০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

টাঙ্গাইলে সাংবাদিকের উপর হামলা

টাঙ্গাইলে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি এ কে বিজয়ের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি বিবদমান জমিতে ঘর তোলা নিয়ে গ্রামের দু’পক্ষের বাদানুবাদের সময় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি জমি নিয়ে পরিষদের সঙ্গে গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। আজ রবিবার সকালে ওই জমিতে হিন্দু পরিবারটি ঘর তোলার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবিও স্থানীয়দের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দ্রুতই সেখানে দুটি পক্ষের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে একদল বাড়ি বানানোর পক্ষে ও অপরপক্ষ তাদের বাধা দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্বপালনে গিয়ে ছবি তুলছিলেন বাংলা ট্রিবিউনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি এ কে বিজয়। এসময় হঠাৎ করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কিছু লোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিজয়ের গায়ে হাত তোলে। তারা এলোপাতাড়িভাবে বিজয়কে মারধর করে। মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি কোনোমতে রক্ষা পান। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস কক্ষে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবি বলেন, সাংবাদিক বিজয় আমার পূর্ব পরিচিত। প্রিয় মানুষ। পাশাপাশি গ্রামের মানুষ। ওই পরিবারটি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গার গাছ কেটে সেখানে ঘর তোলার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। চেয়ারম্যান হিসেবে আমিও বাধা দেই। আমি এ সময় সাংবাদিক বিজয়কে ডেকে আনি। তিনি সেখানে এসে ছবি তুলছিলেন। কিন্তু, ওই সময়ে কিছু লোক তার গায়ে হাত তুলেছে। এজন্য আমি ভীষণ দুঃখিত।
আহত সাংবাদিক এনায়েত করিম বিজয় বলেন, চেয়ারম্যান খবর দেওয়ায় সেখানে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ অনেক লোক জড়ো হয় সেখানে। তারা সেখানে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। হঠাৎ স্থানীয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে কিছু লোক এসে আমাকে ভীষণ মারতে থাকে। হেলমেট পরা থাকায় আমি কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পাই। তারা আমার সারা শরীরে মেরেছে। আমি ব্যথায় নড়তে পারছি না।
ঘটনার সময় সেখানে কয়েকজন পুলিশ থাকলেও তারা হামলার সময় দায়িত্ব পালন করেনি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবিও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়া সাংবাদিক বিজয়ের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা বাসাইল থানার এসআই বিল্লাল বলেন, সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। আমরা তিনজন বাইরে ছিলাম। এরমধ্যে এই ঘটনা ঘটে। পরে আমরা জনগণকে ঠেলে ভেতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। ওসি, এসিল্যান্ডসহ প্রশাসনের লোকজন আসছেন। তারা আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ওষুধ কারখানার শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে সাংবাদিকের উপর হামলা

প্রকাশিত : ০৪:১৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

টাঙ্গাইলে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি এ কে বিজয়ের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি বিবদমান জমিতে ঘর তোলা নিয়ে গ্রামের দু’পক্ষের বাদানুবাদের সময় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি জমি নিয়ে পরিষদের সঙ্গে গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। আজ রবিবার সকালে ওই জমিতে হিন্দু পরিবারটি ঘর তোলার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবিও স্থানীয়দের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দ্রুতই সেখানে দুটি পক্ষের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে একদল বাড়ি বানানোর পক্ষে ও অপরপক্ষ তাদের বাধা দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্বপালনে গিয়ে ছবি তুলছিলেন বাংলা ট্রিবিউনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি এ কে বিজয়। এসময় হঠাৎ করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কিছু লোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিজয়ের গায়ে হাত তোলে। তারা এলোপাতাড়িভাবে বিজয়কে মারধর করে। মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি কোনোমতে রক্ষা পান। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস কক্ষে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কাউলজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবি বলেন, সাংবাদিক বিজয় আমার পূর্ব পরিচিত। প্রিয় মানুষ। পাশাপাশি গ্রামের মানুষ। ওই পরিবারটি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গার গাছ কেটে সেখানে ঘর তোলার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। চেয়ারম্যান হিসেবে আমিও বাধা দেই। আমি এ সময় সাংবাদিক বিজয়কে ডেকে আনি। তিনি সেখানে এসে ছবি তুলছিলেন। কিন্তু, ওই সময়ে কিছু লোক তার গায়ে হাত তুলেছে। এজন্য আমি ভীষণ দুঃখিত।
আহত সাংবাদিক এনায়েত করিম বিজয় বলেন, চেয়ারম্যান খবর দেওয়ায় সেখানে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ অনেক লোক জড়ো হয় সেখানে। তারা সেখানে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। হঠাৎ স্থানীয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে কিছু লোক এসে আমাকে ভীষণ মারতে থাকে। হেলমেট পরা থাকায় আমি কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পাই। তারা আমার সারা শরীরে মেরেছে। আমি ব্যথায় নড়তে পারছি না।
ঘটনার সময় সেখানে কয়েকজন পুলিশ থাকলেও তারা হামলার সময় দায়িত্ব পালন করেনি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবিও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়া সাংবাদিক বিজয়ের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা বাসাইল থানার এসআই বিল্লাল বলেন, সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। আমরা তিনজন বাইরে ছিলাম। এরমধ্যে এই ঘটনা ঘটে। পরে আমরা জনগণকে ঠেলে ভেতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। ওসি, এসিল্যান্ডসহ প্রশাসনের লোকজন আসছেন। তারা আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ