ঢাকা রাত ১২:১৬, রবিবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পরিবর্তনের অগ্রদূত শেখ হাসিনা

আপন স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল এক নাম শেখ হাসিনা, যে নামটি আজ সারা বিশ্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
করছে। একজন শেখ হাসিনা কিভাবে সমস্যা-সঙ্কুল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বে দরবারে বাংলাদেশের গৌরব
নিশান উড়িয়েছেন- তা আজ অবাক বিশ্ময়ে দেখছে বিশ্ববাসী। আধুনিক বিশ্বের বাঘা বাঘা সব অর্থনীতিবেত্তা ও
গবেষকরা আজ বিশ্লেষণে ব্যস্ত বাংলার এমন এক সূর্যকন্যার উন্নয়ন কৌশল নিয়ে, যিনি উঠে এসেছেন বাংলার
কাদা-জল থেকে, সোদা মাটির মদিরতাময় গন্ধ গায়ে মেখে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আদর্শ, দয়া, ঔদার্যবুকে নিয়ে। শেখ হাসিনার মমতাময় উদার জমিনে আজ ১৮
কোটি বাঙালির নিরাপদ শান্তিময় আবাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা মানেই সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অব্যাহত যাত্রা; যেই যাত্রার শুরু
হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। অনুন্নত আর স্বল্প আয়ের দেশকে উন্নয়নের
অভিগামিতায় পৌঁছে দিতে শেখ হাসিনার চতুর্মুখী কর্মপরিকল্পনার সুফল আজ বাংলাদেশের সব জায়গায়
সম্প্রসারিত। শেখ হাসিনা আসলে শত্রর আগুনের ছাই আর পাষাণ রক্তগঙ্গা বেয়ে উঠে আসা এক লৌহমানবী,
যিনি বেদনার বিষে নীলকণ্ঠি হয়েও জাতিকে সমৃদ্ধির পথে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন অসীম মমতায়।

শুধু টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেই নয়, গত এক যুগের পথচলায় শেখ হাসিনাকে আরও বেশি নজর
দিতে হয়েছে অতি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের প্রাসঙ্গিক ঘটনাপ্রবাহে। মানুষের পাঁচটি নাগরিক
মৌলিক অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে নতুন কর্ম প্রকল্পে সারা দেশকে ঢেলে সাজানো এবং গোছানো
হয়েছে তা ক্রমাগতই উজ্জ্বল আলোকে উদ্ভাসিত। অর্জন-বিসর্জনের হরেক রকম টানাপোড়েনে এখন অবধি
প্রাপ্তির পাল্লাই ভারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শনিষ্ঠ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে যে মাত্রায় দেশ ও জাতিকে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করা
হয়েছে তাতে প্রবৃদ্ধির উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তবে এখন অবধি
সমস্যাসঙ্কুল বিপন্ন পথ পাড়ি দিতেও সরকারকে নানা মাত্রিকে ভাবার অবকাশ থেকে যাচ্ছে। বছরজুড়ে সারা
বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও করোনার বহুল সংক্রমণে আক্রান্তই শুধু নয়, তাকে সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্য খাতের
দুর্বিষহ চিত্রও দেখতে হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি আর অনৈতিক কার্যকলাপকে সমূলে উৎখাত করতে হলে
আরও কঠিন পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর চিত্রও আশ্বস্ত হওয়ার
মতোই। তার পরেও সমূহ বিপর্যয়কে ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট কর্মতৎপরতায় এগিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম প্রতিনিয়ত দেখা
যাচ্ছে। কিšদ দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির দাপট আর সীমাহীন ঔদ্ধত্যে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির
পাঁয়তারা চলছে তেমন দুঃসহ যাত্রাপথকেও সামাল দিতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর নিয়ে যে অশুভ
পদচারণা তাতে সারা জাতি বিক্ষুব্ধ এবং প্রতিবাদ প্রতিরোধে উত্তাল। উন্নয়নের এক যুগ পূর্তির শুভক্ষণে আর
বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে পা রাখার সন্ধিক্ষণে কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই দেশের যে অভাবনীয় উন্নয়ন
তাতে কারও কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়।

করোনা সঙ্কটকে যেভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে তাতে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের
অবস্থান শুধু ভালই নয় বরং দ্বিতীয় ঢেউ আসার প্রাক্কালে খুব বেশি অস্বস্তিতে এখন অবধি পড়তে হয়নি। সাধারণ
মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যে মাত্রায় উপেক্ষিত তার তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের খুব বেশি যে
ভুগতে হচ্ছে তা কিšদ বলা যাবে না। আমাদের জলবায়ু পারিপার্শ্বিক প্রতিবেশ, পরিশ্রমী শরীরে রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকার কারণে গ্রামগঞ্জ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনার থাবায় নাকাল হওয়ার মতো দুঃসহ অবস্থা
এখনও তৈরি হয়নি। তবে এই ব্যাধিতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হলেও সুস্থতার হার সবাইকে স্বস্তি দিচ্ছে।

উন্নয়নের বহুমাত্রিক গতিধারায় সাময়িক অবরুদ্ধতার জাল বিস্তার করলেও তাকে খুব সতর্কতা এবং সাবধানতায়
নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও উঠে এসেছেন এক অনন্য উচ্চতায়, যেখানে
বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারীর জায়গায় সরকারপ্রধান ৩১তম। এও এক অনবদ্য সফলতা। ফোর্বসের বার্ষিক
প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর এই আসন গত দুই বছর থেকে সবাইকে মুগ্ধ করছে। প্রসঙ্গত এসেই যায় বাংলাদেশের
নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী ভূমিকা। উন্নয়নের যে নিরন্তর অগ্রযাত্রা সেখানে অর্ধাংশ নারী বাদ
পড়লে সামগ্রিক সমৃদ্ধি কখনও দৃশ্যমান হতো না। যে মাত্রায় দেশের সুবিধা বঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের
বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনায় একীভূত করা হয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক সেবায় তাদের সম্পৃক্ততা এসেছে তাও
নারীদের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় এগিয়ে যাওয়ার অনবদ্য কর্মকৌশল। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতি বাংলাদেশের নারী
সমাজের উৎসাহ-উদ্দীপনা কমই ছিল। শিক্ষকতা, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা কিংবা চিকিৎসা সেবায় নিজেদের
নিরবচ্ছিন্ন রাখার মধ্যে নারীর কর্মজগত সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সার্বিক চিত্র একেবারে ভিন্ন। ব্যবসা বাণিজ্যের
প্রতি সাধারণ নারীদের আগ্রহ এবং সম্পৃক্ত হওয়ার বাসনা প্রতিনিয়তই বেড়ে যাওয়ার চিত্র আমাদের বিস্মিত
করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের অংশগ্রহণ দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ ৬৫ জন নারীর বিপরীতে ৩৫
জন পুরুষ এখন এই এসএমই খাতে নিজেদের অবর্ণনীয় অবদানে দেশকে অনন্য যাত্রাপথে এগিয়ে দিচ্ছে।
করোনার দুঃসময়েও দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেভাবে থেমেও নেই।

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৃহত্তর সড়ক-মহাসড়ক, সেতু আর কালভার্ট নব উদ্যমে বিনির্মাণ দেশে
যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার এক অভাবনীয় সাফল্য। সবচেয়ে ঈর্ষণীয় ব্যাপার হলো পন্সা সেতু। এ সেতু
নির্মাণের চমৎকার চিত্র দেশের মানুষকে বিস্মিত করছে। নিজস্ব অর্থায়নে পন্সা সেতু বিনির্মাণ জাতির অহঙ্কার
আর গৌরবের বিষয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পন্সা সেতুর মাধ্যমে যে অবিমিশ্র যোগাযোগ তৈরি হবে তাতে
শুধু যাতায়াতের সুফলই নয়, তার চেয়েও বেশি শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হওয়ারও এক অপার সম্ভাবনা
সৃষ্টি হবে। অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ছাড়াও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলো আধুনিক যাত্রাপথের
অংশীদার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অনমনীয় কর্মপ্রকল্পের ধারাবাহিকতায় দেশটাকে যে মাত্রায় সমৃদ্ধ
করে তুলছেন সেখানে শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা বৃহত্তর এশিয়াই নয়, সারা বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে
বাংলাদেশ তার আসনটি অচিরেই পেয়ে যেতে আর পেছনের দিকে তাকাতেও হবে না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মধ্যেও আগুন সন্ত্রাসের ভয়াবহ কর্মকান্ডে সারাদেশ
বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার চিত্রও এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার নয়। নির্ভীক ও দুঃসাহসী শেখ হাসিনা কোন
ধরনের অকারণ ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধতাকে একেবারে তোয়াক্কাই করেননি। ঘাতক-দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে
তাদের আইনী বিধান কার্যকর করতে সমস্ত সমস্যা শঙ্কুল অশনি সঙ্কেতকে দৃঢ় মনোবলে অতিক্রম করতে
প্রধানমন্ত্রীর জুড়ি মেলা ভার। অদম্য তেজ আর দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধে স্বাধীনতার শত্রদের মোকাবেলা
করতে গিয়ে যা যা কারণীয় সবটাই করেছেন নির্দ্বিধায়, নিঃসংশয়ে। বঙ্গবন্ধুর দৃপ্ত চেতনার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন থেকে
জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূলমন্ত্রে যে মাত্রায় নিজেকে উজ্জীবিত করেছেন সেভাবে দেশ ও জাতির মধ্যে
তা ছড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি। এ বছরটা অনেক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিভিন্নভাবে
উল্লেখযোগ্যও বটে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী থেকে শুরু করে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীর
যাত্রাপথ শুরু হওয়া ছাড়াও শেখ হাসিনা সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার যুগসন্ধিক্ষণ। সব কিছু সাজানো-
গোছানো হয়েছে উৎসব-আয়োজন ছাড়াও বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনায় উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশকে উপহার
দেয়ার এক মহান ব্রত নিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন অনুকরনীয় নেতৃত্ব খাদ্য নিরাপত্তা, শান্তি চুক্তি, সমুদ্র বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন,
অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় সমুজ্জ্বল। প্রাণবন্ত হাসি নিয়ে চুয়াত্তর বছর
বয়সে দাঁড়িয়েও নিরলস তারুণ্যে কাজ করে যাচ্ছেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে, যে সোনার
বাংলায় থাকবে না ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যেই অতন্দ্র প্রহরী হয়ে আজো বেঁচে আছেন
একজন শেখ হাসিনা, যিনি কোটি বাঙালির নির্ভরতার স্থান, যাঁর কাছে দেশ ও জাতির চেয়ে বড় কিছু নাই।

উন্নয়নের পথ প্রদর্শক

শেখ হাসিনার দিনবদলের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০০৮ সালে। ২৯শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
৩০০টির মধ্যে ২৬৪ টি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করলে শুরু হয় রুপকল্প ২০২১ এর
পথে শুভযাত্রা। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌছেছে, বর্তমানে দেশের মানুষের
মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২০৬৪ মার্কিন ডলার, দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছে ২০ শতাংশ, এক কোটি বেকারের
কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের রায়ের
পরিপুর্ণ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

একাত্তরের চেতনার অতন্দ্র প্রহরী

বাংলাদেশের পতাকা যারা ধ্বংস করতে চেয়েছিলো, তাদের হাতে পতাকা সুরক্ষিত নয়। কিšদ পুর্ববর্তী সরকার,
সেই যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা বহনের সুযোগ করে দিয়েছিলো মন্ত্রী করে। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে,
শেখ হাসিনে জাতিকে সেই লজ্জা থেকে নিস্কৃতি দিয়েছেন। তিনি বহু আকাংক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু
করেছেন। তাঁর সরকারের অধীনেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। চারজন কুখ্যাত দাগী
যুদ্ধাপরাধীর ইতোমধ্যেই ফাঁসীতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আরো অনেকেই বিচারের অপেক্ষায়
আছে। এই বিচার ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৩ লক্ষ নির্যাতিত নারীর আত্মার সম্মান রক্ষার জন্যে।

বিশ্বশান্তির দূত

প্রথম শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১) শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার
মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙ্গালীদের মধ্যের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংগ্রামের সমাপ্তি হয়। ১৯৯৮ সালের
১০ই ফেব্রæয়ারি, শান্তি বাহিনীর প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র লাড়মা খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে
অস্ত্র সমর্পন করে। ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনা ভারত পাকিস্তানকে পরমাণু যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার আহবান
জানান। শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। এর আগে দুই দেশের মধ্যে
পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামুলক বিহ্নোরণের কারনে উত্তেজনা চলছিলো। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বা মানবতার মা হিসেবে ভূষিত হয়েছেন
তিনি। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক
সংস্থাসহ সরকারি উদ্যোগে শরনার্থীদের নিশ্চিত অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক চাহিদার যোগান
নিশ্চিত করছে।

বিশ্ব কূটনীতিতে দূরদর্শীতা

দুরদর্শী বিদেশ নীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর
সাথে সর্বকালের সবেচেয়ে নৈকট্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে সমর্থ হয়েছেন। পার্বত্য শান্তি চুক্তির জন্যে তিনি
ইউনেসকো শান্তি পুরস্কার পান। ১৯৯৮ সালে তিনি নিখিল ভারত পরিষদের কাছ থেকে মাদার তেরেসা পদকও
পান। ১৯৯৯ সালের ১৫ই মে, তিনি হেগ শান্তি পরিষদের সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। ১৯৯৯ সালে,
শেখ হাসিনা সেরেস শান্তি পদক পান যা বিশ্ব খাদ্য পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানদের দেয়া সর্বোচ্চ
পুরস্কার।

গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক

দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে অগ্রণী ভুমিকা রাখেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ বিরোধী দেশি-বিদেশি
শক্তির প্রত্যক্ষ্য মদদে ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ৬
বছর নির্বাসনে থেকে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন। সেই থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ৯টি দীর্ঘ বছর রাজপথে নেতৃত্ব
দিয়ে গেছেন সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল হয়
প্রধান বিরোধী দল।

শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে।
সেই সময় তার সরকার যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণ করে, যা ছিলো সেই সময় বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুর তালিকায়
একাদশতম। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময়, তাঁর সরকার ২ কোটি বন্যা দুর্গত মানুষকে বিনামুল্যে খাদ্য প্রদান
করে।

২০০১ থেকে আবারো জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায় শুরু হয়। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসে।
যুদ্ধাপরাধীদেরকে দেয়া হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এই সময়েই জঙ্গীবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। ৬৪
জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকার
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তার জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের সর্বাত্মক আন্দোলনের ফলে সাজানো
নির্বাচন বাতিল করতে বাধ্য হয় ততকালীন সরকার। জরুরী অবস্থা ঘোষিত হয়। নতুন তত্ত¡াবধায়ক সরকার
গঠন হয়। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হয়। ২০০৭ এর ১৬ জুলাই তাঁকে
গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে তাঁকে ২০০৮ এর ১১জুন প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি চিকিৎসার জন্যে বিদেশ
যান এবং ডিসেম্বরের ৪ তারিখে দেশে ফিরেন। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা তাঁর নির্বাচনী
ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া বিজয় লাভ করে। তাঁর
এই শাসনামলে, জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয় ৬.৫১ শতাংশ, সকল খাতের ডিজিটালাইজেশন করা হয়,
অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়, জঙ্গীবাদ কঠোর ভাবে দমন করা হয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
ও রায় রায় কার্যকর শুরু হয়।

রুপকল্প-২০২১ এ সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং ভরসার জন্যে সাধারন মানুষ তাঁকে ২০১৪ তে নির্বাচিত করে।
এই বার, তাঁর সরকার নিজ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে পন্সাসেতু নির্মাণ শুরু করে যা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে
রাজধানী ঢাকার সাথে সংযুক্ত করবে। একই সঙ্গে ঢাকায় মেট্রো রেইল প্রকল্প, দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ
প্রকল্প, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণ, জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীতকরণ সহ আরো কিছু মেগা প্রকল্প হাতে
নিয়ে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালেও টানা তৃতীয়বারের মতো জাতীয়
নির্বাচনে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় জির্বাচনে জয়লাভ করে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন
শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের শুরুতেই সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশে যখন করোনাসংকটে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি
হয়েছে তখন তা মোকাবিলায় দ্রæত নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লক্ষ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই
সাথে নিম্ম আয়ের মানুষদের জন্য সারাদেশে ব্যপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
সার্বভৌমত্বের প্রতীক

শেখ হাসিনার দূরদর্শী বৈদেশিক নীতির কারণে ভারতীয় লোকসভায় ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি পাশ হয়েছে।
এর ফলে ছিটমহলবাসীর চার শতকের দুঃখ দুর্দশার অবসান হয়েছে। তার ২০০৯-২০১৪ শাসনামলে,
বাংলাদেশ দুইটি ঐতিহাসিক সমুদ্র সীমান্ত মামলায় জয়লাভ করে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে। বাংলাদেশ
ভারতের সাথে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯,৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার
জায়গা পায়।

সততা, নিষ্ঠা ও নির্লোভ ভালবাসার কারণে শেখ হাসিনা স্থান করে নিয়েছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ের
মনিকোঠায়। বাংলাদেশের পরিবর্তনের অগ্রদূত শেখ হাসিনা হাজার বছর ধরে বেঁচে রইবেন বাঙালির হৃদয়
থেকে হৃদয়ে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ