নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোডের (পাউবো) গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) মো. নুরুল ইসলাম পানি কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ সকাল ছয় টায় ৫২ দশমিক ০৮, সকাল ৯টায় ৫২ দশমিক ০৫ ও দুপুর ১২ টায় বিপৎসীমার (৫২.০২ সেন্টিমিটার) ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি পরিমাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মুলত তিস্তার পানি উজানের পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বাড়া-কমা করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যারাজের উজান ও ভাটি অঞ্চলের মানুষ।
জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়িতে তিস্তার নদীর স্পার বাঁধে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে প্রায় ৭০০ পরিবার। পরিবার গুলোর ঘর বাড়ি সরে নিলেও তাদের জীবন চলছে অতি কষ্টে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাওয়ার পানি সংকট ও গোবাদী পশুর গো-খাদ্যের চরম সংকটে পড়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম (৫৬) বলেন, গতকাল বিকাল থেকে খড়া শুরু হলেও তিস্তার পানির শ্রোতে ভেন্ডাবাড়ী এলাকার নদী শাসন বাধের ডান তীরের দুই নং স্পার বাধটি নদী গর্ভে বিলিন হওয়ায় পার্শবর্তী আশ্রয়ন প্রকল্পের ৪০ টি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু এখন নদী গর্ভে।
ডান তীর বাঁধের নিয়ন্ত্রক এই স্পার বাধটি রক্ষায় গতকাল রবিবার (২৯ আগষ্ট) সকাল থেকে বালুর বস্তা ফেলেও কোন লাভ হয়নি। রাতে বাঁধটির প্রায় দুই’শ মিটার ভেঙ্গে গেলে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি এলাকার এক হাজার পরিবার হুমকীর মুখে পড়ে।
স্পার বাঁধের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৫৬) বলেন, ভাঙ্গনে জমি জমা ঘর বাড়ী সবে গেইছে নদীত। এখন হাত পা ছাড়া কিছুই নাই। বাধের ওপর কোন রকমে পলিথিন টাঙ্গি রাত কাটাইছি। এইবার সেটাও ভাসি গেইছে। এখন হামার কি হবে আল্লাহ্ জানে।
পাউবো সুত্র জানায়, স্পার বাঁধটির মাঝ খানে বালুর বস্তা ফেলে রক্ষা করা হয়। কিন্তু গতকাল বাধের শেষ অংশ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। সেখানে এক হাজার বালুর বস্তা ফেলেও মধ্যরাতে রক্ষা করা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ সংলগ্ন ৪০টি পরিবার।
উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, স্পার এলাকার এক হাজার পরিবার তিস্তার পানি কমায় বিড়ম্বনায় পড়েছে। হুমকীর মধ্যে রয়েছে ভেন্ডাবাড়ি ও ছাতুনামার চরের হাজার হাজার বানভাসি পরিবার।
তিনি বলেন, ভেন্ডাবাড়ি চরের দুই নম্বর স্পার বাধটি রক্ষায় কয়েক দিন থেকে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোড (পাউবো)। গত রবিবার (২৯ আগষ্ট) মধ্য রাতে পানির তোড়ে ভেঙ্গে গিয়ে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ পরিবারকে তিন হাজার করে টাকাসহ অন্যান্যদের জন্য তিন মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা প্রিন্স জানান, তিস্তার পানি কমলেও ভাঙ্গন কমেনি। আজ বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও তিস্তার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এতে ডান তীরের স্পার বাঁধটির দুই’শ মিটার ধ্বসে পড়েছে। হাজার হাজার বালুর বস্তা ফেলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি, ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে স্পার বাধের বসবাসকারীরা। তিনি বলেন, শুস্ক মৌসুমে ওই বাধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধান করা হবে।




















