সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হিন্দু-অধ্যুষিত গ্রামে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে
নিয়েই ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ১৬ মার্চ সকালে শাল্লা থানাধীন হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত গোপেন দাসের ছেলে ঝুমন দাস (২৮) সে তার ফেইসবুক আইডিতে হেফাজত ইসলামের
যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এর ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে বলৎকার বাহীনির প্রধানকে
গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছিসহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা লিখে পোস্ট দেয়ার জের হিসেবেই।
দিরাই ও শাল্লা থানায় এলাকার কয়েকটি গ্রামের উত্তেজিত কয়েকশত মুসলিম জনতা মসজিদের মাইকে প্রচার করে জড় হতে হয়ে। ওইদিন আনুমানিক রাত ৮টার দিকে নোয়াগাঁও গ্রামের মিছিল শ্লোগানসহ প্রতিবাদ জানাতে থাকে।
এই সংবাদ পাওয়ার পর শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ, ইউএনও ও শাল্লার
উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাদের জিজ্ঞেস করলে জানতে পারেন ঝুমন দাস তার
ফেইসবুক আইডিতে মামুনুল হক এর ছবি বিকৃত করে কুরিরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছে।
ওসি শাল্লা থানা তাদের দাবি প্রেক্ষিতে ঝুমন দাসকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে এবং আইনানুগ ব্যবস্থার
গ্রহনের আশ^াস দিলে জনতা শান্ত হয়ে ফিরে যায় এবং তারা আর কোন উচ্ছৃংখল আচরণ করবে না মর্মে প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেন।
সার্বিক আইনশৃক্সখলা রক্ষায় ওইদিন রাতেই এই গ্রামের দারাইন বাজারে শাল্লা
থানার থেকে একজন এসআই, একজন এএসআই ও ৭ জন কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়।
তিনি বলেন, পরদিন ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন
উপলক্ষে শাল্লা অফিসার ইনচার্জ স্থানীয় প্রতিনিধি ও গন্যমাধ্য ব্যক্তিরা শাল্লা উপজেলা চত্বরে সরকারি
প্রোগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন এবং আমি ও জেলা প্রশাসক জেলা সদরস্থ ঐতিহ্য যাদুঘরে অনুরূপ
সরকারি প্রোগ্রামে থাকাবস্থায় সংবাদ পাওয়া যায় ওইদিন সকাল আনুমানিক ৮ টা ৫০ মিনিটে।
শাল্লা থানাধীন কাশিপুর ও দিরাই থানাধীন চন্ডিপুর, নাচনী, চন্দ্রপুর এবং ধনপুর গ্রামের ১৪০০-১৫০০
উত্তেজিত জনতা দা, লাঠিসোটা নিয়ে ঝুমন দাসের বাড়িতে আক্রমন করার উদ্যেশে রওনা হচ্ছে।
তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে শাল্লা থানার ওসি ইউএনও নোয়াগাঁও গ্রামের দারাইন নদীর উত্তর পশ্চিম পাড়ে
অবস্থান করে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার উদ্দেশে পৌছে ও ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানের নেতৃত্বে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে আনতে
সক্ষম হয়।
পুলিশ সুপার মিহজানুর রহমান আরও বলেন, কিন্তু পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বি নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন
দরানাই নদীর উত্তর-পূর্ব পাড়ের বেশ কিছু অংশ অরক্ষিত থাকায় কিছু উচ্ছৃংখল লোক নদী পাড় হয়ে
নোয়াগাঁও গ্রামে প্রবেশ করে ঝুমন দাসের ঘরসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বকুল চন্দ্র মজুমদারের
ঘরসহ বেশ কিছু ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কর্তব্যরত পুলিশ আশপাশ থেকে নৌকা যোগাড় করে
দাড়াাইন নদী পাড় হয়ে গ্রামে পৌছেলে তারা নদী পাড় হয়ে দৌড়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে ফেইসবুকে দেওয়া
স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ হামলা চালানো হয়েছে আমরা সবাইকে আশ^স্থ করতে চাই আসামি
ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এরই মধ্যে দুইটি মামলার একটিতে প্রধান আসামি শহীদুল
ইসলাম ¯^াধীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এছাড়া আরও ৩২ জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আমরা এ গ্রামের এমন হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে সঠিক তদন্ত করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে
অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারবো বলে আপনাদের আশ^স্থ করতে চাই।
এদিকে হবিবপুরের ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুদারের করা মামলার প্রধান আসামি শহীদুল ইসলাম
¯^াধীনকে রিমান্ডে নেওয়া হবে কি না সেই ব্যাপারে এসপি বলেন, আমরা আদালতের কাছে রিমান্ড
চাইবো কারণ তাকে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার রয়েছে তবে বিষয়টি যেহেতু এখনও তদন্তধীন এর বেশি
কিছু আপনাদের বলতে পারবো না।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















