১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

চাল আমদানি ঘোষণার পরই নওগাঁয় ধান-চালের দাম কমেছে

বিদেশে থেকে চাল আমদানি ঘোষণার পরই নওগাঁর মিল ও বড়বড় চাল আড়ৎদাররা ধান কেনা বন্ধ করে দেন। এর ফলে বাজারে প্রতি মণে ধানে কমেছে চিকন জাতে ২০ টাকা এবং মোটা জাতে ৫০ টাকা। অপরদিকে মিল ও বড়বড় চাল আড়ৎদারদের গুদামে মজুতকরা চাল বাজারে সরবরাহ করায় চালে প্রতি মণে কমেছে ১শ’ টাকা থেকে দেড়শ’ টাকা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলরা অভিযোগ করে বলেন, আমন ধান-কাটা মাড়াইয়ের ভরা মৌসুমেও মিল ও চাল আড়ৎদারদের কারসাজিতেই ধানের তুলনায় চালের বেশি দাম কমেছে।
সরকারের সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় প্রায় প্রতি বছর নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলছে ধান-চালের বাজার। সময়ের দাবি বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি ধান-চাল বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় পরপর চার বারের বন্যায় ৫ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমির ধান সম্পন্নভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার পর জেলায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান উৎপাদন হয়েছে। গড়ে হেক্টর প্রতি চালের আকারে উৎপাদিত হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। এতে জেলায় মোট ৬ লাখ ১২ হাজার ১শ’ ৭৫ মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ হাজার ১শ’ ১৫ মেট্রিক টন বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে।
জানা গেছে, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁয়। নওগাঁয় প্রতি বছর জেলার ১৬ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হলেও দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জেলার চাল কল মিলগুলোতে খাদ্য বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করায় নিয়ন্ত্রণ আসেনি ধান-চালের বাজার। সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন ভ‚মিকা পালন করার সুযোগে জেলার কয়েকজন বড়বড় ধান-চাল মিলার ও ব্যবসায়ী লাখ লাখ মেট্রিকটন মজুত করে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে বেশি ফায়দা লুটেছেন। ফলে গত মাসখানেক আগে আবারও ধানের বাজার বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি পায় নওগাঁর বাজারে।
নওগাঁ সদরের ঝাড়গ্রামের নাজমুল হক, শরিফপুর গ্রামের বায়েন উদ্দিন, মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌড়ী গ্রামের লজির উদ্দিনসহ অনেক কৃষককের সাথে কথা হয় ধান কেনা-বেচার হাট মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌড়ীতে। কৃষকরা জানান, গত আমন মৌসুমে তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধেক ধান অর্থাৎ কম উৎপাদন হয়েছে। গত আমন মৌসুমে প্রতি বিঘায় র্স্বণা ২০ মণ থেকে ২৪ মণ, জিরাশাইল ১০ মণ থেকে ১৬ মণ উৎপাদন হয়েছে। চলতি মৌসুমে অতি বর্ষ, কারেন্ট পোকাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেখানে মাত্র র্স্বণা ১০ মণ থেকে ১৪ মণ, জিরাশাইল ৫ মণ থেকে ১০ মণ উৎপাদন হয়েছে। তবে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের শুরু থেকে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খরচ ঘরে উঠে আসছে। তবে অনেক বর্গ চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ধানের ভালো দাম না পাওয়ায়।
নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রæপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, জেলায় গত আমন মৌসুমের তুলনায় চলতি আমন মৌসুমে ধান কম উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ ঘরে বসে বাম্পার ফলনের তথ্য সরকারের কাছে দিয়েছে। ফলে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগ ঘরে বসে ধান উৎপাদনের হিসেব সরকারের কাছে না দিয়ে মাঠ পর্যয়ের সঠিক তথ্য দিলে সরকার আরো আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারতো। কৃষি বিভাগকে ঢেলে সাজানোর দাবিও জানান তিনি।
এমতাবস্তায় গত সপ্তাহে সরকারি ভাবে বিদেশ থেকে চাল আমদানি ঘোষণা দেওয়ায় পর নওগাঁর মিল ব্যবসায়ীরা হাট-বাজার থেকে ধান কেনা বন্ধ করে দেন। পরে মিল ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া দামে ধান কিনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ীদের। ফলে বাজারে মোটা জাতের প্রতি মণে দাম কমেছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। আর চিকন জাতের কমেছে ৩০ টাকা।
রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে শনিবার হাটে কথা হয় ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ীদের। আমজাদ হোসেন, কাশেম সরদারসহ অন্যরা জানান, সরকারের চাল আমদানি ঘোষণা দেওয়ার আগে বাজারে জিরাশাইল ধান প্রতি মণ ১৩২০ টাকা থেকে ১৩৩০ টাকা এবং মোটা জাতের স্বর্ণা ১১৪০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা কেনা বেচা হয়েছে। চাল আমদানি করার ঘোষণা দেওয়ারপর মিল ব্যবসায়ীরা ধান কেনা বন্ধ করে দেন। দু’দিনপর আবারো মিল ব্যবসায়ীরা ধানের দাম বেঁধে দেওয়ায় ধানের দাম প্রতি মণে দাম কমেছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। আর চিকন জাতের কমেছে ৩০ টাকা।
বর্তমানে নওগাঁয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চাল জিরাশাইল ৫৮ টাকা, মোটা জাতের স্বর্ণা ৪৪/৪৫ টাকা, মোটা বিআর-২৮ জাতের ৫২ টাকা, কাটারিভোগ ৬০টাকা। আগে বিক্রি হয়েছে জিরাশাইল ৬০ টাকা, মোটা জাতের স্বর্ণা ৪৭/৪৮ টাকা, মোটা বিআর-২৮ জাতের ৫৫ টাকা, কাটারিভোগ ৬৩/৬৪টাকা।
নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাউল ব্যবসায়ী সমিতির চাউল ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, নগেন্দ্র পালসহ অন্যরা জানান, নওগাঁয় চালের কোন ঘাটতি নেই। সরকার চাল আমদানি ঘোষণা দেওয়ায় এক দিকে নওগাঁর মিলারদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার থেকে কম ধান কিনছে অন্যদিকে তাদের গুদামে হাজার হাজার মেট্রিকটন মজুত করা চাল সরবরাহ করছেন। জেলার মিল ও চালের আড়ৎদাররা কম দামে চাল বিক্রি করায় নতুন চালে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ২ টাকা থেকে ৩ টাকা।
নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রæপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করলেও চাল আমদানি ঘোষণার পর বাজার থেকে মিলার ধান কেনা বন্ধসহ গুদামে মজুতকৃত চাল বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে এই চাল কল মিল নেতা।
ধান-চাল বিশ্লেষক জয়নাল আবেদিন মুকুল জানান, সরকারের চেয়ে ব্যবসায়ীদের মজুত করার ক্ষমতা বেশি এবং সরকারি গুদামে ধান-চাল কম মজুত থাকায় ধান-চাল বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে মিলারদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা অথবা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে চাল উৎপাদন করে সরকারি গুদামে মজুত বাড়াতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাল আমদানি ঘোষণার পরই নওগাঁয় ধান-চালের দাম কমেছে

প্রকাশিত : ০৪:০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২১

বিদেশে থেকে চাল আমদানি ঘোষণার পরই নওগাঁর মিল ও বড়বড় চাল আড়ৎদাররা ধান কেনা বন্ধ করে দেন। এর ফলে বাজারে প্রতি মণে ধানে কমেছে চিকন জাতে ২০ টাকা এবং মোটা জাতে ৫০ টাকা। অপরদিকে মিল ও বড়বড় চাল আড়ৎদারদের গুদামে মজুতকরা চাল বাজারে সরবরাহ করায় চালে প্রতি মণে কমেছে ১শ’ টাকা থেকে দেড়শ’ টাকা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলরা অভিযোগ করে বলেন, আমন ধান-কাটা মাড়াইয়ের ভরা মৌসুমেও মিল ও চাল আড়ৎদারদের কারসাজিতেই ধানের তুলনায় চালের বেশি দাম কমেছে।
সরকারের সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় প্রায় প্রতি বছর নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলছে ধান-চালের বাজার। সময়ের দাবি বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি ধান-চাল বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় পরপর চার বারের বন্যায় ৫ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমির ধান সম্পন্নভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার পর জেলায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান উৎপাদন হয়েছে। গড়ে হেক্টর প্রতি চালের আকারে উৎপাদিত হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। এতে জেলায় মোট ৬ লাখ ১২ হাজার ১শ’ ৭৫ মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ হাজার ১শ’ ১৫ মেট্রিক টন বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে।
জানা গেছে, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁয়। নওগাঁয় প্রতি বছর জেলার ১৬ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হলেও দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জেলার চাল কল মিলগুলোতে খাদ্য বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করায় নিয়ন্ত্রণ আসেনি ধান-চালের বাজার। সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন ভ‚মিকা পালন করার সুযোগে জেলার কয়েকজন বড়বড় ধান-চাল মিলার ও ব্যবসায়ী লাখ লাখ মেট্রিকটন মজুত করে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে বেশি ফায়দা লুটেছেন। ফলে গত মাসখানেক আগে আবারও ধানের বাজার বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি পায় নওগাঁর বাজারে।
নওগাঁ সদরের ঝাড়গ্রামের নাজমুল হক, শরিফপুর গ্রামের বায়েন উদ্দিন, মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌড়ী গ্রামের লজির উদ্দিনসহ অনেক কৃষককের সাথে কথা হয় ধান কেনা-বেচার হাট মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌড়ীতে। কৃষকরা জানান, গত আমন মৌসুমে তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধেক ধান অর্থাৎ কম উৎপাদন হয়েছে। গত আমন মৌসুমে প্রতি বিঘায় র্স্বণা ২০ মণ থেকে ২৪ মণ, জিরাশাইল ১০ মণ থেকে ১৬ মণ উৎপাদন হয়েছে। চলতি মৌসুমে অতি বর্ষ, কারেন্ট পোকাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেখানে মাত্র র্স্বণা ১০ মণ থেকে ১৪ মণ, জিরাশাইল ৫ মণ থেকে ১০ মণ উৎপাদন হয়েছে। তবে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের শুরু থেকে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খরচ ঘরে উঠে আসছে। তবে অনেক বর্গ চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ধানের ভালো দাম না পাওয়ায়।
নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রæপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, জেলায় গত আমন মৌসুমের তুলনায় চলতি আমন মৌসুমে ধান কম উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ ঘরে বসে বাম্পার ফলনের তথ্য সরকারের কাছে দিয়েছে। ফলে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগ ঘরে বসে ধান উৎপাদনের হিসেব সরকারের কাছে না দিয়ে মাঠ পর্যয়ের সঠিক তথ্য দিলে সরকার আরো আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারতো। কৃষি বিভাগকে ঢেলে সাজানোর দাবিও জানান তিনি।
এমতাবস্তায় গত সপ্তাহে সরকারি ভাবে বিদেশ থেকে চাল আমদানি ঘোষণা দেওয়ায় পর নওগাঁর মিল ব্যবসায়ীরা হাট-বাজার থেকে ধান কেনা বন্ধ করে দেন। পরে মিল ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া দামে ধান কিনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ীদের। ফলে বাজারে মোটা জাতের প্রতি মণে দাম কমেছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। আর চিকন জাতের কমেছে ৩০ টাকা।
রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে শনিবার হাটে কথা হয় ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ীদের। আমজাদ হোসেন, কাশেম সরদারসহ অন্যরা জানান, সরকারের চাল আমদানি ঘোষণা দেওয়ার আগে বাজারে জিরাশাইল ধান প্রতি মণ ১৩২০ টাকা থেকে ১৩৩০ টাকা এবং মোটা জাতের স্বর্ণা ১১৪০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা কেনা বেচা হয়েছে। চাল আমদানি করার ঘোষণা দেওয়ারপর মিল ব্যবসায়ীরা ধান কেনা বন্ধ করে দেন। দু’দিনপর আবারো মিল ব্যবসায়ীরা ধানের দাম বেঁধে দেওয়ায় ধানের দাম প্রতি মণে দাম কমেছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। আর চিকন জাতের কমেছে ৩০ টাকা।
বর্তমানে নওগাঁয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চাল জিরাশাইল ৫৮ টাকা, মোটা জাতের স্বর্ণা ৪৪/৪৫ টাকা, মোটা বিআর-২৮ জাতের ৫২ টাকা, কাটারিভোগ ৬০টাকা। আগে বিক্রি হয়েছে জিরাশাইল ৬০ টাকা, মোটা জাতের স্বর্ণা ৪৭/৪৮ টাকা, মোটা বিআর-২৮ জাতের ৫৫ টাকা, কাটারিভোগ ৬৩/৬৪টাকা।
নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাউল ব্যবসায়ী সমিতির চাউল ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, নগেন্দ্র পালসহ অন্যরা জানান, নওগাঁয় চালের কোন ঘাটতি নেই। সরকার চাল আমদানি ঘোষণা দেওয়ায় এক দিকে নওগাঁর মিলারদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার থেকে কম ধান কিনছে অন্যদিকে তাদের গুদামে হাজার হাজার মেট্রিকটন মজুত করা চাল সরবরাহ করছেন। জেলার মিল ও চালের আড়ৎদাররা কম দামে চাল বিক্রি করায় নতুন চালে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ২ টাকা থেকে ৩ টাকা।
নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রæপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করলেও চাল আমদানি ঘোষণার পর বাজার থেকে মিলার ধান কেনা বন্ধসহ গুদামে মজুতকৃত চাল বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে এই চাল কল মিল নেতা।
ধান-চাল বিশ্লেষক জয়নাল আবেদিন মুকুল জানান, সরকারের চেয়ে ব্যবসায়ীদের মজুত করার ক্ষমতা বেশি এবং সরকারি গুদামে ধান-চাল কম মজুত থাকায় ধান-চাল বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে মিলারদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা অথবা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে চাল উৎপাদন করে সরকারি গুদামে মজুত বাড়াতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ