১০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে বেড়েছে স্বর্ণ আমদানি

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর যেন স্বর্ণের খনিতে পরিণত হয়েছে। দুবাই থেকে বিমানের ফ্লাইট এলেই মিলছে শত শত পিস স্বর্ণের বার। তবে গত চার মাসে এই রুটে বৈধভাবে ৩৪ হাজার পিস বা চার মেট্রিক টন স্বর্ণের বার আনা হয়েছে। আর এ খাতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। চোরাচালান ঠেকাতে কড়াকড়ি অবস্থান নেওয়ায় স্বর্ণের বার বৈধ করার হার বাড়ছে বলে মনে করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে এখন দুবাই থেকে ফ্লাইট নামলেই যাত্রীদের ভিড় লেগে যায় কাস্টমস অফিসের সামনে। যাত্রীদের এ ভিড় স্বর্ণ বৈধ করার প্রক্রিয়া। গত জানুয়ারি মাসেই যাত্রীরা বৈধ করেছে ১১ হাজার ৬২ পিস স্বর্ণের বার। অবশ্য এর আগের মাসে ডিসেম্বরে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণের বার বৈধ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ২৬০ পিস। প্রতি মাসেই এখন শাহ বিমানবন্দরে গড়ে স্বর্ণ থেকে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব হাসান বলেন, অবৈধপথে স্বর্ণের বার নিয়ে আসা কমেছে। তারা অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ জন্য তারা বৈধ স্বর্ণ নিয়ে আসতেছে।

একজন যাত্রী ২২ হাজার টাকা হারে শুল্ক পরিশোধ করে দুটি পর্যন্ত স্বর্ণের বার বৈধ করার সুযোগ পান। আর বৈধ পথে স্বর্ণের আসতে থাকায় চোরাচালান এখন শূন্যের কোঠায়। গত বছরের অক্টোবর মাসে দুটি ফ্লাইট থেকে উদ্ধার করা হয় চোরাই পথে আনা ২৪২ পিস স্বর্ণের বার। তখন থেকেই বৈধ পথে আনার পরিমাণ বাড়ছে।

সিএমপি উপকমিশনার মিলন মাহমুদ বলেন, কেউ যদি বৈধ পথে অতিরিক্ত স্বর্ণ আনার পর কিছু অবৈধ নিয়ে আসে সেটাও চেক করেছি। এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে বৈধ পথে আনা বিপুল স্বর্ণের বারের গন্তব্য নিয়ে। চট্টগ্রামের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব স্বর্ণের অলংকার তৈরির জন্য তাদের কাছে আনা হয় না।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি সদস্য ত্রিদেব ধর বলেন, তারা কী কারণে স্বর্ণ মজুত করছে তা জানা যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। টাকার মান কমে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে চোরাচালান হয়ে আসা ১৯৩ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ হলেও বৈধভাবে স্বর্ণ আনার তেমন নজির ছিল না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ আজ

চট্টগ্রামে বেড়েছে স্বর্ণ আমদানি

প্রকাশিত : ১১:২১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর যেন স্বর্ণের খনিতে পরিণত হয়েছে। দুবাই থেকে বিমানের ফ্লাইট এলেই মিলছে শত শত পিস স্বর্ণের বার। তবে গত চার মাসে এই রুটে বৈধভাবে ৩৪ হাজার পিস বা চার মেট্রিক টন স্বর্ণের বার আনা হয়েছে। আর এ খাতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। চোরাচালান ঠেকাতে কড়াকড়ি অবস্থান নেওয়ায় স্বর্ণের বার বৈধ করার হার বাড়ছে বলে মনে করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে এখন দুবাই থেকে ফ্লাইট নামলেই যাত্রীদের ভিড় লেগে যায় কাস্টমস অফিসের সামনে। যাত্রীদের এ ভিড় স্বর্ণ বৈধ করার প্রক্রিয়া। গত জানুয়ারি মাসেই যাত্রীরা বৈধ করেছে ১১ হাজার ৬২ পিস স্বর্ণের বার। অবশ্য এর আগের মাসে ডিসেম্বরে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণের বার বৈধ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ২৬০ পিস। প্রতি মাসেই এখন শাহ বিমানবন্দরে গড়ে স্বর্ণ থেকে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব হাসান বলেন, অবৈধপথে স্বর্ণের বার নিয়ে আসা কমেছে। তারা অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ জন্য তারা বৈধ স্বর্ণ নিয়ে আসতেছে।

একজন যাত্রী ২২ হাজার টাকা হারে শুল্ক পরিশোধ করে দুটি পর্যন্ত স্বর্ণের বার বৈধ করার সুযোগ পান। আর বৈধ পথে স্বর্ণের আসতে থাকায় চোরাচালান এখন শূন্যের কোঠায়। গত বছরের অক্টোবর মাসে দুটি ফ্লাইট থেকে উদ্ধার করা হয় চোরাই পথে আনা ২৪২ পিস স্বর্ণের বার। তখন থেকেই বৈধ পথে আনার পরিমাণ বাড়ছে।

সিএমপি উপকমিশনার মিলন মাহমুদ বলেন, কেউ যদি বৈধ পথে অতিরিক্ত স্বর্ণ আনার পর কিছু অবৈধ নিয়ে আসে সেটাও চেক করেছি। এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে বৈধ পথে আনা বিপুল স্বর্ণের বারের গন্তব্য নিয়ে। চট্টগ্রামের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব স্বর্ণের অলংকার তৈরির জন্য তাদের কাছে আনা হয় না।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি সদস্য ত্রিদেব ধর বলেন, তারা কী কারণে স্বর্ণ মজুত করছে তা জানা যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। টাকার মান কমে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে চোরাচালান হয়ে আসা ১৯৩ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ হলেও বৈধভাবে স্বর্ণ আনার তেমন নজির ছিল না।