লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। অপরদিকে প্রার্থীরাও দিনরাত ছুটে চলছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সব মিলে ভোটার ও প্রার্থীদের মনে বইছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সেই উৎসবমুখর পরিবেশ ধরে রাখার জন্য আগামী ২৮তারিখে সদর উপজেলার প্রতিটি ভোট সেন্টারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোটাররা। সাধারণ ভোটারদের দাবী প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করলে প্রতিটি ভোট সেন্টারে পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিত হবে। গত ১১তারিখের আদিতমারী উপজেলার নির্বাচনে সহিংসতা বেড়ে আহত হয়েছে ৬১ জন। তাই ধারণা করা হচ্ছে সদর উপজেলার নির্বাচনে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। জেলার আদিতমারী উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় আহতদের ভর্তি করা হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রোগীর চাপের কারণে চালু করা হয়েছে নতুন ওয়ার্ড। এতথ্য নিশ্চিত করেন আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) আদিতমারী উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটে। নির্বাচন পরবর্তী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে জয়-পরাজয় ও ভোট দেওয়া, না দেওয়া নিয়েও বেশ কিছু স্থানে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এতে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন। আহতদের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পার্শ্ববর্তী সদর হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নতুন ওয়ার্ড চালু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডেও রাখা হচ্ছে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত রোগীদের। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরাও বেশ ব্যস্ত রয়েছেন। অনেক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়ে এ হাসপাতালে ৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও ছয়জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় আহত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নতুন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ওষুধপত্রসহ চিকিৎসক রয়েছেন। এদিকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দমানোর জন্য থানা পুলিশের নিয়মিত টহলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচটি মোবাইল টিম। তবুও দমানো যাচ্ছে না নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা। হামলার শিকার লোকজন বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করছেন।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, সহিংসতা রোধে মাঠে কাজ করছে অতিরিক্ত পাঁচটি মোবাইল টিম। এছাড়াও থানা পুলিশের নিয়মিত টহলও অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সব ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















