১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোর হলেই লড়াই শুরু, ঘুম আসছে না সমর্থকদের

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ছয়টায় ফাইনালে সেটির মঞ্চায়ন যখন হচ্ছে, এর চেয়ে বেশি আকর্ষণ জাগানিয়া কোনো বিজ্ঞাপন সম্ভবত হতে পারত না।

ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা নাম উঠলেই তো স্মৃতির হাট বসে যায়! সেই যে একেকটা সাদা-কালো টেলিভিশন! বিশ্বকাপ দেখানো শুরু করল বিটিভি। রাত জেগে জেগে একেকটা ম্যাচ দেখা।

বাংলাদেশের সমর্থকদের বেশির ভাগই মনে হয় আকাশি-সাদাদেরই সমর্থন করে। সেটা হয়ে আসছে সেই ম্যারাডোনার আমল থেকে। হবেই বা না কেন! ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনার যুদ্ধ বেধে গেছে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে। সেই উত্তেজনার মধ্যে মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে ম্যারাডোনা ছুটছেন। সব বাধা পেরিয়ে, একের পর এক খেলোয়াড় কাটিয়ে একেবারে নিশানায়। গোল। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় চিরদিনের জন্যে কিনে নিল আর্জেন্টিনা।

আর আছে ব্রাজিল। পাঠ্যপুস্তকে পেলের জীবনী পড়তে হচ্ছে—ব্রাজিলের কালো মানিক। সত্তরের আগের পেলের জাদুকরি খেলা সরাসরি কজনই বা দেখেছে বাংলাদেশের? কটা টেলিভিশনই বা ছিল দেশে! সত্তরের আগে জন্মানো মানুষই বা আছেন কজন! কিন্তু সক্রেটিসের আমলের ব্রাজিল, রোমারিওর ব্রাজিলও আমাদের স্মৃতির সলতে উসকে দেয়।

 

ফুটবল আবার বাংলাদেশের মানুষকে যুক্ত করছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি। বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার চর্চা হচ্ছে! ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা আছে বলেই আমরা মুক্তবাক হতে পারছি। একবার বিশ্বকাপের সময় আমি বাসে করে কক্সবাজারে যাচ্ছিলাম। সারাটা পথে মনে হলো, দুই ধারে, আর্জেন্টিনার পতাকা লম্বা করে প্যান্ডেলের মতো করে টাঙানো। প্রতিটি ভবনচূড়ায়, টিনের চালে, গাছের ডালে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকা। কেউ কেউ আবার নিজের পুরো বাড়ি হলুদ–সবুজে রঞ্জিত করে ফেলেন বিশ্বকাপের সময়।

লড়াইয়ের মঞ্চটাও দেখুন, ব্রাজিলের ফুটবলতীর্থ মারাকানা স্টেডিয়াম! তার ওপর এটি হতে যাচ্ছে মেসি কিংবা নেইমারের কোনো একজনের জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচানোর ঐতিহাসিক ম্যাচ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

ভোর হলেই লড়াই শুরু, ঘুম আসছে না সমর্থকদের

প্রকাশিত : ১০:২৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ছয়টায় ফাইনালে সেটির মঞ্চায়ন যখন হচ্ছে, এর চেয়ে বেশি আকর্ষণ জাগানিয়া কোনো বিজ্ঞাপন সম্ভবত হতে পারত না।

ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা নাম উঠলেই তো স্মৃতির হাট বসে যায়! সেই যে একেকটা সাদা-কালো টেলিভিশন! বিশ্বকাপ দেখানো শুরু করল বিটিভি। রাত জেগে জেগে একেকটা ম্যাচ দেখা।

বাংলাদেশের সমর্থকদের বেশির ভাগই মনে হয় আকাশি-সাদাদেরই সমর্থন করে। সেটা হয়ে আসছে সেই ম্যারাডোনার আমল থেকে। হবেই বা না কেন! ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনার যুদ্ধ বেধে গেছে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে। সেই উত্তেজনার মধ্যে মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে ম্যারাডোনা ছুটছেন। সব বাধা পেরিয়ে, একের পর এক খেলোয়াড় কাটিয়ে একেবারে নিশানায়। গোল। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় চিরদিনের জন্যে কিনে নিল আর্জেন্টিনা।

আর আছে ব্রাজিল। পাঠ্যপুস্তকে পেলের জীবনী পড়তে হচ্ছে—ব্রাজিলের কালো মানিক। সত্তরের আগের পেলের জাদুকরি খেলা সরাসরি কজনই বা দেখেছে বাংলাদেশের? কটা টেলিভিশনই বা ছিল দেশে! সত্তরের আগে জন্মানো মানুষই বা আছেন কজন! কিন্তু সক্রেটিসের আমলের ব্রাজিল, রোমারিওর ব্রাজিলও আমাদের স্মৃতির সলতে উসকে দেয়।

 

ফুটবল আবার বাংলাদেশের মানুষকে যুক্ত করছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি। বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার চর্চা হচ্ছে! ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা আছে বলেই আমরা মুক্তবাক হতে পারছি। একবার বিশ্বকাপের সময় আমি বাসে করে কক্সবাজারে যাচ্ছিলাম। সারাটা পথে মনে হলো, দুই ধারে, আর্জেন্টিনার পতাকা লম্বা করে প্যান্ডেলের মতো করে টাঙানো। প্রতিটি ভবনচূড়ায়, টিনের চালে, গাছের ডালে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকা। কেউ কেউ আবার নিজের পুরো বাড়ি হলুদ–সবুজে রঞ্জিত করে ফেলেন বিশ্বকাপের সময়।

লড়াইয়ের মঞ্চটাও দেখুন, ব্রাজিলের ফুটবলতীর্থ মারাকানা স্টেডিয়াম! তার ওপর এটি হতে যাচ্ছে মেসি কিংবা নেইমারের কোনো একজনের জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচানোর ঐতিহাসিক ম্যাচ।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর