১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় দিনেও আইনজীবিদের আদালত বর্জন

নওগাঁয় পুলিশ কর্ত্তৃক তিন আইনজীবি আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ এনে দায়ী পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে দ্বিতীয় দিনেও আদালত বর্জন অব্যাহত রয়েছে। গত ২ দিন ধরে আইনজীবিরা আদালত বর্জন করায় জেলার বিচার প্রার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তীর মুখে পড়তে হয়েছে।
আইনজীবিদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের হল রুমে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটুর সভাপতিত্বে এক সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভা শেষে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটু জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার মধ্যে দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এই জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিতে বিচার প্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে আগামী রবিবার থেকে কালো ব্যাজ ধারন করে আদালতের কার্যক্রমে অংশ গ্রহন শুরু করা হবে। তবে ঘটনার সু বিচার দাবিতে হাইকোটে রিট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সভায় পুলিশ কতৃর্ক আইনজীবিদের মারপিটের বিষয়টি এ্যাডভোকেট বার কাউন্সিল ও দেশের সকল বার এ্যাসোসিয়েশনে অবহিত করণ ও তাদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশের অনুরোধ জানানো হবে। সেই সাথে এ্যাডভোকেট বার কাউন্সিল এর মাধ্যমে হাইকোটে এ ঘটনায় সু বিচার চেয়ে রিট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পরে আইজীবিদের এক মৌন মিছিল আদালত চত্তর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনে এসে শেষ হয়।
উল্লেখ্য যে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এ্যাড. আবু সাঈদ মুরাদ পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করার সময় প্রধান গেইটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাধা প্রদান করে। নিজেকে আইনজীবি পরিচয় দেয়ার পরও তাকে ঢুকতে দেয়া হয় না বরং তাকে অশালীন ভাবে গালিগালাজ করা হয় বলে প্রহৃত আইনজীবি মুরাদ জানান। এর প্রতিবাদ করায় সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রাজিব, পুলিশ সদস্য মুক্তার হোসেনসহ ১০/১৫ জন পুলিশ সদস্যরা মুরাদকে লাঠিসোটা দিয়ে মারপিট শুরু করে। উপস্থিত আইনজীবিরা এগিয়ে এলে আরো ২ আইনজীবিকে লাঞ্ছিত করে পুলিশ তাদেরও তাড়া করে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের উদ্দেশ্যে রাইফেল তাক করে বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। পরে সকল কোর্টে আইনজীবিরা তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আদালত চত্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে বার এ্যসোসিয়েশন মিলনায়তনে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। জেলা বারের সভাপতি এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কোর্টের সকল কার্যক্রম বন্ধসহ মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে দোষী পুলিশদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও শাস্তির দাবী জানানো হয়েছিল।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাকিবুল আক্তার সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সকালে আদালতে প্রবেশ মুখে এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ আজ

দ্বিতীয় দিনেও আইনজীবিদের আদালত বর্জন

প্রকাশিত : ০৫:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২১

নওগাঁয় পুলিশ কর্ত্তৃক তিন আইনজীবি আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ এনে দায়ী পুলিশদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে দ্বিতীয় দিনেও আদালত বর্জন অব্যাহত রয়েছে। গত ২ দিন ধরে আইনজীবিরা আদালত বর্জন করায় জেলার বিচার প্রার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তীর মুখে পড়তে হয়েছে।
আইনজীবিদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের হল রুমে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটুর সভাপতিত্বে এক সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভা শেষে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটু জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার মধ্যে দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এই জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিতে বিচার প্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে আগামী রবিবার থেকে কালো ব্যাজ ধারন করে আদালতের কার্যক্রমে অংশ গ্রহন শুরু করা হবে। তবে ঘটনার সু বিচার দাবিতে হাইকোটে রিট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সভায় পুলিশ কতৃর্ক আইনজীবিদের মারপিটের বিষয়টি এ্যাডভোকেট বার কাউন্সিল ও দেশের সকল বার এ্যাসোসিয়েশনে অবহিত করণ ও তাদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশের অনুরোধ জানানো হবে। সেই সাথে এ্যাডভোকেট বার কাউন্সিল এর মাধ্যমে হাইকোটে এ ঘটনায় সু বিচার চেয়ে রিট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পরে আইজীবিদের এক মৌন মিছিল আদালত চত্তর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনে এসে শেষ হয়।
উল্লেখ্য যে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এ্যাড. আবু সাঈদ মুরাদ পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করার সময় প্রধান গেইটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাধা প্রদান করে। নিজেকে আইনজীবি পরিচয় দেয়ার পরও তাকে ঢুকতে দেয়া হয় না বরং তাকে অশালীন ভাবে গালিগালাজ করা হয় বলে প্রহৃত আইনজীবি মুরাদ জানান। এর প্রতিবাদ করায় সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রাজিব, পুলিশ সদস্য মুক্তার হোসেনসহ ১০/১৫ জন পুলিশ সদস্যরা মুরাদকে লাঠিসোটা দিয়ে মারপিট শুরু করে। উপস্থিত আইনজীবিরা এগিয়ে এলে আরো ২ আইনজীবিকে লাঞ্ছিত করে পুলিশ তাদেরও তাড়া করে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের উদ্দেশ্যে রাইফেল তাক করে বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। পরে সকল কোর্টে আইনজীবিরা তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আদালত চত্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে বার এ্যসোসিয়েশন মিলনায়তনে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। জেলা বারের সভাপতি এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কোর্টের সকল কার্যক্রম বন্ধসহ মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে দোষী পুলিশদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও শাস্তির দাবী জানানো হয়েছিল।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাকিবুল আক্তার সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সকালে আদালতে প্রবেশ মুখে এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ