ফুটবলের যাদুকর, ভিনগ্রহের মানুষ (ফুটবলার), সর্বকালের সেরা ফুটবলার ইত্যাদি হচ্ছে তার উপাধি। কিন্তু বর্তমান উপাধি হচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার, সব জায়গায় মেসির নাম উপরেই থাকবে। শুধু এই যুগের জন্য না, আজীবনের জন্য। আর মেসির অর্জনসমূহ লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা হয়ে যাবে কিন্তু তা শেষ হবে না এখন অনেকে বলবে কেন? ৩৪ বছর বয়সের ৫ ফুট ৭” এর এই ফুটবলের জাদুকর পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে ফুটবল খেলা কি রকম। ফুটবল খেলা কি রকম তা শুধু মেসির খেলা দেখলেই বুঝা যাবে।
২৪ জুন ১৯৮৭ সালে রোজারিও আর্জেন্টিনাতে মেসি জন্মগ্রহণ করেন .. তার সম্পর্কে লিখতে গেলে শেষ হবে না । কিন্তু হার মানবো না, অনেক ছোট করে কিছু তো লিখবোই,মন চাচ্ছে । কি দিয়ে শুরু করবো? মেসির অর্জন সমূহ সবারই জানা, যে বয়সে অন্যান্য ফুটবলাররা মাঠে ঠিকমতো দৌড়ানো শুরু করেছি মেসি তখন ব্যালন ডি অর জয়ী । প্রথমেই বলে দেই ৬ বার ব্যালন ডি অর জিতেছে কিং মেসি, একটানা ৪ বার ।
অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে বার্সেলোনার সাথে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। নতুন মৌসুম থেকে খেলবেন অন্য কোনো ক্লাবের হয়ে। তবে বার্সার জার্সিতে এই ফরোয়ার্ডের অর্জনগুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে চিরকাল। উৎসাহ জোগাবে নতুনদের।
২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সাতে যোগ দেন মেসি। ২০০৩ সালে এফসি পোর্তোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে মূল দলে অভিষেক হয়। এরপর থেকে গত মৌসুম পর্যন্ত ৭৭৮ ম্যাচ খেলে ৩০৫ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি করেছেন ৬৭২ গোল। বার্সার হয়ে এতো ম্যাচ এবং গোলের রেকর্ড নেই অন্য কোন ফুটবলারের। বার্সার হয়ে রেকর্ড ৩৪টি শিরোপা জিতেছেন মেসি। এর মধ্যে আছে ১০ লা লিগা, ৪ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৩টি করে সুপার কাপ ও ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ এবং ৭টি করে কোপা দেল রে ও সমান সুপার কোপার শিরোপা। ব্যক্তিগত অর্জনেও অনন্য মেসি। এখন পর্যন্ত ছয়বার করে ব্যালন ডি অর এবং ইউরোপিয়ান গোল্ডেন সু জিতেছেন। গত মৌসুমে ২৯ গোল করে টানা পাঁচবারের মতো লা লিগার সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব পিচিচি ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা খেলোয়াড়। অ্যাটলেটিক বিলবাওকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে গত মৌসুমে কোপা দেল রের শিরোপা জেতে বার্সা। সে ম্যাচে দুইবার জালের দেখা পান মেসি। যেটা বার্সাতে দশ নম্বর জার্সিধারীর শেষ স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে টিকে থাকলো।
বিশ্বসেরাদের ভাষায় মেসি:
দানি আলভেস
বার্সায় আমরা মেসিকে তখন বল পাস করি যখন আমরা মনে করি সে এটা নিয়ে কিছু করতে পারবে। আর আর্জেন্টিনায় তাকে তখন বল দেয়া হয় যখন তাদের সামনে কোনো উপায় থাকে না।”
লুকাস মউরা [পিএসজি’র ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার]
”মেসি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে মেসি যে কোনো সময় ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারে। ড্রিবলিংয়ের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে আমার অনেক মিল রয়েছে। আমি বল পায়ে দ্রুতগতির ফুটবল খেলতে পছন্দ করি, তাই এমন খেলোয়াড়দের খেলা দেখা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেসি আমার জন্য অনুপ্রেরণা”
ক্যাসিয়াস [স্পেন, মাদ্রিদ ও বর্তমান পোর্তো গোলকিপার]
মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের সম্মুখীন হওয়া যে কোন গোলরক্ষকের জন্য অস্বস্তিকর। আমার সম্মুখীন হওয়া সকল
স্ট্রাইকারের মধ্যে সেই সম্ভবত সেরা স্ট্রাইকার।
পেপ গার্দিওলা
মেসিকে আমি বিশ্বসেরা বানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে আমাকেই বিশ্বসেরা বানিয়ে দিল
জিদান
মেসি সবসময় ব্যবধান গড়ে দেয়! তার মাঝে একটা আইডিয়াই কাজ করে, গোলের দিকে দৌড়ানো! তাই একজন ফুটবলপ্রেমিক হিসেবে আপনার কাজ, শুধুই উপভোগ করা!
.
লুইস সুয়ারেজ
“মিডিয়ার কাজই হল খালি দোষারোপ করা। মেসি যত কিছুই করুক না কেন, সবসময় দোষটা ওর কাঁধেই দেয়া হয়। মেসি হল
বিশ্বসেরা। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক হিসাবে মেসির চেয়ে শিরোপা জয়ের আগ্রহ আর কারও এতো বেশী নেই। ”
নেইমার [ ব্রাজিল স্ট্রাইকার ]
“এটি খুবই সাধারন যে মেসিই বিশ্বের সেরা খেলোয়ার। রোনাল্ডোর সাথে পুরা মৌসুম খেলার থেকে মেসির সাথে ১ ম্যাচ খেলা বেশি সম্মানের”সে ছোট সুযোগ থেকেও গোল করতে পারে। আমি তার একজন ভক্ত”
থিয়েরি অরি [ বার্সেলোনা ফুটবলার ]
”যখন আমি মেসির সাথে খেলতাম, তখন আমার দৌড়াতে মন চাইত না, শুধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে তার খেলা উপভোগ করতে মন চাইত”
জর্জে সাম্পোলি [চিলি কোচ].
আমি মেসিকে প্রশ্ন করেছিলাম সে কেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের এওয়ার্ড প্রত্যাখান করেছে, মেসি আমাকে জবাব দিল ”আমি এখানে দেশের জন্য ট্রফি জিততে এসেছি, ব্যাক্তিগত ট্রফি অর্জনে আমার কোন আগ্রহ নেই।

























