বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন ডলার। যা গত মাসে ছিল ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত রাখতে এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে চাপে পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯ মাসে ১২৮ কোটি ডলার কমেছে।রিজার্ভ বাড়াতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। গত কয়েক বছর ধরে রেকর্ড হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। ১০০ কোটি ডলারের নিচে রিজার্ভ নেমে এলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো আমদানি বিল বকেয়া রেখেছিল বাংলাদেশ।
১৬ বছরের মাথায় সেই রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে গত বছর। কিন্তু নির্বাচনী বছরকে সামনে রেখে হঠাৎ বেড়ে গেছে আমদানির পরিমাণ। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, আমদানি বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি।
এতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসেই এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। গেল অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১২ শতাংশের কম। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, যে এলসিগুলো আসছে এগুলো ম্যাচিউর করলে পেম্যান্ট কোথা থেকে দেবো।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে আট মাসে ১৭১ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রিজার্ভ যাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে না আসে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, পতনটা কোনো মতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আমাদের মতো একটি দেশে রিজার্ভ বাড়তেই হবে।
ইমপুট যেভাবে বাড়ছে সেভাবে রিজার্ভ বাড়তে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দীন আহমেদ বলেন, এটা এখনই আমাদের সমাধান করতে হবে। আমাদের সাম্প্রতিক হিসাব ও ভারসাম্য ২টি নেতিবাচক। ২০১৭ সালের জুনের পর থেকে রিজার্ভ আর বাড়েনি- এ নিয়ে চিন্তিত বাংলাদেশ ব্যাংক।


























