এমন কি কেউ আছেন যিনি পুরো জীবনে একবারও চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেননি নিজে, পরিবারের যেকোনো সদস্য, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-স্বজ? মধ্যরাতে কাছের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কার কাছে ছুটেছেন হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনায় শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতীসহ অসুস্থ অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করা প্রিয়জনের কষ্ট লাঘবের জন্য কে হয়েছেন সবচেয়ে আপনজন জরুরি ঝড়, বৃষ্টি, প্রচণ্ড রোদ, যানজট সব উপেক্ষা করে ছুটে যেতে হয়েছে চিকিৎসকের কাছে।
রোগীর জীবনের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে একজন ডাক্তার কী মহৎ ভূমিকা পালন করতে পারেন তা ভাষায় বর্ণনাতীত সেটি ভুক্তভোগী মাত্রই উপলব্ধি করতে পারেন। এই যে এখন মহামারির সময়, সচেতন ব্যক্তি মাত্রই সচেতন হয়ে বাইরে যাচ্ছেন, ঘরে ফিরছেন একরাশ আতঙ্ক নিয়ে, শত সাবধানতা সত্ত্বেও যেকোনো সময় আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ছাড়াও সাধারণ ফ্লুতে। এছাড়া অন্য রোগবালাই ত রয়ে ই গেলো! অসুখ শব্দটি থেকে সুখ খোঁজার জন্য যেতে হয় ডাক্তারের কাছেই। বহুজনের বহু পরামর্শ পেলেও স্বস্তি ও মুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় শুধুই তাদের কথাতেই। সারা দেশেই যখন করোনা রোগী বেড়েই চলেছে, একের পর হাসপাতাল, ক্লিনিক যখন রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে, তখনও ডাক্তাররা নিজের প্রাণের মায়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন আপনাকে-আমাকে সুস্থ করার প্রত্যয়ে। তাদেরই মতো ই একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিকিৎসা জগতের এক অনন্য নাম ও মানবিক ডাক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট , প্রসূতি স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ ফৌজিয়া আখতার। যিনি চিকিৎসা সেবায় অনবদ্য ভুমিকা পালন করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিকিৎসকদের মধ্যে এক অন্যতম নাম ডাঃ ফৌজিয়া আখতার।তার মাধ্যমে অনেক জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন হয়েছে। একজন ভালো ডাক্তারকে প্রায়শই তাঁর ‘ভিজিট’ দিয়ে মাপা হয়। অর্থাৎ যে ডাক্তারের ফি যত বেশি, তিনি তত ‘ভালো’ ডাক্তার।
এই শহুরে মানসিকতাকেই মূলধন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এক শ্রেণীর ডাক্তার। দেখা যাচ্ছে শহরাঞ্চলে বাস করেন ৮০-৮৫ শতাংশ ডাক্তার। আমরা একবারও ভেবে দেখি না ‘ভালো’ ডাক্তারদের মধ্যে কতজন মানবিক গুণসম্পন্ন। শহর এলাকায় একজন রোগী যেভাবে তাঁর ফি দিতে পারেন, গ্রামের মানুষ সেভাবে পারেন না। ডা. লোটে শেরিং বলেছেন, ভাল ডাক্তার হতে হলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মানুষের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। প্রিয় লেখক গোলাম মর্তুজা তার লেখায় বলেছেন- চিকিৎসা সেবা ও ডাক্তার প্রসঙ্গ উঠলেই শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ। রোগী, রোগীর পরিজন, বন্ধু কেউ খুশি নন ডাক্তার-হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে। ডাক্তারদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ, এর সবই কি সত্যি? কিন্তু তার মাঝেও কিছু মানবিক ডাক্তার সমাজের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে নিরবে। শত আলোচনার মাঝে এগিয়ে যাওয়া মানবিক এক ডাক্তার ফৌজিয়া আখতার। তিনি নিরবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন গ্রামের ও শহরের মানুষদের, গরিব ও অসহায় মানুষদের কাছ থেকে প্রায়শই তিনি ভিজিট রাখেন না।এই করোনাকালেও স্বামী সন্তানদের কথা না ভেবে আমাদের সেবা দেওয়ার জন্য দিন রাত ছুটে বেড়াচ্ছেন। চিকিৎসা সেবায় এই মহৎ পেশায় নিজেকে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া একজন মানবিক ডাক্তার তিনি। একজন সাধারণ মানুষ মহৎ হয়ে ওঠেন তার কর্মগুণে। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা তাদের কর্ম, ধ্যান-জ্ঞান, অর্জন সবকিছু উৎসর্গ করে যাচ্ছেন মানুষের কল্যাণে। নিঃস্বার্থভাবে করে যাচ্ছে মানুষের উপকার। তাদের অনেকেই ইতিহাসে চির অমর। আবার অনেকেই নাম-পরিচয়হীন হয়ে স্মৃতির আড়ালে রয়েছেন।
একজন রোগী তার জীবনের বিশেষ মুহূর্তে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন; যেমন জন্ম, মৃত্যু এবং অসুস্থতাজনিত কষ্টের সময়। এটি এমন একসময়, যখন একজন রোগী দ্বীধাহীনচিত্তে একজন চিকিৎসকের ওপর আস্থা ও ভরসা রাখতে চান। একজন চিকিৎসক চিকিৎসা শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত হন। অসুখের বৃত্তান্ত, উপসর্গ ইত্যাদি জেনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা দিতে সচেষ্ট থাকেন। চিকিৎসক-রোগীর এ সম্পর্কটি গড়ে ওঠে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থার ওপর। এক্ষেত্রে আস্থার ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আস্থা যেমন কিনতে পাওয়া যায় না, তেমনি দাবি করে আদায় করা যায় না। এটি আসলে অর্জন করতে হয়।তেমনি রোগীদের কাছ থেকে আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন গাইনি কনসালটেন্ট ডাঃ ফৌজিয়া আখতার।


























