০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আগুনে তিন সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক মা-বাবা

জাকির হোসেন ও জেসমিন আক্তার কাজল। পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। চাষাবাদ ও ধান মাড়াইয়ে ব্যবহৃত ট্রাক্টর মেরামতের কাজ করে জাকির, তাই তাকে এলাকায় জাকির মিস্ত্রি হিসেবেই এক নামে চেনে। কাজল গৃহিণী। জাকিরের আয়ে সুখেই চলছিল তাদের সংসার। তাদের শিশু বয়সী চার সন্তানের মধ্যে বড় তিনজনকে পড়াতেপ্রাইভেট শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ছোট সন্তান আব্দুল্লাহ আল মাহিয়ানে বয়স এখনো ১৬ মাস। মাটির তৈরী গুদামে টিনের চাউনি দেয়া ঘরেই বসবাস করতো তারা। কিন্তু মুহুর্তের আগুনেই সব সুখ এখন অতীত। সরজমিন গিয়ে গ্রামের বাসিন্দা কয়েকজন নারী পুরুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯ টা মতো সময় । ওই সময় জাকির ও কাজল তাদের ছোট ছেলে মাহিয়ানকে নিয়ে এক কক্ষে ও অন্য কক্ষে তাদের বড় তিন সন্তান মোহাম্মদ জিহাদ (১১),ফৌজিয়া জন্নাত মীম(৯) ও আফিয়া জন্নাত মিতু (৭) ঘুমিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১ টায় জ্বলন্ত চিলিং ( দমদমা) ভেঙ্গে পড়ে। পরপর চাউনিও ভেঙে পড়তে থাকে। ওই সময় তড়িঘড়ি করে ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে মা কাজল বাইরে যায়।
জাকির বড় তিন সন্তানকে উদ্ধারের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। মাত্র ২৫-৩০ মিনিটেই জ্বলন্ত চিলিং ও চাউনি পড়ে ঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পুড়ে অঙ্গার হয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় জাকির ও কাজলের বড় তিন সন্তান। সাথে তচনচ হয়ে যায় তাদের স্বপ্ন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবানঘাটা গ্রামে। রাতে আগুনে তিন শিশু ভাই-বোন পুড়ে মারা যাওয়ার পর শুধুমাত্র হারবাং নয় পুরো চকরিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন শতশত ফেসবুক ব্যবহারকারী। হারবাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর বলেন, জাকির ও কাজল তিন সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে। রাতে ও ভোরে মাঝে মধ্যে কাঁদলেও ১৬ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় সাবানঘাটা মসজিদের সামাজিক কবরস্থানে সন্তানদের দাফন করে আসার পর তারা সহজে কথাও বলছেনা। কাঁদছেওনা।
শুধুই ফেলফেল করে দেখছে। খাচ্ছেওনা কিছু। আগুনে অন্তত ৫ লাখ টাকার মালামালও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ” আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিন শিশু ভাই-বোন পুড়ে অঙ্গার হওয়ার ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, শুকনো খাবার, কম্বল দিয়েছি। ফের ঘর করতে টিন দেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

আগুনে তিন সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক মা-বাবা

প্রকাশিত : ০৯:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১

জাকির হোসেন ও জেসমিন আক্তার কাজল। পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। চাষাবাদ ও ধান মাড়াইয়ে ব্যবহৃত ট্রাক্টর মেরামতের কাজ করে জাকির, তাই তাকে এলাকায় জাকির মিস্ত্রি হিসেবেই এক নামে চেনে। কাজল গৃহিণী। জাকিরের আয়ে সুখেই চলছিল তাদের সংসার। তাদের শিশু বয়সী চার সন্তানের মধ্যে বড় তিনজনকে পড়াতেপ্রাইভেট শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ছোট সন্তান আব্দুল্লাহ আল মাহিয়ানে বয়স এখনো ১৬ মাস। মাটির তৈরী গুদামে টিনের চাউনি দেয়া ঘরেই বসবাস করতো তারা। কিন্তু মুহুর্তের আগুনেই সব সুখ এখন অতীত। সরজমিন গিয়ে গ্রামের বাসিন্দা কয়েকজন নারী পুরুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯ টা মতো সময় । ওই সময় জাকির ও কাজল তাদের ছোট ছেলে মাহিয়ানকে নিয়ে এক কক্ষে ও অন্য কক্ষে তাদের বড় তিন সন্তান মোহাম্মদ জিহাদ (১১),ফৌজিয়া জন্নাত মীম(৯) ও আফিয়া জন্নাত মিতু (৭) ঘুমিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১ টায় জ্বলন্ত চিলিং ( দমদমা) ভেঙ্গে পড়ে। পরপর চাউনিও ভেঙে পড়তে থাকে। ওই সময় তড়িঘড়ি করে ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে মা কাজল বাইরে যায়।
জাকির বড় তিন সন্তানকে উদ্ধারের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। মাত্র ২৫-৩০ মিনিটেই জ্বলন্ত চিলিং ও চাউনি পড়ে ঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পুড়ে অঙ্গার হয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় জাকির ও কাজলের বড় তিন সন্তান। সাথে তচনচ হয়ে যায় তাদের স্বপ্ন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবানঘাটা গ্রামে। রাতে আগুনে তিন শিশু ভাই-বোন পুড়ে মারা যাওয়ার পর শুধুমাত্র হারবাং নয় পুরো চকরিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন শতশত ফেসবুক ব্যবহারকারী। হারবাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর বলেন, জাকির ও কাজল তিন সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে। রাতে ও ভোরে মাঝে মধ্যে কাঁদলেও ১৬ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় সাবানঘাটা মসজিদের সামাজিক কবরস্থানে সন্তানদের দাফন করে আসার পর তারা সহজে কথাও বলছেনা। কাঁদছেওনা।
শুধুই ফেলফেল করে দেখছে। খাচ্ছেওনা কিছু। আগুনে অন্তত ৫ লাখ টাকার মালামালও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ” আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিন শিশু ভাই-বোন পুড়ে অঙ্গার হওয়ার ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, শুকনো খাবার, কম্বল দিয়েছি। ফের ঘর করতে টিন দেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ