জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিচে ঈশ্বর” এই অমর বাণী প্রতিফলিত হয়েছে কুমিল্লার কোটবাড়িস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এর অফিস সহায়ক মোঃ শাহজাহান নামের সাদা মনের একজন মানুষের মাঝে। প্রকৃতি ও পাখিকে সকলেই ভালোবাসে। কিন্তু পাখির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশের ধরণটা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। কেউ বাসার খাঁচায় পাখি পুষতে ভালোবাসেন, আবার কেউ খাঁচার পাখিকে মুক্ত করে দিয়ে আনন্দ পান। অনেকে তার ভালোবাসার মানুষটিকে আদর করে পাখি সম্বোধন করেন।
বার্ডের শাহজাহান তেমনি একজন ভিন্নধর্মী পাখি প্রেমী মানুষ। বার্ডে চাকরির পাশাপাশি পাখি ও জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করতে পারলে নিজেকে সুখি মানুষ ভাবেন তিনি। পাখিদের প্রেম ছুটির দিনেও দূরে কোথাও না গিয়ে যথাসময়ে পাখিদের খাবার বিলিয়ে দেন। পাখিরা এখন শাহজাহানের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ছুটে চলে আসে তার কাছে। মানুষের মতই পাখিদেরও প্রতিদিন ৩/৪ বেলায় গম,পাউরুটি,পরটা,খিচুরী খাবার খেতে দেন তিনি। ডাক দিলেই ছুটে আসে শত শত বিভিন্ন প্রজাতির রংবেরঙের পাখি।
খাবারের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য পাখির আনাগোনায় মুখর হয়ে থাকে তার অফিসের বারান্দা। কুমিল্লা বার্ডে পাখিদের এমন দৃশ্যে মুগ্ধ হন আশেপাশের মানুষ। খাবার খেয়ে আবার যে যার মত উড়ে চলে যায়। এমন মনোরম দৃশ্য দেখে মনে প্রশান্তি জাগে পাখি প্রেমিসহ আশপাশের লোকজনের। নিজ খরচে পশু-পাখির প্রতি ব্যতিক্রমধর্মী এমন কাজে কেন উদ্বুদ্ধ হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, সৃষ্টির সেবাই শ্রষ্টার ইবাদত।
আত্মতৃপ্তির জন্যই তিনি পাখি, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীদের ভালবাসেন। পাখি যখন আকাশে উড়ে বেড়ায় তখন তাঁর খুব ভাল লাগে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। মানুষের মত সব প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
জীববৈচিত্র রক্ষায় তাঁর পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী জানিয়ে তিনি আরো বলেন, পরিবেশ, প্রকৃতি, জলবায়ুর ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে প্রকৃতির প্রাণ জীববৈচিত্র পাখি-বন্যপ্রাণী এদেরকে টিকিয়ে রাখতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভুমিকা অনস্বীকার্য। প্রকৃতি বাঁচলে মানুষও বাঁচবে। তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কোটবাড়ি বার্ডের আইসিটি ভবন সংলগ্ন পল্লী সমাজতত্ত্ব ও জনমিতি অনুষদ ভবনের তৃতীয় তলায় চাকরির পাশাপাশি নিজ খরচে পাখিদের ৩/৪ বেলা খাবার দিয়ে আসছেন। ওখানে প্রতিদিনদোয়েল,বুলবুলি,শালিক,ঘুঘু,হলুদিয়া,জালালী কবুতর,দেশি কবুতরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এছাড়াও তিনি কুকুর ও বিড়ালকেও প্রতিদিন ৩/৪ বেলা খিচুরী-কেক খাওয়ান। কবুতরের জন্য গম এবং শালিক,ঘুঘু,দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের জন্য পাউরুটি, পরটা,পুরি ও খিচুড়ি ক্রয় করে খাওয়ান।
শাহজাহানের পাশাপাশি পাখিদের ভালোবাসায় নিয়োজিত রয়েছেন একই অফিসের ব্যক্তিগত সহকারী আসাদুজ্জামান রুবেল ও অফিস সহায়ক মোঃ মহসীন কবীর। দেশের প্রতিটি এলাকায় প্রকৃতি প্রেমি এমন শাহজাহান তৈরি হোক এমন প্রত্যাশা কুমিল্লা বাসির।




















