ঢাকা রাত ১১:৩৩, মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্কুল ছাত্রের “ডিফেন্স করোনা” অ্যাপের উদ্ভাবন

ফ্রি মোবাইল অ্যাপ দ্বারা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলি যাচাই করে সংক্রমণরে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা ও সুস্থ ব্যক্তিদের সংক্রমণের হাত থেকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করবে “ডিফেন্স করোনা” অ্যাপ। “করোনার সাথে লড়াই, আসুন করি সবাই” প্রতিপাদ্য নিয়ে এন্ড্রোয়েট ও আই.ও.এস এ্যাপ্লিকেশন টাইপের এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

মরণঘাতী করোনা ভাইরাসরে ভয়াল থাবায় দেশ যখন স্থবির, ঠিক তখনই পটুয়াখালী সরকারী জুুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সিয়াম রহমান উদ্ভাবন করলো বিস্ময়কর “ডিফেন্স করোনা” অ্যাপটির। সিয়াম স্থাণীয় যুব সংগঠন পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের সদস্য। সংগঠনটির ব্যবস্থাপনায় ও পটুয়াখালী সরকারী জুুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহযোগীতায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ৪২ তম জাতীয় বজ্ঞিান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রোটোটাইপ প্রজক্টেটি উপস্থাপন করে পটুয়াখালী জেলা পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকারও করেছেন। পরে ততকালীন জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী সিয়ামকে অ্যাপের কার্যক্রম নিয়ে যেতে উৎসাহ দেলেও টাকার অভাবে পুণাঙ্গ অ্যাপে রুপান্তর করতে পারেনি সিয়াম। বর্তমানের অ্যাপের কয়েকটি ফিচার সক্রিয় ভাবে কাজ করছে।

অ্যাপের উদ্ভাবক সিয়াম রহমান জানায়, ডিফেন্স করোনা অ্যাপটি অফলাইনে ব্যবহারকারীর সার্বক্ষণিক হাঁচি-কাশির সংখ্যা ও মাত্রা, জনসমাগমে গমনের সংখ্যা, জনসমাগমে গমনকালে সতর্কবার্তা প্রদান ও মাস্ক পরিধান করেছিলো কিনা এবং চোখের রং নিরীক্ষা করে হিসেব করে রাখবে এবং বাসস্থানে ফেরার পর হাত ধোয়ার নির্দেশ দিবে। পরবর্তীতে এই সকল বিষয় সমূহের উপর ভিত্তি করে, অ্যাপটির ব্যবহারকারী করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে কিনা, তা প্রতি ৭ দিন পর পর একটি ফলাফল প্রদান করবে এবং সকল ফলাফল সমূহ ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে সংরক্ষিত থাকবে। ব্যবহারকারী তাঁর শারীরিক গতিবিধির তথ্য দেখতে পেয়ে নিজে সতর্ক হতে পারবে এবং অন্যকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

সিয়াম আরও বলেন, এই অ্যাপ করোনা সংক্রামিত রোগীর শারীরিক গতিবিধি সম্পর্কে জানা এবং রোগীদের মানসিকভাবে ভেঙে না পড়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য প্রদানে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তনের সাথে ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতাও পরিবর্তিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট এর জন্য কার্যকরী ভ্যাক্সিন প্রণয়ন সময়সাপেক্ষ হলেও সংক্রমণের লক্ষণ প্রায় একই থাকে বিধায় করোনার নতুন লক্ষণ ধরা পড়লে তার সেন্সিভিটি ফিচারসমূহ অ্যাপ-এ খুব দ্রুত সংযুক্ত করা যাবে; ফলে করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তন হলেও প্রভাবশালী হতে পারবেনা এবং সংক্রমণ খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সিয়াম বলেন “সমস্যা থেকে সমাধানের প্রচেষ্টা, গবেষণা ও চেষ্টার মাধ্যমে উদ্ভাবন” এই বাক্যটিকে আমি ধারণ করি এবং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দিয়ে গবেষণা ও চেষ্টার মাধ্যমে সার্বজনীন ও সাধারণ জিনিসিগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করার প্রবণতা আমার মাঝে কাজ করে। তাই আমি গত ডিসেম্বর ২০২০ এ, আমার “ডিফেন্স করোনা” প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করা শুরু করি এবং ১০ জানুয়ারি ২০২১- এ, প্রোটোটাইপ প্রজেক্টটি ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে উপস্থাপন করে,পটুয়াখালী জেলা পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকার করি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে আমি আমার প্রোজেক্ট এর ট্রায়াল ভার্সন প্রস্তুত করার জন্য আমার সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করি। যেহেতু আমার প্রোজেক্ট সময়পোযোগী ও জরুরী, তাই এর দ্রæত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন এবং ফান্ডিং প্রক্রিয়া জটিল এবং অনেক সময়ক্ষেপণ হওয়ায়, আমি আর সময়ক্ষেপণ না করে নিজের অর্থায়নে কাজ চালিয়ে যাই এবং জুন ২০২১ এ আমার প্রোজেক্ট এর ট্রায়াল ভার্সন সম্পন্ন করতে সক্ষম হই। বর্তমানে সিয়ামের আর্থিক পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর ও বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে দ্রæত অ্যাপটি চালু করলে এর সুফল পাবে লোকজন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা: জাহাংগীর আলম শিপন বলেন, পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের সদস্য ও পটুয়াখালী সরকারী জুুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সিয়াম রহমান উদ্ভাবিত “ডিফেন্স করোনা” অ্যাপটি দেখেছি। এটা অতন্ত বিজ্ঞান সম্মত, অনেক ফিচার যুক্ত এবং তথ্য বহুল স্বয়ংক্রয়িভাবে কাজ করবে। এটা যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবো।

পটুয়াখালী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইসরাত জাহান বলেন, আমি সিয়ামের উদ্ভাবন সর্ম্পকে জানি। সে পুরুস্কার পেয়েছিলো। সে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের কাছে আসলে নবাগত জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে আলাপ কওে এবং তাকে এই অ্যাপের কার্যকারিতা সর্ম্পকে জানাতে হবে। তার জেলা প্রশাসক স্যাাে মাধ্যমে ও তার নির্দেশনায় আমরা এটা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করতে পারি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ