নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বসতি এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে কয়লার ডাম্পিং। ভোগান্তিতে শিকার এলাকায় ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ । হুমকীর মুখে বীর প্রতিক গাজী সেতু। কর্মহীন হয়ে পড়েছে এলাকার ৫০টি কৃষক পরিবার। প্রতিবাদ করায় নিজস্ব বাহিনী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এলাকার নিরীহ মানুষ। মানববন্ধন করায় চাদাঁবাজি মামলার শিকার হয়েছেন ৭টি পরিবার। প্রশাসন মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা করলেও বর্তমানে বহাল তবিয়তে চলছে কয়লার ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন উত্তরা ট্রের্ডাস প্রাইভেট লিমিটেড।
রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ার দড়িকান্দি এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বীর প্রতিক গাজী সেতু সংলগ্ন কয়লা ব্যবসা চলছে। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসন কে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। বর্তমানে ব্যবসা আরও স¤প্রসারিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, মুড়াপাড়ার দড়িকান্দি এলকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বীর প্রতিক গাজী সেতু সংলগ্ন মীম শরৎ রাইস মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে উত্তরা ট্রের্ডাস প্রাইভেট লিমিটেড কয়লার অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে। আর এ কয়লার দূষন -দূভোগের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। বাতাসে কয়লার ধুলা উড়ে। প্রখর রোদে কয়লায় আগুন জ্বলে। পাশের স্কুল, প্রায়শই মাদ্রাসার শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে নষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। পাশর্^বর্তী মসজিদের নামায পড়তে পারছেনা মুসুল্লীরা। বিকেলে সেতুতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও দূষনের শিকার হচ্ছে । সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনে থাকা যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, এক সময় শীতলক্ষ্যা চর এলাকায় ৫০টি পরিবার সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। কয়লার ডাম্পিং করার পর এ চরে আর সবজি হচ্ছেনা। বর্তমানে ঐ পরিবারগুলো উপার্জন না থাকায় কোন রকম কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সবজি চাষী জানায়, শীতের সময় প্রতিবছর এই চরে সবজি চাষ করে তা বিক্রি করে ১ লাখ টাকা উর্পাজন করত। কয়লার ডামিম্পং এর কারনে এ চরে সবজি হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুড়াপাড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলকায় শীতলক্ষ্যা নদীপাড়ে বীর প্রতিক গাজী সেতু সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে কয়লার ডাম্পিং করা হয়েছে। সেখানে স্তুপ করে কয়েকটি সারিতে কয়লা রাখা হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কালো পাহাড়। চারদিকে কয়লার ধুলা উড়ছিল। কিছু শ্রমিক কয়লা স্তুপের অগুন নেভানো চেষ্টা করছে।
কয়লার স্তুপের প্রায় ২০০ গজ দূরে তৈরি জেটিতেও রাখা কয়লা। জেটির কাছে ১টি বড় কার্গো ভেড়ানো। কিছু শ্রমিক জেটি থেকে কয়লা নামানোর কাজে ব্যস্ত। সেখানেও কয়লার ধুলা উড়ছিল। জেটির বিপরীত দিকে দড়িকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । দড়িকান্দি ইসলামিয়া রশিদিয়া মাদ্রাসা, দড়িকান্দি জামে মসজিদসহ তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাতাসে ভ্যাপসা গন্ধ। কয়লার ধুলার কারণে মুসুল্লীরা মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তে আসেন না। ধুলায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে মুড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বরকত উল্লাহ মিয়া বলেন, দড়িকান্দি বসতি এলাকায় বীর গাজী সেতু সংলগ্ন কয়লা ডাম্পিং করার কারনে মসজিদের মুসুল্লীরা ঠিক মত নামাজ পড়তে পারছে না। স্কুল বন্ধ থাকলে মাদ্রাসার ছাত্রদের পড়াশোনার খুবই ক্ষতি হচ্ছে। কয়লা ব্যবসায়ীদের অনেক বোঝানোর পরও তাঁরা কোনো কথা শোনেননি। শুধু বিদ্যালয় নয়, কয়লা ব্যবসার কারণে চারদিকের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হচ্ছে।
মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম হারেছ বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে আমি মানববন্ধনে অংশগ্রহন করায় আমার বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার মিথ্যা চাদাঁবাজির মামলা দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় চায়ের দোকানদার বলেন, দড়িকান্দি এলাকায় আমার মত প্রায় ২০টি চায়ের দোকান রয়েছে। চা পান বিক্রি করে যাদের সংসার চলে। কয়লার ডাম্পিং এর কারনে আগের মত উপার্জন হয় না। কয়লার কালি চাযের কাপে পড়ে মানুষ তাই চা খেতে আসেন না। স্থানীয় এক প্রবীণ বলেন, এসব দেখলে মনে হয় দেশে যেন আইন নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা ট্রের্ডাস প্রাইভেট লিমিটেড এর সাইট ম্যানেজার কাজী তারেক বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে হলে আমার স্যারের সাথে কথা বলতে হবে। আমার জানামতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরাবর আবেদন করা হয়েছে হয়তো অনুমোদন পেয়ে যাব।
এব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ ফয়সাল আহমেদ বলেন, কয়লার দূষনের কারনে শ্বাসকষ্ট, টাইফয়েড, নিমোনিয়া এমকি দূরাগ্য ক্যান্সার হতে পারে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আফিফা খাঁন বলেন, পরিবেশ দূষনের কারনে ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্ট করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জানান, আইনিভাবে যা করা দরকার আমরা তাই করব।
রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ শাহজাহান ভ’ইয়া বলেন, কয়লা ব্যবসার কোনো অনুমোদন নাই। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগনের স্বার্থ আমাকে দেখতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (নারায়ণগঞ্জ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উত্তরা ট্রের্ডাস প্রাইভেট লিমিটেডের কোন অনুমোদন নেই। পরিবেশ দূষনের কারনে ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আফিফা খাঁনকে সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















