০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

১১ আগস্ট হাইকোর্টের সব বেঞ্চ চালু হচ্ছে

চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করায় আগামী ১১ আগস্ট (বুধবার) থেকে হাইকোর্টের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলবে। রোববার (৮ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে লকডাউন শিথিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, শপিংমল ও বাজার সকাল ১০টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিধি-নিষেধের অনুবৃত্তিক্রমে কিছু শর্ত সংযুক্ত করে সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলো।

শর্তগুলো হলো-

১. সকল সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খোলা থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সড়ক, রেল ও নৌ-পথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন/যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

৪. শপিংমল/মার্কেট/দোকানপাটসমূহ সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খোলা রাখা যাবে।

৫. সকল প্রকার শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে।

৬. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ০৮.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

৭. সকল ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

৮. গণপরিবহন, বিভিন্ন দপ্তর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১২৮ জন এবং নারী ১১৩ জন। মৃতদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮৮ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৪ জন এবং বাড়িতে ৯ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ হাজার ৬৫২ জনে।

একই সময়ে ৪২ হাজার ৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ২৯৯ জনের। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৪১০টি এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৫ জনে।

রোববার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক শূন্য ৬৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬ হাজার ৬২৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১২ লাখ ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৪১ জনের মধ্যে শূন্য থেকে দশ বছরের ১ জন, দশোর্ধ্ব ১ জন, বিশোর্ধ্ব ৯ জন, ত্রিশোর্ধ্ব ১৭ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ২৮ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫৪ জন, ষাটোর্ধ্ব ৭০ জন, সত্তরোর্ধ্ব ৪৯ জন, আশি বছরের বেশি বয়সী ৯ জন এবং নব্বই বছরের বেশি বয়সী ৩ জন মারা গেছেন।

একই সময়ে করোনায় মৃত ২৪১ জনের মধ্যে বিভাগওয়ারি হিসেবে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ১০৫ জন, চট্টগ্রামে ৫৯ জন, রাজশাহীতে ১২ জন, খুলনায় ৩০ জন, বরিশালে ১২ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন, রংপুরে ১০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

১১ আগস্ট হাইকোর্টের সব বেঞ্চ চালু হচ্ছে

প্রকাশিত : ০৮:৪২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অগাস্ট ২০২১

চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করায় আগামী ১১ আগস্ট (বুধবার) থেকে হাইকোর্টের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলবে। রোববার (৮ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে লকডাউন শিথিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, শপিংমল ও বাজার সকাল ১০টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিধি-নিষেধের অনুবৃত্তিক্রমে কিছু শর্ত সংযুক্ত করে সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলো।

শর্তগুলো হলো-

১. সকল সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খোলা থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সড়ক, রেল ও নৌ-পথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন/যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

৪. শপিংমল/মার্কেট/দোকানপাটসমূহ সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খোলা রাখা যাবে।

৫. সকল প্রকার শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে।

৬. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ০৮.০০টা থেকে রাত ১০.০০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

৭. সকল ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

৮. গণপরিবহন, বিভিন্ন দপ্তর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১২৮ জন এবং নারী ১১৩ জন। মৃতদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮৮ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৪ জন এবং বাড়িতে ৯ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ হাজার ৬৫২ জনে।

একই সময়ে ৪২ হাজার ৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ২৯৯ জনের। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৪১০টি এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৫ জনে।

রোববার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক শূন্য ৬৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬ হাজার ৬২৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১২ লাখ ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৪১ জনের মধ্যে শূন্য থেকে দশ বছরের ১ জন, দশোর্ধ্ব ১ জন, বিশোর্ধ্ব ৯ জন, ত্রিশোর্ধ্ব ১৭ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ২৮ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫৪ জন, ষাটোর্ধ্ব ৭০ জন, সত্তরোর্ধ্ব ৪৯ জন, আশি বছরের বেশি বয়সী ৯ জন এবং নব্বই বছরের বেশি বয়সী ৩ জন মারা গেছেন।

একই সময়ে করোনায় মৃত ২৪১ জনের মধ্যে বিভাগওয়ারি হিসেবে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ১০৫ জন, চট্টগ্রামে ৫৯ জন, রাজশাহীতে ১২ জন, খুলনায় ৩০ জন, বরিশালে ১২ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন, রংপুরে ১০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ