ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার রায় আগামী ১৩ মার্চ ঘোষণা করা হবে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক আমিনুল হক এ আদেশ দেন। এ সময় সব আসামির জামিন বাতিল বলেও আদেশ দেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফেনীর পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহম্মদ।
আদালত সূত্র জানায়, এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাফাই সাক্ষীর জেরা শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি রোববার থেকে সরকার পক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। টানা যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ১৩ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করে সব আসামির জামিন বাতিল করেন।
আদালতের পিপি হাফেজ আহম্মদ আরও জানান, এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
স্বীকারোক্তি দেয়া ১৬ জনের মধ্যে হেলাল উদ্দিন নামে একজন পরে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এছাড়া মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ, গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এ সময় সরকারী আইনজীবী আসামিদের মৃত্যুদণ্ডসহ সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
পিপি হাফেজ আহম্মদ আরও জানান, মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ১৯ জন কারাগারে। এছাড়া জামিনে থাকা মো. সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামে একজন আসামি ইতোমধ্যে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনীর বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একরামুল হককে প্রকাশ্যে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই রেজাউল হক জসিম ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


























