ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে কোনোভাবেই কমেছেনা মাছের দাম। ছোট পুঁটি, শিং, গুলশা, পাবদা, টেংরা, চিংড়ি, খলিশা, গুতুম, বাইম মাছগুলোর দাম সবচেয়ে বেশী। মাঝারি আকারের বিভিন্ন মাছ নিম্ন আয়ের লোকজন কিনে স্বস্তি জানালেও বড় আর ছোট দেশী মাছগুলো তারা কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন। ক্রেতারা বলছেন, আসন্ন রমজানের আগ মূহুর্তে কাঁচা তরিতরকারিতে স্বস্তি থাকলেও বাজারে মাছের দাম কমার কোনো লক্ষ্মণ নেই। আর বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে মাছের প্রকারবেদে বেশী দামে কিনার ফলেই বেশী দামে বিক্রি করতে বাধ্য তারা।
এদিকে অন্যান্য তরিতরকারি হাতের নাগালে থাকলেও ঢেঁড়স-পটল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের দাম ৫০-৬০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা। এছাড়া বড় বেগুন ২৫-৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, লতা ৬০ টাকা, সিম ৩০ টাকা, টমেটো ১০ টাকা, দেশী কুমড়া ৩০ টাকা, দেশী লাউ প্রতি পিস ২৫-৩০ টাকা, দেশী ছোট আলু ২০ টাকা, বড় আলু ১৮ টাকা, ডেঙ্গা ১০ টাকা হালি, ছোট বেগুন ১৫-২০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, শষা ৩৫-৪০ টাকা ও গাঁজর ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তবে, লেবু গত সপ্তাহের মতো এখনো ৩০-৩৫ টাকা হালি, সজেনার দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। দেশী পেয়াজ ৪০ টাকা, এলসি পেয়াজ ৩৫ টাকা, দেশী রসুন ৬৫-৭০ টাকা, বড় রসুন ৪৫-৫০ টাকা ও আঁদা ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া মোটা ডাল ৭০ টাকা, চিকন ডাল ১২০-১৩০ টাকা, এংকার ডাল ৪২-৪৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪০ ও পাম তেল ১২০ টাকা।
দেশী মুরগীর দাম দৌড়াচ্ছে গরুর দিকে। দেশী মুরগী ৪০০-৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গরুর মাংসের দাম ৫৫০ টাকা। দামে পার্থক্য ১০০-১৫০ টাকা। খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৪৫ টাকা, কক মুরগী ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কোনোভাবেই নিম্নমুখী করা যাচ্ছেনা মাছের বাজার। মিরর কার্প, রুই, কারফু (মাঝারি) ১৬০-১৭০ টাকা, বড় কারফু ২৫০-২৬০ টাকা, ছোট সিলভার কার্প ৮০ টাকা, টেংরা ৩২০-৩৫০ টাকা, শিং ৪০০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া (মাঝারি) ১২০ টাকা, কাতল (বড়) ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় গলদা চিংড়ির দাম ৪০ টাকা বাড়িয়ে ৫৬০ টাকা। স্থিতিশীল রয়েছে কাতলা মাছের দাম। বড় কাতলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। তবে, ইলিশের দাম এখনো ২শ’ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কেজি ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আসন্ন রোজা উপলক্ষে ছোলা বুট প্রতি কেজি ৬৩ টাকা থেকে ২ টাকা বেড়ে এখন ৬৫ টাকা, খোঁলা আটা কেজি প্রতি ৩০-৩২ টাকা। ময়দা কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া
নিম্নমানের খেজুর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। আর ভালো মানের খেজুর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। গত সপ্তাহের দরেই চিনি প্রতি কেজি ৬৫ টাকা।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকালে ময়মনসিংহ শহরের মেছুয়া বাজার, গাঙ্গিনাড়পাড় বাজার ও নগরীর শম্ভুগঞ্জ বাজার থেকে বাজারদরের এসব তথ্য জানা যায়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেও গত বছর রোজায় বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার রোজা শুরুর এক মাসেরও কম বাকি থাকলেও দামবৃদ্ধির সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। দু-একটি পণ্যের দাম বাড়লেও বেশীরভাগ পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাঙ্গিনাড়পাড়ের মুদি ব্যবসায়ী কিবরিয়া নামের একজন বলেন, এবার রোজা উপলক্ষে পণ্যের দাম নতুন করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ক্রেতারা অতিরিক্ত হারে কেনা শুরু করলে হয়ত দাম বেড়ে যেতে পারে। ক্রেতারা অস্বাভাবিক আচরণ না করলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।
গাঙ্গিনাড়পাড় সবজির বাজারের পাশ থেকে মাংস কেনার সময় কথা হয় জমশেদ আলী নামে একজন ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের আবদার পূরণ করতে সপ্তাহে একদিন মাংস খাওয়ার চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রে আমাদের ভরসা ব্রয়লার মুরগী। ব্রয়লার মুরগীর দাম আরেকটু কম থাকলে আমরা বেশি করে মুরগী কিনতে পারতাম। তবে, দেশী মুরগীর অতিরিক্ত দামের কারনে মন চাইলেও কেনা হয়না।
শম্ভুগঞ্জের ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন,
স্বাভাবিক সময়েই ছোলার কেজি বিক্রি করেছি ৭৫ টাকা। রোজা আসতে আর এক মাসও নেই। অথচ এখন সেই ছোলার কেজি বিক্রি করছি ৬৫ টাকায়। পাইকারিতে কমে কিনতে পারায় আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি। এতে করে ক্রেতারাও খুশী।
শম্ভুগঞ্জ বাজারে মাসুদ রানা নামের একজন ক্রেতা বলেন, শীতকালিন বেশীরভাগ তরিতরকারির দাম ঠিক আছে। তবে ঢেড়স, পটল, বরবটি, শষাসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম বেশি। আশা করছি তরিতরকারিসহ সকল পণ্যের দাম রোজার আগেই কমে আসবে।
মেছুয়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, মাছের দর প্রতিদিন উঠানামা করে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি কম লাভে অধিক মাছ বিক্রি করার জন্য। কিন্তু যদি বেশী দামে মাছ কিনে আনি তাহলে বেশী দামে বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হয়। আশা করছি রোজার আগেই মাছের দামে স্বস্তি ফিরে আসবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















