০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিটি বেগুন, খরচ কম লাভ বেশি

বৃহত্তর যশোরাঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিটি বেগুন চাষ। এ অঞ্চলে বিটি বেগুনের চারটি জাত ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা বিটি বেগুন চাষে ঝুঁকছে। আর কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগ।

সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ অঞ্চলে বারি বিটি বেগুন-১, বারি বিটি বেগুন- ২, বারি বিটি বেগুন-৩ এবং বারি বিটি বেগুন-৪ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ দোঁ-আশঁ বা বেলে দো-আশঁ মাটি এবং উঁচু জমিতে এ বেগুন সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। জমিতে সেচ প্রয়োগের পরে মাটি মালচিং করতে হয়। এরপর সার প্রয়োগের করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। এ জন্য আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে আগাছা বেশি হলে নিড়ানী দিয়ে জমি আগাছামুক্ত করতে হয়। প্রয়োজনীয় নিড়ানী ও মাটি মালচিং করলে গাছের শিকড়ের বৃদ্ধি ভাল হয়। আবহাওয়া ও মাটির অবস্থা ভেদে ৪-৬ টি সেচ প্রয়োগ করতে হয়। চারা রোপনের ১২০ থেকে ২০০ দিন পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়। ভাল ব্যবস্থাপনায় হেক্টর প্রতি ৫০-৬০ টন বেগুন উৎপাদন সম্ভব।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, প্রচলিত বেগুনের জাতে কীটনাশক প্রয়োগের পরও ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণের কারণে ৩০ থেকে ৬০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়। ২০১৪ সালে প্রথম মাঠপর্যায়ে বিটি বেগুন চাষাবাদ শুরু হয়। কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় অন্যান্য জাতের বেগুনের তুলনায় বিটি বেগুন চাষে ছয় গুণ বেশি আয় হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয় অধিক ফলন এবং কম কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বিটি বেগুন চাষ করতে কৃষক অনেক বেশি আগ্রহী। অধিক ফলন ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বিটি বেগুন চাষে ঝুকে পড়েছেন যশোরাঞ্চলের কৃষকরা। এই জাতের বেগুনের উৎপাদন যেমন খরচ অনেক কম। তেমনি বাজারে এর দামও ভালো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি বিটি জাতের এই বেগুন কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চাষ করে অনেকেই এরই মধ্যে লাভবান হয়েছেন। এ জন্য বিটি বেগুন চাষে আগ্রহ হয়ে উঠছে স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেগুন চাষের সময় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমনে বেশিরভাগ বেগুন মাঠেই নষ্ট যায়। এজন্য প্রতি বছর ১৭ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বেগুন চাষের খরচ বেড়ে যায়। কৃষকরা এ থেকে খুব বেশি লাভবান হতে পারেন না। তাছাড়া প্রচুর পরিমানে কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পোকার আক্রমণে সহনীয় হিসেবেই বিটি-১,২,৩, ও ৪ নামে চারটি নতুন উদ্ভাবন করে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এসব জাতের বেগুনে ডগা ও পোকা আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন সম্ভব হয়।

ঝিনাইদহের শৈলাকুপা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের চাষি আলিম উদ্দিন বলেন, বিটি বেগুন পরিবেশ বান্ধব। এতে কোনও ধরনের বালাইনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। কৃষি গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধে বিটি বেগুনের চাষ শুরু করি। এই চাষে খরচও কম। লাভ বেশি।

কথা হয় কৃষক আজাদ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, বিটি বেগুনে কোন কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। খরচ কম। লাভ বেশি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিটি বেগুন, খরচ কম লাভ বেশি

প্রকাশিত : ০৭:৩১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১

বৃহত্তর যশোরাঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিটি বেগুন চাষ। এ অঞ্চলে বিটি বেগুনের চারটি জাত ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা বিটি বেগুন চাষে ঝুঁকছে। আর কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগ।

সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ অঞ্চলে বারি বিটি বেগুন-১, বারি বিটি বেগুন- ২, বারি বিটি বেগুন-৩ এবং বারি বিটি বেগুন-৪ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ দোঁ-আশঁ বা বেলে দো-আশঁ মাটি এবং উঁচু জমিতে এ বেগুন সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। জমিতে সেচ প্রয়োগের পরে মাটি মালচিং করতে হয়। এরপর সার প্রয়োগের করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। এ জন্য আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে আগাছা বেশি হলে নিড়ানী দিয়ে জমি আগাছামুক্ত করতে হয়। প্রয়োজনীয় নিড়ানী ও মাটি মালচিং করলে গাছের শিকড়ের বৃদ্ধি ভাল হয়। আবহাওয়া ও মাটির অবস্থা ভেদে ৪-৬ টি সেচ প্রয়োগ করতে হয়। চারা রোপনের ১২০ থেকে ২০০ দিন পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়। ভাল ব্যবস্থাপনায় হেক্টর প্রতি ৫০-৬০ টন বেগুন উৎপাদন সম্ভব।

কৃষি গবেষকরা বলছেন, প্রচলিত বেগুনের জাতে কীটনাশক প্রয়োগের পরও ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণের কারণে ৩০ থেকে ৬০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়। ২০১৪ সালে প্রথম মাঠপর্যায়ে বিটি বেগুন চাষাবাদ শুরু হয়। কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় অন্যান্য জাতের বেগুনের তুলনায় বিটি বেগুন চাষে ছয় গুণ বেশি আয় হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয় অধিক ফলন এবং কম কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বিটি বেগুন চাষ করতে কৃষক অনেক বেশি আগ্রহী। অধিক ফলন ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বিটি বেগুন চাষে ঝুকে পড়েছেন যশোরাঞ্চলের কৃষকরা। এই জাতের বেগুনের উৎপাদন যেমন খরচ অনেক কম। তেমনি বাজারে এর দামও ভালো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি বিটি জাতের এই বেগুন কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চাষ করে অনেকেই এরই মধ্যে লাভবান হয়েছেন। এ জন্য বিটি বেগুন চাষে আগ্রহ হয়ে উঠছে স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেগুন চাষের সময় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমনে বেশিরভাগ বেগুন মাঠেই নষ্ট যায়। এজন্য প্রতি বছর ১৭ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বেগুন চাষের খরচ বেড়ে যায়। কৃষকরা এ থেকে খুব বেশি লাভবান হতে পারেন না। তাছাড়া প্রচুর পরিমানে কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পোকার আক্রমণে সহনীয় হিসেবেই বিটি-১,২,৩, ও ৪ নামে চারটি নতুন উদ্ভাবন করে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এসব জাতের বেগুনে ডগা ও পোকা আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন সম্ভব হয়।

ঝিনাইদহের শৈলাকুপা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের চাষি আলিম উদ্দিন বলেন, বিটি বেগুন পরিবেশ বান্ধব। এতে কোনও ধরনের বালাইনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। কৃষি গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধে বিটি বেগুনের চাষ শুরু করি। এই চাষে খরচও কম। লাভ বেশি।

কথা হয় কৃষক আজাদ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, বিটি বেগুনে কোন কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। খরচ কম। লাভ বেশি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ