১২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন আলোচনায় কাঞ্চন মুন্সীকে স্মরণ

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন আলোচনায় কাঞ্চন মুন্সীকে স্মরণ আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, কামারগ্রামকে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আজ থেকে প্রায় ৮৪ বছর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন মরহুম কাঞ্চন মুন্সী। তিনি যদি সেদিন স্কুল প্রতিষ্ঠা না করতেন তাহলে গ্রামের অনেকেই ক্ষেতে-খামারে কাজ করে দিন পার করতে হতো।

সোমবার বেলা ১১টায় মরহুম কাঞ্চন মুন্সীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী এই স্মরণসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘মরহুম কাঞ্চন মুন্সী এ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে আজ আমরা এখানে বসে তাকে স্মরণ করতে পারছি। কাঞ্চন মুন্সী একাডেমী থেকে পড়াশোনা করেছেন এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই সরকারের সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হয়েছেন।

এটি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বেরও বটে।’ কামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নূর ইসলম লিটন বলেন, ‘শুধু কাঞ্চন একাডেমী নয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ও তিনি স্থাপন করেছেন। এছাড়া ঈদগাহ, হাসপাতাল এবং মৃত্যুর পর মানুষের সম্মানজনক বিদায়ের জন্য কবরস্থান স্থাপন করে মানুষের মধ্যে চিরঅমর হয়ে আছেন তিনি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজা মিয়া বলেন, ‘কর্মস্থল কলকাতা থেকে যখন তিনি জাহাজে করে গ্রামে আসতেন। জাহাজ থেকে নামার আগে শত শত মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করতো। কার কী প্রয়োজন সব তিনি শুনতেন। আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি বেকার জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিতেন।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা অলিয়ার রহমান বলেন, ‘তিনি সুদূর কলকাতা বসে কামারগ্রামবাসীর কথা ভাবতেন। কীভাবে এলাকার উন্নয়ন করা যায় এই চিন্তা করতেন। তিনি এই গ্রামে জন্মেছিলেন বলেই পাশ্ববর্তী অনেক গ্রামের চেয়ে আগেই উন্নয়নের ছোঁয়া এখানে লেগেছিল।’ সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাওসার প্রামাণিক, গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির শিক্ষক তাজিকুর রহমান, আবিদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন, বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা নাছির উদ্দীন মিয়া ও হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বড়লেখায় ৪,০০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন আলোচনায় কাঞ্চন মুন্সীকে স্মরণ

প্রকাশিত : ০৪:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ জানুয়ারী ২০২১

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন আলোচনায় কাঞ্চন মুন্সীকে স্মরণ আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, কামারগ্রামকে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আজ থেকে প্রায় ৮৪ বছর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন মরহুম কাঞ্চন মুন্সী। তিনি যদি সেদিন স্কুল প্রতিষ্ঠা না করতেন তাহলে গ্রামের অনেকেই ক্ষেতে-খামারে কাজ করে দিন পার করতে হতো।

সোমবার বেলা ১১টায় মরহুম কাঞ্চন মুন্সীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী এই স্মরণসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘মরহুম কাঞ্চন মুন্সী এ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে আজ আমরা এখানে বসে তাকে স্মরণ করতে পারছি। কাঞ্চন মুন্সী একাডেমী থেকে পড়াশোনা করেছেন এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই সরকারের সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হয়েছেন।

এটি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বেরও বটে।’ কামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নূর ইসলম লিটন বলেন, ‘শুধু কাঞ্চন একাডেমী নয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ও তিনি স্থাপন করেছেন। এছাড়া ঈদগাহ, হাসপাতাল এবং মৃত্যুর পর মানুষের সম্মানজনক বিদায়ের জন্য কবরস্থান স্থাপন করে মানুষের মধ্যে চিরঅমর হয়ে আছেন তিনি।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজা মিয়া বলেন, ‘কর্মস্থল কলকাতা থেকে যখন তিনি জাহাজে করে গ্রামে আসতেন। জাহাজ থেকে নামার আগে শত শত মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করতো। কার কী প্রয়োজন সব তিনি শুনতেন। আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি বেকার জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিতেন।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা অলিয়ার রহমান বলেন, ‘তিনি সুদূর কলকাতা বসে কামারগ্রামবাসীর কথা ভাবতেন। কীভাবে এলাকার উন্নয়ন করা যায় এই চিন্তা করতেন। তিনি এই গ্রামে জন্মেছিলেন বলেই পাশ্ববর্তী অনেক গ্রামের চেয়ে আগেই উন্নয়নের ছোঁয়া এখানে লেগেছিল।’ সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাওসার প্রামাণিক, গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির শিক্ষক তাজিকুর রহমান, আবিদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন, বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা নাছির উদ্দীন মিয়া ও হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।