চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আশ্বস্ত করার মতো নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। বিপুল পরিমাণ মানুষ প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোট সংশ্লিষ্ট কাজে যারা নিয়োজিত থাকবেন তাদের সকল প্রার্থীর প্রতি সমান নজর রাখতে হবে। যাতে এটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না উঠে। তিনি আরও বলেন, ইভিএম ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। নির্বাচনের বর্তমান পরিবেশ ধরে রাখতে হবে। সকল প্রার্থী যেন সমান অধিকার পায় এবং নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলে সেটি সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। অর্থাৎ ৭২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১০টিই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৩১৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৮ জন ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও মোতায়েন থাকবে ২৫ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া নির্বাচনের দিন মাঠে থাকবেন ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আবদুল ওয়ারিশ বলেন, কেন্দ্রগুলোর অতীতের সহিংসতার ইতিহাস, প্রার্থীদের অবস্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৯ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল টিমে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সব কেন্দ্রে কাজ করবে। নির্বাচনী প্রচারের প্রতিদিনই ঘটছে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরসহ ছোট-বড় সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা। এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সহিংসতায় আহত হয়েছেন। নির্বাচনের দিন বা এর আগে পরে সংঘাত-সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ আশঙ্কায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এরই মধ্যে কেন্দ্রে নির্বাচনী বুথ পাহারায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠিও দিয়েছেন।চসিক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন ৭৭৫ প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৮৮৬ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৯ হাজার ৭৭২ পোলিং অফিসার। এছাড়াও অতিরিক্ত ৫ শতাংশসহ ১৬ হাজার ১৬৩ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে থাকবে ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথ। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার চসিক নির্বাচনে ভোটার ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৩ ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৯ জন।নির্বাচনী মেয়র পদে আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মেয়র প্রার্থী ৭ জন। এছাড়া ১৬৩ জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ৫৬ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, চসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বচনে বিজিবিসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান




















