১৬০টি দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করা এ সূচকে ৭৩ থেকে এবার ৬৫তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এর ফলে এস্তোনিয়াভিত্তিক ই-গভর্নেন্স একাডেমি ফাউন্ডেশনের করা জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের ৮ ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। তালিকায় স্থান পাওয়া দেশগুলোর মৌলিক সাইবার হামলা প্রতিরোধে প্রস্তুতি এবং সাইবার অপরাধ, ঘটনা ও বড় ধরনের সঙ্কট ব্যবস্থাপনায় তৎপরতা মূল্যায়ন করে এনসিএসআই সূচকটি তৈরি করেছে।
এই সূচকে ৪৪ দশমিক ১৬ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আর এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে ভারত। দেশটির স্কোর ৫৯ দশমিক ৭৪, আরও সূচকে অবস্থান ৩৫ নম্বরে। এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, এটি সঙ্গত ও স্বাভাবিক। এটি হওয়ারই ছিলো। কারণ সরকার সাইবার নিরাপত্তার বিষগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এরপর একই বছর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতায় সিটিডিআর নামক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ ও ভিভিআইপিসহ সমাজের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যে গুজব রটানো হতো, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় ২৬ হাজার পর্ন সাইট ও ৬ হাজার জুয়া খেলার সাইট বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পুলিশ ও সিআইডিসহ বিভিন্ন ইউনিটে পৃথক পৃথক সাইবার ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাব করা হয়েছে। সাইবার নিয়ে কাজ করা সদস্যদের প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ইউনিটের সদস্যরা সাইবার সংক্রান্ত কোনো অপরাধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিমূর্লের চেষ্টা করছেন। প্রতিটি সাইবার ইউনিটের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে দেশের সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন। এছাড়া দেশের জনসাধারণও আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। এসব সামগ্রিক বিষয়গুলোর জন্যই বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিজিডি ই-গভ সার্ট-এর প্রকল্প পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, এটা সাইবার নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশের সক্ষমতারই প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে আরও দক্ষতার সাথে সাইবার হামলা প্রতিহত করতে উৎসাহ দেবে এবং সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এনসিএসআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ সূচকে ৯৬ দশমিক ১০ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে গ্রিস। এরপর ৯২ দশমিক ২১ স্কোর নিয়ে চেক রিপাবলিক এবং ৯০ দশমিক ৯১ স্কোর নিয়ে এস্তোনিয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সূচকের ১৬ নম্বরে, যুক্তরাজ্য আছে ১৮তম অবস্থানে। প্রথম ২০টি দেশের মধ্যে এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৫ নম্বরে। চীন আছে ৮০তম স্থানে। ১৬০ দেশের এ তালিকায় সবচেয়ে বাড়ে অবস্থানে আছে সাউথ সুদান। এদিকে পাকিস্তান সূচকের ৬৬তম (স্কোর ৪২.৮৬), নেপাল ৯৩তম (২৮.৫৭), শ্রীলংকা ৯৮তম (২৭.২৭), ভুটান ১১৫তম (১৮.১৮), আফগানিস্তান ১৩২তম (১১.৬৯), মিয়ানমার ১৩৯তম (১০.৩৯) অবস্থানে রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ























