কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি, ছত্রকান্দা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়ার বিল, সদর উপজেলার কাঠি ও ডোমরাশুর বিলসহ অন্তত গোপালগঞ্জের ২৫টি বিল এখন রঙিন হয়ে আছে লাল শাপলায়।

স্থানীয়রা জানান, আগে এসব বিলে সাদা-সবুজ শাপলা হলেও ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে লাল শাপলা হতে দেখা যায়। এসব বিল সাধারণত এক ফসলি জমি। বোরো মৌসুমেই শুধুমাত্র ধান চাষ করেন কৃষকেরা। এরপর জমিতে বর্ষার পানি এসে যায়। বিলগুলো বছরের ৬ মাস তলিয়ে থাকায় কোন কাজ থাকে না এলাকাবাসীর। সেখানেই প্রতিবছর প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় লাল শাপলা। চারদিক লালে লালে একাকার হয়ে যায়।

কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ জানান, কান্দি ইউনিয়নের সর্বত্রই লাল শাপলায় ভরে রয়েছে। কান্দি ইউনিয়নের লাল শাপলা বিলকে ‘শাপলালয়’ ঘোষণা করার পর থেকে দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, গোপালগঞ্জে ছোট বড় মিলিয়ে অনেক বিল রয়েছে। এসব বিলে লাল শাপলা ফুটলে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শাপলার বিল দেখতে শুধু গোপালগঞ্জ নয় আশপাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন। এখানে বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করা হলে পর্যটকদের জন্য সহায়ক হবে। ইতিমধ্যে পর্যটন করপেরেশনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করা হবে।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিসৌধ, কোটালীপাড়ায় কবি সুকান্তের বাড়ি ছাড়াও বিলগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া লাল শাপলার সৌন্দর্য্য দেখতে আমন্ত্রণ জানান তিনি। পাশাপশি এসব যেন কোনো প্রকারে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর দেওয়ারও আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

এ বিভাগের আরও সংবাদ