১২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রূপগঞ্জে ১১ দিন পর কবর থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর লাশ উত্তোলন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাফেজ ছাব্বির আহম্মেদ (১৪) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ১১ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ মার্চ) দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ছাব্বির হোসেন উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা শান্তিনগর এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওয়াহিদ হোসেনের নেতৃত্বে সাব্বির হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে সাব্বির হোসেনকে তার পরিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চৌধুরীপাড়ার রসুলবাগ রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার হেফজখানায় ভর্তি করান। ২০২১ সালের (১০ মার্চ) সাব্বিরের ঝুলন্ত লাশ মাদ্রাসা ভবনের ছাদ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সাব্বিরের পরিবারকে জানান সাব্বির আত্মহত্যা করেছে। পরে সাব্বিরকে রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা শান্তিনগর এলাকার সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সাব্বিরকে গোসল করানোর সময় তার ঠোঁটে, মাথার ডানদিকে ও কপালসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তিনি মাদ্রাসায় যান।

এসময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথাবার্তার অসংলগ্নতায় সাব্বির হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার বাবার সন্দেহ হয়। গত ১২ মার্চ জামাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওইদিন রাতে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শ্রেণি শিক্ষক ক্বারী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন (২৬), শিক্ষক আজিজুল হক (৪২), সাখাওয়াত হোসেন (২৬), মাদ্রাসার ছাত্র ও সাব্বিরের সহপাঠী শামীম আহম্মেদ (১৬), মাহমুদুল হাসান (১৬), আবু তালহা (১৫ ও আবু বক্করকে (১৬) গ্রেফতার করে। তারা এখন জেল হাজতে রয়েছেন।

সাব্বিরের মা ও জাহানারা বেগম বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ শাহীন বলেন, সাব্বিরের লাশ কবর থেকে উত্তেলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রূপগঞ্জে ১১ দিন পর কবর থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত : ০৬:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাফেজ ছাব্বির আহম্মেদ (১৪) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ১১ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ মার্চ) দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ছাব্বির হোসেন উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা শান্তিনগর এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওয়াহিদ হোসেনের নেতৃত্বে সাব্বির হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে সাব্বির হোসেনকে তার পরিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চৌধুরীপাড়ার রসুলবাগ রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার হেফজখানায় ভর্তি করান। ২০২১ সালের (১০ মার্চ) সাব্বিরের ঝুলন্ত লাশ মাদ্রাসা ভবনের ছাদ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সাব্বিরের পরিবারকে জানান সাব্বির আত্মহত্যা করেছে। পরে সাব্বিরকে রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা শান্তিনগর এলাকার সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সাব্বিরকে গোসল করানোর সময় তার ঠোঁটে, মাথার ডানদিকে ও কপালসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তিনি মাদ্রাসায় যান।

এসময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথাবার্তার অসংলগ্নতায় সাব্বির হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার বাবার সন্দেহ হয়। গত ১২ মার্চ জামাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওইদিন রাতে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শ্রেণি শিক্ষক ক্বারী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন (২৬), শিক্ষক আজিজুল হক (৪২), সাখাওয়াত হোসেন (২৬), মাদ্রাসার ছাত্র ও সাব্বিরের সহপাঠী শামীম আহম্মেদ (১৬), মাহমুদুল হাসান (১৬), আবু তালহা (১৫ ও আবু বক্করকে (১৬) গ্রেফতার করে। তারা এখন জেল হাজতে রয়েছেন।

সাব্বিরের মা ও জাহানারা বেগম বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ শাহীন বলেন, সাব্বিরের লাশ কবর থেকে উত্তেলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ