ঢাকা সন্ধ্যা ৬:৫৪, মঙ্গলবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে বিলুপ্তির পথে শীতলপাটি

ফেনীতে শীতলপাটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এখনো গ্রাম গঞ্জে শীতল পাটিতে বসিয়ে মিষ্টি খাওয়ানো ছাড়া নববধুকে ঘরে তোলা হয়না। কনের সাথে তার শশুর বাড়ীর জন্য বিভিন্ন উপঢৌকনের সাথে একটি শীতল পাটি দেওয়ার নিয়ম এখনো অহরহ চোখে পড়ে। কিন্তু কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে এই পেশা বিলুপ্তির পথে, এই পাটির কিছু ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ফেনীর সোনাগাজী, ফেনী সদর লেমুয়া ও পরশুরামের কয়েকটি গ্রাম এইসব গ্রামে প্রতিটি পরিবারই পাটি বানানোর পেশায় নিয়োজিত, বয়স্করা শীতল পাটি বানালেও কম বয়সীরা সাধারণ পাটি তৈরী করে। শতবছরের পুরানো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এখানকার কয়েকটি গ্রাম। এর মধ্যে অন্যতম পরশুরামের অনন্তপুর গ্রাম।

এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে একই দৃশ্য চোখে পড়ে স্কুল পড়ুয়া কিশোরী থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধা সকলেই পাটি বানানোর কাজে ব্যাস্ত থাকে। তাদের সাথে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ও সমনতালে পাটি বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। এটা অনন্তপুর গ্রামের প্রায় সবকটি পরিবারের প্রধান পেশা পাটি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ।

পরশুরামের অনেক গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সকলে হাতের মাপে পাটি বানায় ৪-৫ হাতের একটি সাধারন পাটি ৫ থেকে ৬শত টাকা দরে বিক্রি করে একই মাপের একটি শীতল পাটি ৮শ-১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। সাড়ে তিন হাত থেকে সাড়ে চার হাতের একটি পাটি ৪শ থেকে ৫শ টাকা একই শীতল পাটির দাম প্রায় ৭শ-৮শ টাকা দরে।

এক সময় দুর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িরা আসত, ফেনীর পরশুরামে শিতল পাটি কিনেতে।এখানকার লোকজনের অন্যতম পেশা ছিল পাটি বানানো। বর্তমানে পরশুরামের অনন্তপুর গ্রাম ব্যতিত অন্য কোন গ্রামে পাটি বানানোর মত লোক নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র পার্শ্ববর্তী কোলাপাড়া গ্রামের কিছু অংশে প্রায় অধশতাধিক পরিবার পাটি বানানোর পেশায় রয়েছে। পর্যাপ্ত মোর্তাক গাছের উৎপাদন ও সরবরাহ না থাকায় পাটির উপযুক্ত মুল্য না পাওয়া এবং পাটির বিকল্প রেক্সিনের সহজ লভ্যতার কারনে পাটির চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া ও সরকারী ও বেসরকারী কোন ধরনের সহযোগিতা না থাকায় পাটি শিল্প অনেকটা বিলুপ্তির পথে। একসময় পরশুরাম বাজারে বিশাল একটি এলাকা জুড়ে শুধু পাটির বাজার বসত।

অনন্তপুর গ্রামের রমেশ চন্দ্র নাথের ছেলে স্বপন নাথ (৫০) জানান, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনে পাটি বানায় তাদের একমাত্র পেশাই এটা। তিনি জানান, আগে পরশুরামের অনেক গ্রামের লোকজন পাটি বানাতো কিন্তু এখন পরশুরাম উপজেলার মধ্যে অনন্তপুর গ্রাম ছাড়া আর কোন গ্রামে তেমন কেউ পাটি বানায় না। পর্যাপ্ত পরিমানে মোর্তাক গাছের উৎপাদন না থাকায় পাটি পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন সরকারী ও বেসরকারী সহযোগিতা পেলে এই পাটি শিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে হয়ত।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ