শীত যতই বাড়ছে পর্যটকদের ভীড় ততই বাড়ছে কুয়াকাটা সৈকতে । গত বৃহস্পতি, শুক্র ও আজ শনিবার কুয়াকাটা সৈকতে হাজার হাজার পর্যটকদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। দুই দিনের সরকারি ছুটিসহ অপেক্ষাকৃত একটু কম শীত থাকায় কুয়াকাটায় পর্যটকের এখন উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ওইসব পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঘুরে বেড়িয়েছেন সৈকত এলাকায়। এসবে তাগিদ নেই প্রশাসনের। নেই কোন সচেতনতামুলক প্রচারণাও। দেখভালের দায়িত্বে থাকা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির তদারকি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে সমুদ্র সৈকত এলাকায় মুক্ত বাতাসে মাস্ক পরে বেড়ানো পর্যটকদের কাছে অস্বস্তিকর বলে একাধিক পর্যটকরা জানিয়েছেন।
শুক্রবার ও শনিবার শেষ বিকেলে সৈকতের বেলাভূমি জুড়ে অসংখ্য পর্যটকের পদচারনায় মূখর ছিল সৈকত এলাকা। সূর্যাস্তেরর মনোরম দৃশ্য অবলোকনে সমুদ্রের পাড়ে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। শনিবার ভোরে কনকনে শীত উপেক্ষা করে হাজারো পর্যটক যুগল সৈকতে নেমে আসে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা সূর্যি মামাকে এক পলক দেখার জন্য কেউ মটর বাইক, থ্রী হুইলার গাড়ীতে আবার কেউ বা পায়ে হেটে সৈকতে পূর্বদিকে ছুটে গেছে। পিকনিক পার্টির ভিড় ছিল লক্ষণীয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেট কার ও পরিবহন যোগে পারিবারিক এবং মহল্লা ভিত্তিক গ্রপ বনভোজনে আসে দল বেধে। কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল-মোটেল গুলোতে তিলধারনের ঠাই ছিল না। খাবার হোটেল, ঝিনুক মার্কেট, শুটকী পল্লীতে বেচা কেনার ধুম পরেছিল। সূর্যাস্ত সূর্যোদয় দেখা ছাড়াও কুয়াকাটার কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, মিশ্রিপাড়ার সীমা বৌদ্ধবিহার, রাখাইন তাতঁ পল্লী, কুয়াকাটার প্রাচীন নৌকা, লেম্ফুর চর বনাঞ্চল, সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরার বন, ফকির হাট, চরবিজয়, লাল কাকড়ার চর সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট ঘুরে বেড়িয়েছে পর্যটকরা। এছাড়া সমুদ্রে গোসল, হইহুল্লোড়, ঘুড়ি উড়ানো, বীচ ফুটবল, হা ডু ডু সহ নানা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে পর্যটকরা। তবে খাবার হোটেলের মান এবং দাম নিয়ে পর্যটকের ক্ষোভ রয়েছে। সৈকতের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা।
আবাসিক হোটেল সৈকতের স্বত্বাধিকারী মো.জিয়াউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তার হোটেলের বেশিরভাগ কক্ষই বুকিং ছিল। পটুয়াখালীর দুমকী থেকে ভ্রমণে আসা শিক্ষক ও গনমাধ্যম কর্মী মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমে কুয়াকাটায় প্রতিবছরই ছুটে আসি। প্রকৃতির টানে আমার মত অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন। কিন্ত এখানে সৈকতের যত্রতত্র শুটকী প্রক্রিয়াজাত, জাল নৌকা, ময়লা আবর্জনা, খাবার হোটেলের পরিত্যক্ত ময়লার দূর্গন্ধ পর্যটকদের জন্য অস্বাস্থ্যকর।’
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহরাব হোসাইন জানান, পর্যটকের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষনিক সতর্ক ছিল। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রাম্যমান টহল ছিল যাতে পর্যটকরা নির্বিঘে বেড়াতে পারে। সকল পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।




















