১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

নরেন্দ্র মোদির সাথে শেখ হাসিনারও সাহচার্য পেতে প্রস্তুত ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬ মার্চ বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৭ মার্চ শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাভূমি মতুয়াদের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি দর্শনে যাবেন তিনি। এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি। মোদির আগমনের অপেক্ষায় ঠাকুর পরিবার ও মতুয়াভক্তরা। তবে, শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নয়, তার সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওড়াকান্দিতে আসবেন এমন আশায় বুক বেধে আছেন তারা।
এদিন সাতক্ষীরার যশোরেশ^রী দেবী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি প্রথমে যাবেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে চির নিদ্রায় শায়িত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন মোদি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। সমাধিসৌধ পরিদর্শন শেষে নরেন্দ্র মোদি যাবেন শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি দর্শনে। সেখানে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ মন্দিরে পূষ্পাঞ্জলী নিবেদন করবেন এবং মতুয়া ও ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে।
এদিকে নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দূত পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাভ‚মি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান গোপালগঞ্জের শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে এবং তাঁকে বরণ করে নিতে বঙ্গবন্ধু’র সমাধি ও শ্রীধাম ওড়াকান্দির সকল ধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নতুন সাজে সাজানো হয়েছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি। সরকারি তত্ত¡াবধায়নে ঠাকুরবাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠে এবং ওড়াকান্দি হাইস্কুল-সংলগ্ন মাঠে পৃথকভাবে নির্মিত হয়েছে চারটি হেলিপ্যাড। হেলিপ্যাড থেকে মন্দির পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৫’শ মিটার সড়ক। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজও শেষ হয়েছে। আকর্ষণীয়ভাবে নির্মিত হয়েছে ঠাকুর বাড়ির প্রবেশদ্বার। সবগুলি মন্দির ও ঠাকুরবাড়ির প্রতিটি অঙ্গন ধূয়ে-মুছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণ সবকিছু দেখভাল করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্দ্ধতণ কর্মকর্তা ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চত করতে আশপাশের সকল রাস্তার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা। ঠাকুরবাড়ির চতুর্দিকে বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী। আর সেসঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছেন ঠাকুর পরিবারের সদস্যরাও। স্বত:স্ফূর্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা এখন তাদের চোখেমুখে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনে তারা অত্যন্ত খুশী ও আনন্দিত। তবে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঠাকুরবাড়ি দর্শনে এলে তারা পরিপূর্ণ হবেন এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ঠাকুর-পরিবারসহ মতুয়া ভক্তরা।
প্রসঙ্গত, বাংলা ১২১৮ সালের ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথির ব্রহ্ম মুহুর্তে মহাবারুণীর দিনে আবিভর্‚ত হন পূর্ণ ব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর। ছোটবেলা থেকেই তার অলৌকিকত্ব¡ ও লীলার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রচার করেন গার্হস্থ্য ধর্ম। ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীধাম ওড়াকান্দির নাম। দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি তীর্থস্থানে পরিণত হয়। তাঁর ভক্ত বা অনুসারীদেরকে বলা হয় ‘মতুয়া’। মতুয়া শব্দের অর্থ হরি নামে মেতে থাকা। বিশ্বের সকল মতুয়া ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি তাদের পবিত্র পূণ্যভ‚মি বলে বিশ্বাস করেন। প্রতিবছরই হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে ওড়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত হয় তিনদিন ব্যাপী মহাবারুণী মেলা । এ দিনে লাল নিশান উড়িয়ে পদব্রজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে হরিবোল ধ্বণিতে ঠাকুরবাড়িতে আগমন ঘটে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ হরিভক্তের। ভক্তরা পূণ্য ও মুক্তি লাভের আশায় ঠাকুরবাড়ির ‘শান্তি সাগর’ ও ‘কামনা সাগর’ নামে পুকুর দু’টিতে ¯স্নান করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

নরেন্দ্র মোদির সাথে শেখ হাসিনারও সাহচার্য পেতে প্রস্তুত ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি

প্রকাশিত : ০৬:০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬ মার্চ বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৭ মার্চ শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাভূমি মতুয়াদের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি দর্শনে যাবেন তিনি। এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি। মোদির আগমনের অপেক্ষায় ঠাকুর পরিবার ও মতুয়াভক্তরা। তবে, শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নয়, তার সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওড়াকান্দিতে আসবেন এমন আশায় বুক বেধে আছেন তারা।
এদিন সাতক্ষীরার যশোরেশ^রী দেবী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি প্রথমে যাবেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে চির নিদ্রায় শায়িত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন মোদি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। সমাধিসৌধ পরিদর্শন শেষে নরেন্দ্র মোদি যাবেন শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি দর্শনে। সেখানে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ মন্দিরে পূষ্পাঞ্জলী নিবেদন করবেন এবং মতুয়া ও ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে।
এদিকে নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দূত পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাভ‚মি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান গোপালগঞ্জের শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে এবং তাঁকে বরণ করে নিতে বঙ্গবন্ধু’র সমাধি ও শ্রীধাম ওড়াকান্দির সকল ধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নতুন সাজে সাজানো হয়েছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি। সরকারি তত্ত¡াবধায়নে ঠাকুরবাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠে এবং ওড়াকান্দি হাইস্কুল-সংলগ্ন মাঠে পৃথকভাবে নির্মিত হয়েছে চারটি হেলিপ্যাড। হেলিপ্যাড থেকে মন্দির পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৫’শ মিটার সড়ক। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজও শেষ হয়েছে। আকর্ষণীয়ভাবে নির্মিত হয়েছে ঠাকুর বাড়ির প্রবেশদ্বার। সবগুলি মন্দির ও ঠাকুরবাড়ির প্রতিটি অঙ্গন ধূয়ে-মুছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণ সবকিছু দেখভাল করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্দ্ধতণ কর্মকর্তা ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চত করতে আশপাশের সকল রাস্তার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা। ঠাকুরবাড়ির চতুর্দিকে বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী। আর সেসঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছেন ঠাকুর পরিবারের সদস্যরাও। স্বত:স্ফূর্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা এখন তাদের চোখেমুখে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনে তারা অত্যন্ত খুশী ও আনন্দিত। তবে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঠাকুরবাড়ি দর্শনে এলে তারা পরিপূর্ণ হবেন এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ঠাকুর-পরিবারসহ মতুয়া ভক্তরা।
প্রসঙ্গত, বাংলা ১২১৮ সালের ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথির ব্রহ্ম মুহুর্তে মহাবারুণীর দিনে আবিভর্‚ত হন পূর্ণ ব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর। ছোটবেলা থেকেই তার অলৌকিকত্ব¡ ও লীলার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রচার করেন গার্হস্থ্য ধর্ম। ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীধাম ওড়াকান্দির নাম। দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি তীর্থস্থানে পরিণত হয়। তাঁর ভক্ত বা অনুসারীদেরকে বলা হয় ‘মতুয়া’। মতুয়া শব্দের অর্থ হরি নামে মেতে থাকা। বিশ্বের সকল মতুয়া ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি তাদের পবিত্র পূণ্যভ‚মি বলে বিশ্বাস করেন। প্রতিবছরই হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে ওড়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত হয় তিনদিন ব্যাপী মহাবারুণী মেলা । এ দিনে লাল নিশান উড়িয়ে পদব্রজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে হরিবোল ধ্বণিতে ঠাকুরবাড়িতে আগমন ঘটে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ হরিভক্তের। ভক্তরা পূণ্য ও মুক্তি লাভের আশায় ঠাকুরবাড়ির ‘শান্তি সাগর’ ও ‘কামনা সাগর’ নামে পুকুর দু’টিতে ¯স্নান করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ