ঢাকা রাত ১০:২৪, শনিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ঐতিহ্যবাহী গরুরগাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা

আবহমান কাল থেকে কৃষকের হালচাষের অবিচ্ছেদ্য অংশ গরু। গরুরগাড়ি ব্যবহার করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল পরিবহণের কাজ করে থাকে। নিরীহ গৃহপালিত প্রাণী সেই গরু আর গাড়ি হয়ে উঠেছে মানুষের বিনোদনের অংশ। আধুনিকতার এই যুগে যান্ত্রিকগাড়ির প্রতিযোগীতায় হারিয়েই যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুরগাড়ি। দিন দিন কমে এর যাচ্ছে ব্যবহার। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে রোববার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহি গরুরগাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি এ প্রতিযোগীতা দেখতে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার দর্শক। সকাল থেকে খেলা দেখতে আশে পাশের গ্রামসহ দূরদুরান্ত থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসতে থাকে। দুপুর গড়াতেই এ দৌড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।

প্রতিযোগিতা শুরুর আগেও অংশগ্রহনকারী গরুগুলো দেখা যায় শান্ত স্বভাব। কিন্তু জোয়াল কাঁধে দেওয়ার পর কর্তার হাতের ছোঁয়ায় যেন মুহুর্তে পাল্টে যায় চরিত্র। একে অপরকে পেছনে ফেলতে ছুটতে থাকে। যা দেখে উচ্ছ¡ছিত উপস্থিত নারী-পুরুষ শিশুরা। গান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।

দিনভর এ খেলায় যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা থেকে বাছাই করা ৩৮টি গরুর গাড়ি অংশ নেয়। খেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরের আবু সাঈদ। পুরস্কার হিসেবে তার হাতে তুলে দেয়া হয় একটি গরু। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার খালিদুর রহমান। তাকে দেওয়া হয়েছে একটি বাইসাইকেল ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন বেতাই গ্রামের আমিরুল খাঁ। তাকে একটি ছাগল উপহার দেওয়া হয়।

ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা রুবেল হোসেন নামের এক দর্শক বলেন, গরু গৃহপালিত প্রাণী। মানব জীবনে এর উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু গরুর গাড়ি যে মানুষকে আনন্দ দিতে পারে তা এখানে না এলে তা বুঝতাম না।

শাহেদ নামের আরও একজন বলেন, আধুনিক যুগে এসে গরুর গাড়ির এমন দৌড় প্রতিযোগিতা এই বেতাই গ্রামে এসে দেখে আমাদের খুব ভালো লাগছে। আমরা অনেক দুর থেকে এসছি। আমাদের খুবই ভালো লাগছে। তাই প্রতিনিয়ত আয়োজন করার দাবি তার।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, এই গান্না একসময় সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন মানুষ গান্নায় বিনোদনের জন্য আসে। সমাজ থেকে অন্যায় অপরাধ, মাদক দুর করতে হলে এ ধরনের বিনোদনের কোন বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের আয়োজক সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, গত ৯ বছর যাবত এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের আনন্দ দেওয়ার জন্য আর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা সম্ভব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ