ঢাকা রাত ৪:৫০, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মাসুদের এক বাগানে ৫৬ জাতের আম

আইন পেশা ছেড়ে ২০১৮ সালে স্বল্প পরিসরে শখের আম বাগান গড়েন মাসুদ রানা। বাগানে রোপন করেন বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন জাতের আম গাছ। উদ্দেশ্য এসবের বংশ বিস্তার এবং চারা বিক্রি। এক লাখ টাকায় শুরু করা বাগান মাত্র তিন বছরে রূপ নিয়েছে কোটি টাকায়। দশ কাঠার আয়তন এখন সাত একরে। আমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন বিদেশি ফলও। বাণিজ্যিক ভাবে বেশ সুনাম কেড়েছে মাসুদের ‘ঠাকুরগাঁও এগ্রো ট্যুরিজম এন্ড নার্সারি’। তার বাগানে বর্তমান ৫৬ জাতের আম রয়েছে। প্রায় ১৫ টি জাত রয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ উপযোগি। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সূর্যডিম, থ্রীটেস্ট, চাকাপাত, রেড আইভরি, আলফান্সো, কাটিমন, ব্যানানা, কিউজাই, হানিডিউ, পালমার, বø্যাক স্টোন ও ব্রুনাই কিং। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন জাতের ত্বীন ফল, কমলা, আঙ্গুর, লেবু ও মাল্টাসহ কয়েকজাতের আপেল গাছ।

মাসুদ রানার বাড়ি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন এবং ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীপুর ইউনিয়নের মাঝামাঝি শ্যামাগাঁও এলাকায়। তিনি সেখানকার স্কুলশিক্ষক মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ¯œাতক ও ¯œাতকত্তোর শেষ করেছেন। মাসুদ প্রথমে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে, পরে বৃহৎ আকারে বাগান এবং নার্সারি সাজান। নাম রাখেন ‘ঠাকুরগাঁও এগ্রো ট্যুরিজম এন্ড নার্সারি’।

তার এগ্রো ট্যুরিজম এন্ড নার্সারিতে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে বিশ্বখ্যাত ও সুস্বাদু লাল, বেগুনি এবং সবুজ রঙের বিভিন্ন জাতের আম। সঙ্গে রয়েছে ছোট ছোট চারা গাছও।

কথা হয় এই সফল উদ্যোক্তার সঙ্গে। মাসুদ জানান, এবছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন তিনি। আর গত দুই মাসে চারা গাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ২৫ লাখ টাকার। আরো ২০ লাখ টাকার চারার অর্ডার রয়েছে।

তিনি জানান, তার বাগানের উৎপাদিত আমের চাহিদা অনেক। বাগান থেকেই পাইকাররা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যান। এই আম গুলোর জাত সংগ্রহ করেছিলেন থাইল্যাÐ থেকে। এছাড়া তুরস্ক ও জার্মানি থেকে ত্বীন ফল, কমলা, আঙ্গুর ও মাল্টার জাত সংগ্রহ করেছেন।

মাসুদ রানা বলেন, আমার নার্সারির সব চারা গাছ উন্নত জাতের। এসব খাগড়াছড়ি ও বরিশালে ব্যাপক চাহিদা। আমি অনলাইনে চারা গাছ নিয়ে কাজ করে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভারত থেকেও অনেক অর্ডার পাই।

তিনি আরো বলেন, আমার এই এগ্রো ট্যুরিজম এন্ড নার্সারিতে প্রতিদিন ১২-১৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। এটা তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থান বলা চলে।

এদিকে, মাসুদ রানার এই সফলতায় আগ্রহি হয়ে উঠেন অনেক যুবক। প্রতিনিয়ত তার এগ্রো ট্যুরিজম এন্ড নার্সারিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন জনেরা। স্থানীয় অনেকেই তার নার্সারি থেকে চারা গাছ নিয়ে বাগান সাজিয়েছেন। অনেকেই আসছেন মাসুদের পরামর্শ নিতে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ