চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে খুন করা করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার ১৪ অক্টোবর ভোর বেলায় উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের মোস্তফা সওদাগরের বাড়ীতে এ খুনের ঘটনা ঘটে! এ ঘটনায় খুন হয়েছেন- গৃহকর্তা মোস্তাফা সওদাগর (৬০), তার স্ত্রী জোসনা আক্তার (৫০) এবং তাদের মেঝো ছেলে আহমদ হোসাইন (২৫)। এ খুনের ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৫) ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ঘরে নিহত মোস্তাফা, তার স্ত্রী, বড় ছেলে ও তার স্ত্রী এবং মেঝো ছেলে থাকতো। বৃহষ্পতিবার ভোর রাতে হঠাৎ তারা ডাকাত বলে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়রা এসে দেখেন নিহতের বড় ছেলে সাদ্দাম হোসেন ঘরের ছাদে উঠে চিৎকার করছেন এই বলে যে, তার বাব-মা ও ভাইকে ডাকাতরা খুন করেছে। তারা এসে দেখেন ওই ঘরের ৩ জন খুন হলেও অক্ষত আছে সাদ্দাম ও তার স্ত্রী-সন্তান। পরে তারা পুুলিশে খবর দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি বলেন, মোস্তফা তার সম্পদের বেশ কিছু অংশ বড় ছেলে সাদ্দামকে বঞ্চিত করে অন্য ছেলে-মেয়ে ও তার স্ত্রীকে লিখে দেন। এই নিয়ে প্রায় পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। বড় ছেলে প্রায়ই সময় সবাইকে জবাই করে খুন করবে বলে হুমকিও দিতো। এছাড়া বড় ছেলের শ্যালিকাকে ছোট ছেলে আলতাফ বিয়ে করায় সেটা নিয়েও পারিবারিক বিরোধ ছিলো। ছোট ছেলে আলতাফ তার স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতো। নিহত মেঝো ছেলে আহমদের শুক্রবার বাগদান হওয়ার দিন ধার্য ছিল। এদিকে সাদ্দাম চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকুরি করে। সে প্রতি বৃহষ্পতিবার বাড়ী আসলেও বুধবার সে বাড়ী চলে আসে।

রক্তে রঞ্জিত বিছানা ও মশারি
নিহতের ছোট ছেলে আলতাফ জানান, তার বড় ভাই সাদ্দাম তাকে ফোন করে জানায়, ঘরে ডাকাত ঢুকে বাবা-মা ও ভাইকে কুপিয়েছে। সে নিজেও আহত হয়েছে বলে জানান। যদিও তিনি বাড়ী এসে দেখেন বড় ভাই, ভাবী ও তাদের সন্তান অক্ষুন্ন অবস্থায় রয়েছে। আর ডাকাতি যদি হতো ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো থাকতো, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। ডাকাতরা কিভাবে ঘরে প্রবেশ করলো তারো কোন আলামত মেলেনি। সব মিলেয়ে তার দাবী এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। প্রকৃত খুনিদের তিনি শাস্তি দাবী করেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা এসে নিহতের বাড়ীর আঙিনায় জড়ো হয়। এসময় তারাও প্রকৃত দোষীদের ফাঁসি দাবী করেন।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নুর হোসেন মামুন জানান, “সোনাপাহাড় এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে খুন করার খবর পেয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ ঘটনাস্থলে যাই। লাশ ৩টি উদ্ধার করি। প্রাথমিক ভাবে জানতে পারি পারিবারিক কলহের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কোন প্রকার ডাকাতির ঘটনার আলামত পাইনি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বড় ছেলে ও তার স্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে খুনের কারণ ও হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা যাবে।”




















