মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত ভোটাররা এমন তথ্যও ওঠে এসেছে মাঠ থেকে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশন।
সূত্র জানায়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এখানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন এসএম হানিফ। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছেন মো. কামাল হোসেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীকে মশিউর রহমান সবুজ ও চামচ প্রতীক নিয়ে সোহেল রানা মিঠু নির্বাচন করছেন। এদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা মার্কার প্রার্থী লুৎফর রহমান তিনিও মাঠে রয়েছেন।
গত শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন কালকিনির স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। দুপুর ২টার দিকে সবুজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। তাৎক্ষণিক সেখানে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিরউদ্দিন গাড়ি নিয়ে হাজির হন। পরে সেখান থেকে সবুজকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পরই নিখোঁজ হয় সবুজ। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ নিয়ে কালকিনি থানা ঘেরাও করে সবুজের সমর্থকরা।
টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কালকিনি-ভুরঘাটা-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে বিক্ষোভ মিছিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় নৌকা প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকরা। পরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হয় উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ। আড়াই ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
নিখোঁজের ১৩ ঘণ্টা পর শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ কৃষ্ণনগর নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন মশিউর রহমান সবুজ। এরপর পরই আলোচনায় ওঠে আসা কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়টি।
মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা-১-এর (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইমেইলে এসেছে।
সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে কী কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে তার কারণ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।




















