০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দাউদকান্দি শিক্ষককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

স্কুলের বিদ্যুৎ–সংযোগ অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে ব্যবহারের দায়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এমএ জলিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান এ আদালত পরিচালনা করেন।ওই প্রধান শিক্ষকের নাম আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বিদ্যালয়সংলগ্ন চাঁদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আয়নল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একই অপরাধে বাড়ির মালিক আয়নল হককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের পাশেই আয়নল হকের বাড়িতে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া ভাড়া থাকেন। অবৈধভাবে ওই স্কুলের একটি কক্ষের ভেন্টিলেটর ভেঙে বিদ্যুৎ–সংযোগ টেনে প্রধান শিক্ষক তাঁর বাড়িতে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছিলেন। শুধু তা–ই নয়, ওই বাড়ির আরও পাঁচজন ভাড়াটিয়ার বিদ্যুৎ–সংযোগও অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের মিটারের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। অথচ মাস শেষে সব সংযোগের বিল পরিশোধ করত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৯১ টাকাসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য খরচের রসিদে স্বাক্ষর আনতে ইউএনওর কাছে যান। তবে করোনাকালীন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরও দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল ১২ হাজার টাকা দেখে ইউএনওর সন্দেহ হয়।

ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩–এর দাউদকান্দি পৌর কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোসাম্মৎ সেলিনা আক্তারকে নির্দেশ দেন। ডিজিএম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ ব্যবহারের সত্যতা পান। এরপর ইউএনও আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও বাড়ির মালিককে এক মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন।ইউএনও কামরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ–সংযোগ নিয়ে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগের কারণে আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া হয়তো বিনা ভাড়ায় ওই বাড়িতে থাকতেন অথবা অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ বাবদ প্রধান শিক্ষক হয়তো নিজেই মাস শেষে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।

 

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দাউদকান্দি শিক্ষককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

প্রকাশিত : ০৯:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

স্কুলের বিদ্যুৎ–সংযোগ অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে ব্যবহারের দায়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এমএ জলিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান এ আদালত পরিচালনা করেন।ওই প্রধান শিক্ষকের নাম আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বিদ্যালয়সংলগ্ন চাঁদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আয়নল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একই অপরাধে বাড়ির মালিক আয়নল হককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের পাশেই আয়নল হকের বাড়িতে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া ভাড়া থাকেন। অবৈধভাবে ওই স্কুলের একটি কক্ষের ভেন্টিলেটর ভেঙে বিদ্যুৎ–সংযোগ টেনে প্রধান শিক্ষক তাঁর বাড়িতে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছিলেন। শুধু তা–ই নয়, ওই বাড়ির আরও পাঁচজন ভাড়াটিয়ার বিদ্যুৎ–সংযোগও অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের মিটারের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। অথচ মাস শেষে সব সংযোগের বিল পরিশোধ করত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৯১ টাকাসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য খরচের রসিদে স্বাক্ষর আনতে ইউএনওর কাছে যান। তবে করোনাকালীন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরও দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল ১২ হাজার টাকা দেখে ইউএনওর সন্দেহ হয়।

ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩–এর দাউদকান্দি পৌর কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোসাম্মৎ সেলিনা আক্তারকে নির্দেশ দেন। ডিজিএম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ ব্যবহারের সত্যতা পান। এরপর ইউএনও আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও বাড়ির মালিককে এক মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন।ইউএনও কামরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ–সংযোগ নিয়ে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগের কারণে আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া হয়তো বিনা ভাড়ায় ওই বাড়িতে থাকতেন অথবা অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ বাবদ প্রধান শিক্ষক হয়তো নিজেই মাস শেষে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।