আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত। কপাপলিয়া গ্রামে এক বিধবা মহিলার বসতভিটা দখল করে ঘরোয়া রাস্তা তৈরি করছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ মদদে এ বিধবা মহিলাকে ভিটে থেকে উচ্ছেদের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক দখলের মহােৎসব চললেও স্থানীয় প্রশাসন অদৃশ কারণে নিরব রয়েছে। বিচারের বানী নিরবে কাদাঁয় ভিটে মাটি রক্ষায় এতিম ছেলে সন্তান নিয়ে দারে দারে ঘুরছে অসহায় এ বিধবা।
আদালাত সুত্রে, থানায় দেয়া অভিযোগ ও সরেজমিন যেয়ে দেখা গেছে, আজ থেকে ২০ বছর আগে ২০০১ সালে কপালিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী বিধান মন্ডলের সাথে কেশবপুরের আড়–য়া গ্রামের প্রতিকা মন্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিন থেকেই দেবর সুদাম মন্ডল এবং জয়দেব মন্ডল প্রতিকার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে প্রতিবন্ধী বিধান মন্ডল রাস্তার পাশে পৈত্রিক বাগানে ঘর বেধে বসবাস শুরু করে। বাড়ির সামনে একটি ছোট্ট ভ্যান গ্যারেজ তৈরি করে বিধান তার স্ত্রীকে নিয়ে নতুন সংসার শুরু করে। ৪ বছরের মাথায় তাদের কোল জুড়ে একটি পূত্র সন্তান জন্ম নেয়। সুখেই চলছিল তাদের ছোট্ট পরিবার। কিন্তু বিধিবাম ১ বছর যেতে না যেতেই দুরারোগ্য ব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী বিধান মন্ডল মারা যায়। এতিম কোলের শিশু সন্তান নিয়ে অজানা আতংকে এবং দেবর-শাশুড়ীর অত্যাচার নির্যাতন মাথায় নিয়ে নতুন করে সংসারের হাল ধরেন বিধবা এ মহিলা প্রতিকা। কিন্তু দেবররা মিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাহায্যে তার স্বামীর সকল জমির ভ‚য়া কাগজ তৈরি করে ভিটে ছাড়া করার চেষ্টা করে। অসহায় মহিলা জমি ফিরে পেতে আদালতের সরনাপন্ন হয়। আদালতের বিচারে জমি ফেরত পেলেও অত্যাচারের মাত্রা অনেক গুন বেড়ে যায় বলে বিধবা জানায়। তার জমির বাশঁ, নারকেল, গাছের ঢালসহ কোন প্রকার জিনিস আনতে গেলে সকলে মিলে মারপিট করে আহত করতে থাকে। গত ২০ বছর ধরে কমপক্ষে মনিরামপুর থানায় ২০ বার এবং যশোর আদালতে কয়েকবার মামলা করেও তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি এ বিধবা মহিলা। সর্বশেষ থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে এ এস আই সরোজিত এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান শিকদারের মধ্যস্থতায় এক শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে গত জানুয়ারি মাসে ২ জন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সকল জমি মেপেও কমপক্ষে ভিটেয় ৬ শতক এবং বিলে আধা বিঘা জমি কম থাকে এ বিধবা মহিলার। কম জমি নিয়েও বসবাস করতে থাকে। হঠাৎ করে ওই ইউপি সদস্যর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কপালিয়া গ্রামের ৩ প্রভাবশালী এ বিধবা মহিলার বসতভিটার মধ্যে মাটি দিয়ে ভরাট করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করে। বাধাঁ দিতে গেলে এ অসহায় মহিলাকে মারপিট করে আহত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি আবারও মনিরামপুর থানার সরনাপন্ন হয়। থানা আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলে গত ১৩ মার্চ যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং মনিরাপুর থানাকে প্রকৃত তথ্য উৎঘাটন পূর্বক একটি প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়। থানা আদালতের এ নির্দেশ ওই প্রভাবালীদের অবহিত করার পরেও স্থানীয় ইউপি সদস্যর মদদে জোর করে ওই জায়গায় মাটির কাজ করছে। এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ জানানো হয়েছে। তবে পরবর্তীতে মাটি ফেলানোর বিষয়ে তাকে অবহিত করলে তিনি অদৃশ্য কারণে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে ওই বিধবা মহিলা জানান। স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ আতিকুজ্জামান আতিক বলেন, পূনরায় মাটি ফেলানোর কথা শুনেছি। বিষয়টি দেখছি। তবে গত ৪ দিনে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে ওই মহিলা জানান। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুজ্জামান শিকদার বলেন ওই বিধবা মহিলার কোন জমিতে মাটি ফেলানো হচ্ছে না। তবে তাকে মারপিট করা ও গালিগালাজ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















