১১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মাথা ন্যাড়ার পর গৃহবধূকে ১৫ দিন অবরুদ্ধ করে নির্যাতন

নিয়ামতপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে প্রায় ১৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধূর মা থানায় অভিযোগ করেছেন।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি হাজির হয় পুলিশ। ঘটনার সত্যতায় স্বামী আব্দুর রাজ্জাক (৩৮) ও শাশুড়ি রহিমাকে (৫৮) আটক করে। এছাড়া অবরুদ্ধ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে হাজিনগর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের মৃত মমতাজের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় ভাবিচা ইউনিয়নের আমইল গ্রামের (কার্নিপাড়া) বাসিন্দা মৃত আসির উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ি নির্যাতন করত গৃহবধূর ওপর।

সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর তার ওপর চলে পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতন শেষে ব্লেড দিয়ে গৃহবধূর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ যুগান্তরকে জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে মাঝে-মধ্যেই মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করত তার স্বামী। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করতেন শাশুড়ি রহিমা। মাঝে মধ্যে দুইজনেই তাকে নির্যাতন করতেন।

তিনি জানান, ঘটনার রাতে নির্যাতন শেষে স্বামী-শাশুড়ি দুজনে মিলে ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে ফেলে তাকে। মায়ের বাড়ির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এমনকি এ ঘটনা পাড়া-পড়শি বা মায়ের বাড়ির কাউকে জানানো হলে পরিণতি আরও খারাপ হবে বলেও হুমকি দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

গৃহবধূর মা হাফিজা জানান, কয়েক দিন থেকে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। শেষে মেয়েকে দেখার জন্য মঙ্গলবার মেয়ের বাড়ি হাজির হন। কিন্তু মেয়ের বাড়ির লোকজন কেউ তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিলে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন। অবশেষে স্থানীয় পাড়া-প্রতিবেশীর সহযোগিতায় মেয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর মেয়েকে দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। মেয়ে ন্যাড়া হয়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিছানায়। মেয়ের এমন অবস্থা দেখে এবং তার কাছে সব কথা শুনে থানা পুলিশকে সংবাদ দেন তিনি।

ওসি হুমায়ন কবীর জানান, গৃহবধূর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে অবরুদ্ধ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহবধূর ওপর নির্যাতনসহ তর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়ায় স্বামী আবদুর রাজ্জাক ও শাশুড়ি রহিমাকে আটক করা হয়েছে। পরদিন বুধবার গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে ওই মামলায় স্বামী ও শাশুড়িকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি মারা গেছেন

মাথা ন্যাড়ার পর গৃহবধূকে ১৫ দিন অবরুদ্ধ করে নির্যাতন

প্রকাশিত : ০৭:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

নিয়ামতপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে প্রায় ১৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধূর মা থানায় অভিযোগ করেছেন।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি হাজির হয় পুলিশ। ঘটনার সত্যতায় স্বামী আব্দুর রাজ্জাক (৩৮) ও শাশুড়ি রহিমাকে (৫৮) আটক করে। এছাড়া অবরুদ্ধ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে হাজিনগর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের মৃত মমতাজের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় ভাবিচা ইউনিয়নের আমইল গ্রামের (কার্নিপাড়া) বাসিন্দা মৃত আসির উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ি নির্যাতন করত গৃহবধূর ওপর।

সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর তার ওপর চলে পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতন শেষে ব্লেড দিয়ে গৃহবধূর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ যুগান্তরকে জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে মাঝে-মধ্যেই মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করত তার স্বামী। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করতেন শাশুড়ি রহিমা। মাঝে মধ্যে দুইজনেই তাকে নির্যাতন করতেন।

তিনি জানান, ঘটনার রাতে নির্যাতন শেষে স্বামী-শাশুড়ি দুজনে মিলে ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে ফেলে তাকে। মায়ের বাড়ির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এমনকি এ ঘটনা পাড়া-পড়শি বা মায়ের বাড়ির কাউকে জানানো হলে পরিণতি আরও খারাপ হবে বলেও হুমকি দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

গৃহবধূর মা হাফিজা জানান, কয়েক দিন থেকে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। শেষে মেয়েকে দেখার জন্য মঙ্গলবার মেয়ের বাড়ি হাজির হন। কিন্তু মেয়ের বাড়ির লোকজন কেউ তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিলে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন। অবশেষে স্থানীয় পাড়া-প্রতিবেশীর সহযোগিতায় মেয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর মেয়েকে দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। মেয়ে ন্যাড়া হয়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিছানায়। মেয়ের এমন অবস্থা দেখে এবং তার কাছে সব কথা শুনে থানা পুলিশকে সংবাদ দেন তিনি।

ওসি হুমায়ন কবীর জানান, গৃহবধূর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে অবরুদ্ধ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহবধূর ওপর নির্যাতনসহ তর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়ায় স্বামী আবদুর রাজ্জাক ও শাশুড়ি রহিমাকে আটক করা হয়েছে। পরদিন বুধবার গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে ওই মামলায় স্বামী ও শাশুড়িকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।