বার্সেলোনায় থাকা হচ্ছে না লিওনেল মেসির। ক্যাম্প ন্যুয়ের প্রিয় আঙিনায় বার্সার হয়ে খেলতে দেখা যাবে না ঘরের ছেলে বলে পরিচিত মেসিকে। তার সঙ্গে খেলা বার্সেলোনার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের সবারই মন খারাপ।
মেসির বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন জাভি, পুয়োলও। মেসির দীর্ঘ দিনের বার্সেলোনা সতীর্থদের সঙ্গে জেরার্ড পিকে আর সের্হিও বুসকেতসকে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেসির সঙ্গে নিজেদের স্মৃতির কথা লিখছেন তারা। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সুন্দর আগামীর প্রত্যাশার বার্তায় ভাসছেন মেসি।
সার্জিও বুসকেটস
বার্সেলোনার বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবার আগে মেসিকে নিয়ে পোস্ট করেছেন সার্জিও বুসকেটস। ২০০৮ সাল থেকে বার্সেলোনাতে মেসির সতীর্থ ছিলেন বুসকেটস। মেসি ও বুসকেটস একসঙ্গে মিলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। বিদায়ী বার্তায় বুসকেটস ইন্সটাগ্রামে লেখেন, ‘ক্লাবের জন্য তুমি যা করেছ এবং আমরা যারা তোমার সঙ্গে এই সময়ে খেলেছি তাদের জন্য, তুমি যা করেছ তার জন্য তোমাকে শুধু ধন্যবাদই দিতে পারি। এখানে তুমি এসেছিলে কিশোর বয়সে এবং চলে যাচ্ছ ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে। এই ক্লাবটি যেখানে পৌঁছানোর যোগ্য, তুমি সেখানে পৌঁছাতে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছ। সবসময় বলতে পারব, তোমার সঙ্গে খেলেছি এবং ভাগাভাগি করেছি অনেক মুহূর্ত। তোমাকে ভীষণ মিস করব।’

লুইস সুয়ারেজ
গত মৌসুমে চেষ্টা করেও বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে রাখতে পারেননি মেসি। ইন্সটাগ্রামে বন্ধু মেসির বার্সা থেকে বিদায়ে সুয়ারেজ লেখেন, ‘বন্ধু, বার্সেলোনায় যে গল্প তুমি লিখেছ, জানি তা বলার জন্য হাজারো শব্দ আছে। যে ক্লাবে তুমি বেড়ে উঠেছ, যে ক্লাবকে তুমি ভীষণ ভালোবেসেছ এবং ইতিহাসের সেরা হওয়ার আগ পর্যন্ত যে ক্লাবটির হয়ে তুমি জিতেছ অনেক, অনেক শিরোপা।’ মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুয়ারেজ আরও লেখেন, ‘(লিভারপুল ছেড়ে আসার সময়) তুমি যেভাবে আমাকে বরণ করে নিয়েছিলে, তার জন্য আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।
জাভি
বার্সেলোনায় জাভির সঙ্গে স্বর্ণালি সময় কাটিয়েছেন মেসি। মেসির বিদায়ে জাভি লেখেন, ‘সতীর্থ এবং বন্ধু হিসেবে, আমি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ দিতে পারি সব কিছুর জন্য যা তুমি আমাদের দিয়েছ এত বছর। তোমার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রাইল।’
জেরার্ড পিকে
মেসিকে ধরে রাখতে প্রয়োজনে দলের খেলোয়াড়রা বেতন কমাবেন, এমন কথা সবার আগে বলেছিলেন জেরার্ড পিকে। মেসির জন্য বিদায়ে আবেগময় বার্তা লিখেছেন পিকে। বলেছেন মেসির বিদায়ে ক্যাম্প ন্যু’য়ের কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকবে না। পিকে লেখেন, কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকবে না। ক্যাম্প ন্যু, বার্সেলোনা শহর এমনকি আমরাও। ২০ বছরের বেশি সময় ক্লাবে থাকার পর তুমি আর বার্সেলোনার জার্সি পরবে না। এটাই সত্য, অনেক সময় সত্যটা মেনে নেওয়া কঠিন।’ পিকে তার পোস্টে মেসির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। লেখেন, আমাদের পরিচয় হয়েছিল ২০০০ সালে, আমরা ১৩ বছর বয়সী ছিলাম। আমাদের সামনে ছিল ক্যারিয়ার, কী দারুণ ক্যারিয়ার (তোমার)। যদি আমরা ওই সময়টার ডিজাইন করে থাকি, তবে তা ওই সময়ের চেয়ে ভালো লেখা হবে না। এখন তুমি চলে যাচ্ছ কিন্তু আমি জানি একদিন তুমি ফিরে আসবে।’
জেরার্দ দেউলোফেউয়
ইন্সটাগ্রামে জেরার্দ দেউলোফেউয়ের বার্তায় ছিল মেসির জন্য প্রশংসা ও শ্রদ্ধা। বার্সেলোনার অ্যাকাডেমিতে বেড়ে ওঠা দেউলোফেউয়ে মূল দলে খেলেছেন মাত্র ১২ ম্যাচ। তবে মেসির প্রতি তার ভালোবাসার কমতি নেই। ‘কী আনন্দদায়ক ব্যাপার বিশ্বের সেরা ক্লাব বার্সেলোনায় ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় লিও মেসির সঙ্গে মুহূর্ত ভাগাভাগি করা। অনেক প্রশংসা ও শ্রদ্ধা তোমাকে। যে বিস্ময় তুমি উপহার দিয়েছ, সেজন্য আমরা তোমাকে শুধু ধন্যবাদই বলতে পারি।’
রিকি পুইগ
২০১৮ সালে বার্সেলোনার ‘বি’ দল থেকে মূল দলে পা রেখেছিলেন রিকি পুইগ। সে অর্থে মেসিকে খুব বেশি দিন ড্রেসিংরুমে পাননি। পুইগের বার্তায় মেসির সঙ্গে খেলার স্বপ্ন পূরণের তৃপ্তিই উঠে এসেছে। ‘ফুটবলপাগল যে কোনো শিশুর যেটা স্বপ্ন (তোমার সঙ্গে খেলা), সেটা পূরণ করতে পেরেছি আমি। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে পেরেছি, একই দলে খেলতে পেরেছি। তার (মেসির) সঙ্গে থাকা, তার কাছ থেকে শেখা এবং তার সঙ্গে লড়তে পারা শেষ দুই বছরে আমার সঙ্গে ঘটা সেরা ঘটনা। ধন্যবাদ লিও। তোমাকে ভীষণ মিস করব আমরা।’

























