০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ডুমুরিয়ার কাঠাঁলতলার ভদ্রার তীরে আনন্দের মহোৎসব

মরা ভদ্রার তীরে আনন্দের মহোৎসব। উচ্ছাস আর উল্লাসে আছড়ে পড়ছে ডুমুরিয়ার কাঠালঁতলার মরা ভদ্রার তীর। মুজিব বর্ষের সেরা উপহার গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরসহ জমি প্রদানের উদ্বোধনী দিন আগামীকাল শনিবার। ডুমুরিয়ার ভিটেমাটি হীন ঘরহারা ৬৪ ছিন্নমুল পরিবারের সদস্যরা আজকের এ মাহেন্দ্রাক্ষণের অপক্ষোয় প্রহর গুনছেন। তাদের সাথে সারা দেশের ন্যায় মুখিয়ে আছে ভদ্রা তীরের সকল স্তরের মানুষসহ ডুমুরিয়াবাসী।খোদ প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে সুবিধাভোগিদের সাথে কথা বলবেন। হস্তান্তর করবেন সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা নব নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো। সাথে জমির দলিল, পর্চাসহ সকল পত্রাদি। আর যে কারণে মরা ভদ্রা সেজেছে নব সাজে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে একযোগে ভার্সুয়ালি মুজিববর্ষের সেরা উপহার গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরসহ জমি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন আজ সকাল ১০ টায় । তবে দেশের ৪টি উপজেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলবেন ও ঘরসহ সকল দলিলাদি হস্তান্তর করবেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় যুক্ত হবেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুবিধা নিয়ে এই প্রথম কোন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ডুমুরিয়ায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের টেকনিক্যাল টিম। ডুমুরিয়ার ১৪০টি ঘরের মধ্যে কাঠালতলায় নির্মিত হয়েছে ৬৪টি ঘর।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনা জেলায় ‘ক’ শ্রেণীর তালিকাভুক্ত ভ‚মিহীন ও গৃহহীন ৫ হাজার ৮৮টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে গৃহ প্রদান করা হবে। এর অংশ হিসেবে খুলনা জেলা প্রশাসকের তত্ত¡াবধানে জেলার ৯টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৯২২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে দিনমজুর ৫৭০ জন, শ্রমিক ৩২ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ৩ জন, কৃষক ২০১ জন, গৃহিনী ৫৮ জন, প্রতিবন্ধী ৪ জন, ভ্যানচালক ২৮ জন, ভিক্ষুক ১২ জন ও অন্যান্য পেশার ১৪ জন। প্রথম দফার তালিকা তৈরিতে ভূমিহীনদের মধ্য থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বলদের অগ্রধিকার দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় দেড় হাজার ঘর নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম ডুমুরিয়ায় অবস্থান করছেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রধানমন্ত্রী ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলায় সরাসরি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলার সম্মতি জ্ঞাপনে আমরা গর্বিত। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা তা বাস্তবায়ন করছেন। ডুমুরিয়ার সুবিধাভোগীদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন এ জন্য ডুমুরিয়াবাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, গৃহহারা ভুমিহীনদের অত্যাধুনিক ঘর ও দলিল, পর্চা, মিউটেশনের কাগজসহ সকল প্রত্রাদি তুলে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা আবারও প্রমান করলেন তিনি গরীব ও অসহায় মানুষের পরম বান্ধব।

উল্লেখ্য, ‘দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়-২ প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকগণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১ এবং ‘যার জমি আছে কিন্তু ঘর নাই’ এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে ৬৬ হাজার একশ ৮৯টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানসহ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়াও ২১ জেলার ৩৬ উপজেলার ৪৪টি প্রকল্পে ৩ হাজার সাতশ ১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নবীগঞ্জে বীমা কোম্পানির গ্রাহক সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

ডুমুরিয়ার কাঠাঁলতলার ভদ্রার তীরে আনন্দের মহোৎসব

প্রকাশিত : ০৪:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১

মরা ভদ্রার তীরে আনন্দের মহোৎসব। উচ্ছাস আর উল্লাসে আছড়ে পড়ছে ডুমুরিয়ার কাঠালঁতলার মরা ভদ্রার তীর। মুজিব বর্ষের সেরা উপহার গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরসহ জমি প্রদানের উদ্বোধনী দিন আগামীকাল শনিবার। ডুমুরিয়ার ভিটেমাটি হীন ঘরহারা ৬৪ ছিন্নমুল পরিবারের সদস্যরা আজকের এ মাহেন্দ্রাক্ষণের অপক্ষোয় প্রহর গুনছেন। তাদের সাথে সারা দেশের ন্যায় মুখিয়ে আছে ভদ্রা তীরের সকল স্তরের মানুষসহ ডুমুরিয়াবাসী।খোদ প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে সুবিধাভোগিদের সাথে কথা বলবেন। হস্তান্তর করবেন সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা নব নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো। সাথে জমির দলিল, পর্চাসহ সকল পত্রাদি। আর যে কারণে মরা ভদ্রা সেজেছে নব সাজে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে একযোগে ভার্সুয়ালি মুজিববর্ষের সেরা উপহার গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরসহ জমি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন আজ সকাল ১০ টায় । তবে দেশের ৪টি উপজেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলবেন ও ঘরসহ সকল দলিলাদি হস্তান্তর করবেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় যুক্ত হবেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুবিধা নিয়ে এই প্রথম কোন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ডুমুরিয়ায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের টেকনিক্যাল টিম। ডুমুরিয়ার ১৪০টি ঘরের মধ্যে কাঠালতলায় নির্মিত হয়েছে ৬৪টি ঘর।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনা জেলায় ‘ক’ শ্রেণীর তালিকাভুক্ত ভ‚মিহীন ও গৃহহীন ৫ হাজার ৮৮টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে গৃহ প্রদান করা হবে। এর অংশ হিসেবে খুলনা জেলা প্রশাসকের তত্ত¡াবধানে জেলার ৯টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৯২২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে দিনমজুর ৫৭০ জন, শ্রমিক ৩২ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ৩ জন, কৃষক ২০১ জন, গৃহিনী ৫৮ জন, প্রতিবন্ধী ৪ জন, ভ্যানচালক ২৮ জন, ভিক্ষুক ১২ জন ও অন্যান্য পেশার ১৪ জন। প্রথম দফার তালিকা তৈরিতে ভূমিহীনদের মধ্য থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বলদের অগ্রধিকার দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় দেড় হাজার ঘর নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম ডুমুরিয়ায় অবস্থান করছেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রধানমন্ত্রী ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলায় সরাসরি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলার সম্মতি জ্ঞাপনে আমরা গর্বিত। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা তা বাস্তবায়ন করছেন। ডুমুরিয়ার সুবিধাভোগীদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন এ জন্য ডুমুরিয়াবাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, গৃহহারা ভুমিহীনদের অত্যাধুনিক ঘর ও দলিল, পর্চা, মিউটেশনের কাগজসহ সকল প্রত্রাদি তুলে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা আবারও প্রমান করলেন তিনি গরীব ও অসহায় মানুষের পরম বান্ধব।

উল্লেখ্য, ‘দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়-২ প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকগণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১ এবং ‘যার জমি আছে কিন্তু ঘর নাই’ এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে ৬৬ হাজার একশ ৮৯টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানসহ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়াও ২১ জেলার ৩৬ উপজেলার ৪৪টি প্রকল্পে ৩ হাজার সাতশ ১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ