০৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে খাগড়াছড়িতে বিজু উৎসব শুরু

​পাহাড়িপল্লীগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। আজ রোববার (১২ত্রপ্রিল) ভোরে খাগড়াছড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু’ শুরু হয়েছে। এটি মূলত পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক রঙিন আয়োজন।

​ভোর হওয়ার আগেই পাহাড়ি তরুণ-তরুণী ও শিশুরা বন থেকে সংগ্রহ করা নানা রঙের বুনো ফুল নিয়ে নদীর ঘাটে জড়ো হতে থাকেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তারা গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা করেন এবং নদীর স্বচ্ছ জলে ফুল ভাসিয়ে নিজেদের পরিবার ও দেশের সুখ-শান্তি কামনা করেন। চাকমা ভাষায় এই দিনটিকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’।

​ফুল বিজুর পরেই আগামীকাল সোমবার পালিত হবে উৎসবের মূল দিন ‘মূল বিজু’। সেদিন প্রতিটি বাড়িতে তৈরি করা হবে বিশেষ খাবার ‘পাজন’। এরপরের দিন মঙ্গলবার নববর্ষ বা ‘গজ্যাপজ্যা বিজু’।

​খাগড়াছড়ি সদরের চেঙ্গী নদী ছাড়াও দীঘিনালা, পানছড়ি,মাটিরাঙ্গা,রামগড়,মানিকছড়ি,গুইমারা ও মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নদী ও ছড়াতেও একযোগে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শহরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

​উৎসব পালন করতে আসা স্থানীয়রা জানান, এটি কেবল চাকমাদের নয়, বরং পাহাড়ের সব মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গত দুই বছরের তুলনায় এবার পর্যটকদের আনাগোনাও বেশি দেখা যাচ্ছে। রঙিন ফুল আর জলখেলার এই আবহে পুরো পাহাড়ে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।

বর্ষবরণের এই বর্ণিল আয়োজনে পাহাড়ের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন সাজ সাজ রব। বর্ণাঢ্য র‍্যালি, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং জলকেলি বা পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে এক অন্যরকম আমেজে মেতেছে সব বয়সের মানুষ।

ডিএস,

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নবীগঞ্জে বীমা কোম্পানির গ্রাহক সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে খাগড়াছড়িতে বিজু উৎসব শুরু

প্রকাশিত : ০৫:২৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

​পাহাড়িপল্লীগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। আজ রোববার (১২ত্রপ্রিল) ভোরে খাগড়াছড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু’ শুরু হয়েছে। এটি মূলত পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক রঙিন আয়োজন।

​ভোর হওয়ার আগেই পাহাড়ি তরুণ-তরুণী ও শিশুরা বন থেকে সংগ্রহ করা নানা রঙের বুনো ফুল নিয়ে নদীর ঘাটে জড়ো হতে থাকেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তারা গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা করেন এবং নদীর স্বচ্ছ জলে ফুল ভাসিয়ে নিজেদের পরিবার ও দেশের সুখ-শান্তি কামনা করেন। চাকমা ভাষায় এই দিনটিকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’।

​ফুল বিজুর পরেই আগামীকাল সোমবার পালিত হবে উৎসবের মূল দিন ‘মূল বিজু’। সেদিন প্রতিটি বাড়িতে তৈরি করা হবে বিশেষ খাবার ‘পাজন’। এরপরের দিন মঙ্গলবার নববর্ষ বা ‘গজ্যাপজ্যা বিজু’।

​খাগড়াছড়ি সদরের চেঙ্গী নদী ছাড়াও দীঘিনালা, পানছড়ি,মাটিরাঙ্গা,রামগড়,মানিকছড়ি,গুইমারা ও মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নদী ও ছড়াতেও একযোগে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শহরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

​উৎসব পালন করতে আসা স্থানীয়রা জানান, এটি কেবল চাকমাদের নয়, বরং পাহাড়ের সব মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গত দুই বছরের তুলনায় এবার পর্যটকদের আনাগোনাও বেশি দেখা যাচ্ছে। রঙিন ফুল আর জলখেলার এই আবহে পুরো পাহাড়ে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।

বর্ষবরণের এই বর্ণিল আয়োজনে পাহাড়ের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন সাজ সাজ রব। বর্ণাঢ্য র‍্যালি, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং জলকেলি বা পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে এক অন্যরকম আমেজে মেতেছে সব বয়সের মানুষ।

ডিএস,