পণ্য পরিবহনে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে কর্মবিরতি শুরু করেছে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্যপরিবহন মালিক এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলবে আগামী ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত।
এদিকে প্রথম দিনের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে বের হয়নি কোন গাড়ি। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়েও ঢুকেনি কোন গাড়ি। প্রথম দিনের কর্মসূচিকালে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্যপরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম।
তিনি বলেন, ১৫ দফা দাবি না মানায় সারাদেশে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কর্মবিরতির কারণে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ আছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়ে কোনো ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইমমুভার প্রবেশ করছে না। একইভাবে বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে কোনো গাড়ি বেরও হচ্ছে না। আমাদের ১৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
এর আগে গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলীতে আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।
১৫ দফায় যেসব দাবি রয়েছে এদিকে ধর্মঘটের সমর্থনে চট্টগ্রামের সল্টগোলা এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। এ সময় তাঁরা সরকারকে ১৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানান। দাবিগুলো হলো- মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর বা বর্ধিত আয়কর বাতিল করা, ইতোমধ্যে আদায় করা বর্ধিত কর স্ব স্ব মালিককে ফেরত দেয়া, পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা, যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছে তাদের সহজ শর্তে এবং সরকারি ফি এর বিনিময়ে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া, সব শ্রেণির মোটরযানে নিয়োজিত সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো রেশনিং সুবিধার আওতায় আনা, চট্টগ্রামে অবস্থিত ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মনোনীত প্রতিনিধি এবং সব ড্রাইভার ও সহকারীকে চট্টগ্রাম বন্দরে হয়রানিমুক্ত প্রবেশের সুবিধার্থে বাৎসরিক নবায়নযোগ্য বায়োমেট্রিক স্মার্টকার্ড দেয়া, প্রতি ৫০ কিলোমিটার পরপর পণ্যপরিবহন শ্রমিকদের জন্য দেশের সড়ক-মহাসড়কের নিরাপদ দূরত্বে বিশ্রামাগার ও কার্ভাডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার টার্মিনাল নির্মাণ করা, সারাদেশের জন্য একই পরিমাণ ওজন নির্ধারণ করে অতিরিক্ত (ওভারলোড) পণ্যপরিবহন বন্ধে লোডিং পয়েন্ট তথা পণ্যপরিবহনের উৎসস্থলে সরকার নির্ধারিত ওজন নিশ্চিত করে পণ্যবাহী গাড়িগুলোতে মালামাল লোড করতে দেয়া, লোড করা গাড়িগুলোকে উৎসস্থলে পণ্যের ওজনস্লিপ দেয়া।
ফটো ক্যাপশন ঃ চট্টগ্রাম বন্দরে অলস পড়ে রয়েছে কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার।




















