প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশে বিমান তৈরি করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার ১৪তম বিমান উৎপাদনকারী দেশ।
প্রতিবেশি দেশ ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড, যার মোট ইক্যুয়িটির পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাংলাদেশে চলমান মেগাপ্রকল্পগুলোর মধ্যে সাতটি মেগা প্রকল্পেই এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা। তাই হিসাব বলছে, বিমান উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় কোন চ্যালেঞ্জ নয়।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘লালমনিরহাটে প্লেন তৈরি করবো, কোনো চিন্তা নেই। এভিয়েশন ও এরোস্পেস ইউনিভার্সিটি হলে পুরো এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এসব এলাকা এক সময় খুবই অবহেলিত ছিল। এ কারণে লালমনিরহাটে এভিয়েশন ও এরোস্পেস ইউনিভার্সিটি তৈরি হচ্ছে।’
এ পর্যন্ত এশিয়ার তেরটি দেশ বিমান উৎপাদন করছে। দেশগুলো হলো: জাপান, চীন, সাউথ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইজরায়েল, তুরস্ক, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও পাকিস্তান।
২০১২ সালের ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের ঘোষাণা দেন। তখন প্রায় সবার কাছেই এই ঘোষণা অবিশ্বাস্য মনে হলেও ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ২ মিনিটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানটি বসেছে। তাই বিমান উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের পক্ষে নিকট ভবিষ্যতেই সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকরা।
জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন গবেষক ড. আতিউর রহমান বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি যিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন এবং তিনি অনেক দূরে দেখতে পান। সাহসী স্বপ্ন দেখাটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় গুণ। মানুষ তার স্বপ্নের মতোই বড় হয়। প্রধানমন্ত্রীর সকল স্বপ্নই আমরা একে একে বাস্তবায়িত হতে দেখেছি। আমরা জাতি হিসেবে প্রধানামন্ত্রীর স্বপ্নের ওপরে বিশ্বাস করি।’ তাই বিমান উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ তার প্রথম এভিয়েশন এন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে। লালমনিরহাটে বাস্তবায়নাধীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে গত ১৭ ডিসেম্বর। অ্যারোস্পেস গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উড়োজাহাজ নির্মাণ, মেরামত, স্যাটেলাইট নির্মাণ এবং লঞ্চিং বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।
২০১৮ সালের ১১ জুলাই এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ইউজিসি খসড়া আইন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএএইউ) প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন দেয়। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা তেজগাঁওয়ে অবস্থিত পুরাতন বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ৬ মে এয়ার ভাইস মার্শাল এএইচএম ফজলুল হককে ভাইস চ্যাঞ্জেলর হিসেব নিয়োগ দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বলেছিলেন, এদেশের তরুণদের মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রশিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস গবেষণায় সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লালমনিরহাটে বৈমানিক, বিমান প্রকৌশল ও মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার তাত্তিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বহুজাতিক কোম্পানি, হাইর্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়, স্বনামধন্য অ্যাভিয়েশন কোম্পানি ও বিবিধ এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করার প্রচেষ্টা ও প্রত্যয়ে ইউরোপীয় বহুজাতিক কোম্পানি এয়ারবাসের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি, সারে ইউনিভার্সিটি এবং জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারসহ ইউরোপের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়টি ইন্ডাষ্ট্রির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি নজির স্থাপন করেছে। এর ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সক্ষম হবে।
জানা গেছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম করা হবে। এসব হলো- বিএসসি ইন এএমই অ্যারোস্পেস, বিএসসি ইন এএমই অ্যাভিওনিক্স, বিএসসি ইন এমই, বিএসসি ইন ইইই এবং বিএসসি ইন সিএসই।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর






















