১১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জাতির পিতার খুনির নামে জাদুঘর থাকতে পারে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কারও দয়ার দান নয়। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঈর্ষণীয় কর্মতৎপরতা দেখে জিয়াউর রহমান কিছু কুলাঙ্গারকে সঙ্গে নিয়ে তাকে সপরিবারে হত্যা করেছে, এটাই জিয়ার অবদান। এই হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে হবে। তার স্মৃতিতে চট্টগ্রামে কিসের জাদুঘর! সার্কিট হাউসে খুনির নামে জাদুঘর কেন থাকবে? জাতির পিতার খুনির নামে রাষ্ট্রের টাকায় জাদুঘর থাকতে পারে না। 

সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে থাকা জাদুঘর সরানোর জন্য সাংবাদিকসহ চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর- এই বাংলাদেশ তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার। প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বীর চট্টলার প্রতি প্রধানমন্ত্রী সবসময় সহানুভূতিশীল। চলমান বৈশ্বিক করোনাকালে সাংবাদিকদের জন্য দশ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছেন তিনি।’

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্য মহসিন চৌধুরী।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এম এ হান্নান। সেই ঘোষণার মাইক্রোফোন জিয়ার জাদুঘরে থাকবে না। তা কালুরঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার যোগ্যতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বারো বছর ক্ষমতায়। আপনারা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সহযোগিতা করবেন। ধর্মের নামে রাজনীতি আর হতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় দেশে জিডিপি ছিলো ৯.৪। এই করোনাকালেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি পৃথিবীতে অনুকরণীয়। কাজ করলে ভুল হবে। ক্ষমার যোগ্য হলে ক্ষমা করবেন আর অযোগ্য হলে বিচার করবেন। আপনারা বীর চট্টলার সন্তান। আপনারা আমাদের চেয়ে ইতিহাস বেশি জানেন।’

ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের কল্যাণে সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও সন্তানতুল্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াও আপনার এই চট্টগ্রামের সন্তান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হয়েছে। এই অর্জনের মাধ্যমে পৃথিবীর ৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের সন্তান ড. হাসান মাহমুদ এমপিকে ও আমাকে। এ মন্ত্রণালয়ের তথা সাংবাদিকদের উন্নয়নে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনে থাকা বঙ্গবন্ধু হল এবং প্রেস ক্লাবের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পরিদর্শন করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতির পিতার খুনির নামে জাদুঘর থাকতে পারে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৭:৫২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কারও দয়ার দান নয়। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঈর্ষণীয় কর্মতৎপরতা দেখে জিয়াউর রহমান কিছু কুলাঙ্গারকে সঙ্গে নিয়ে তাকে সপরিবারে হত্যা করেছে, এটাই জিয়ার অবদান। এই হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে হবে। তার স্মৃতিতে চট্টগ্রামে কিসের জাদুঘর! সার্কিট হাউসে খুনির নামে জাদুঘর কেন থাকবে? জাতির পিতার খুনির নামে রাষ্ট্রের টাকায় জাদুঘর থাকতে পারে না। 

সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে থাকা জাদুঘর সরানোর জন্য সাংবাদিকসহ চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর- এই বাংলাদেশ তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার। প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বীর চট্টলার প্রতি প্রধানমন্ত্রী সবসময় সহানুভূতিশীল। চলমান বৈশ্বিক করোনাকালে সাংবাদিকদের জন্য দশ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছেন তিনি।’

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্য মহসিন চৌধুরী।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এম এ হান্নান। সেই ঘোষণার মাইক্রোফোন জিয়ার জাদুঘরে থাকবে না। তা কালুরঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার যোগ্যতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বারো বছর ক্ষমতায়। আপনারা বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সহযোগিতা করবেন। ধর্মের নামে রাজনীতি আর হতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় দেশে জিডিপি ছিলো ৯.৪। এই করোনাকালেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি পৃথিবীতে অনুকরণীয়। কাজ করলে ভুল হবে। ক্ষমার যোগ্য হলে ক্ষমা করবেন আর অযোগ্য হলে বিচার করবেন। আপনারা বীর চট্টলার সন্তান। আপনারা আমাদের চেয়ে ইতিহাস বেশি জানেন।’

ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের কল্যাণে সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও সন্তানতুল্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াও আপনার এই চট্টগ্রামের সন্তান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হয়েছে। এই অর্জনের মাধ্যমে পৃথিবীর ৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের সন্তান ড. হাসান মাহমুদ এমপিকে ও আমাকে। এ মন্ত্রণালয়ের তথা সাংবাদিকদের উন্নয়নে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনে থাকা বঙ্গবন্ধু হল এবং প্রেস ক্লাবের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পরিদর্শন করেন।